
বিশ্ববিখ্যাত প্রাণিবিজ্ঞানী ও প্রাইমেট গবেষক জেন গুডল আর নেই। ৯১ বছর বয়সে তিনি মারা গেছেন বলে নিশ্চিত করেছে তাঁর প্রতিষ্ঠান ‘জেন গুডল ইনস্টিটিউট’। বন্য শিম্পাঞ্জি নিয়ে গবেষণা তাঁকে বিশ্বজোড়া খ্যাতি এনে দিয়েছিল। মানুষ ও শিম্পাঞ্জির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ব্যাখ্যা করে গুডল প্রমাণ করেছিলেন, এই প্রাণীগুলো মানুষের সঙ্গে আবেগ, আচরণ ও সামাজিকতায় বিস্ময়কর মিল রাখে।
১৯৩৪ সালের ৩ এপ্রিল যুক্তরাজ্যের লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেছিলেন গুডল। কলেজে যাওয়ার সামর্থ্য না থাকায় তিনি সেক্রেটারিয়াল স্কুলে পড়াশোনা করেন। ১৯৫৬ সালে আফ্রিকায় পাড়ি জমান এবং দ্রুতই পরিচিত হন বিখ্যাত জীবাশ্মবিদ লুই লিকির সঙ্গে। লিকিই তাঁকে শিম্পাঞ্জি নিয়ে গবেষণার সুযোগ করে দেন। তখন তাঁর কোনো ডিগ্রি ছিল না, বয়স মাত্র ২৬ বছর এবং একজন নারী গবেষকের জন্য সুযোগ পাওয়া ছিল বিরল।
১৯৬০ সালে তিনি তাঞ্জানিয়ার গোম্বে ন্যাশনাল পার্কে শিম্পাঞ্জি গবেষণা শুরু করেন। প্রথমে শিম্পাঞ্জিরা তাঁকে এড়িয়ে চললেও ধৈর্য, নীরবতা ও কলার টোপ দিয়ে ধীরে ধীরে তাঁদের আস্থা অর্জন করেন। কয়েক মাসের মধ্যেই তিনি আবিষ্কার করেন, শিম্পাঞ্জিরাও মানুষের মতো সরঞ্জাম তৈরি ও ব্যবহার করতে পারে। তাঁর প্রিয় শিম্পাঞ্জি ডেভিড গ্রেবিয়ার্ড উইপোকার ঢিবি থেকে খাবার বের করতে একটি ডাল ভেঙে ব্যবহার করেছিল। এই আবিষ্কার প্রচলিত ধারণাকে বদলে দেয়—মানুষই যন্ত্র তৈরি করতে পারে এমন একমাত্র প্রাণী নয়।
গুডলের গবেষণা শুধু বিজ্ঞানের ধারা পাল্টায়নি, প্রাণীদের আবেগ ও সামাজিক বন্ধন সম্পর্কেও নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এনেছিল। তিনি দেখেছিলেন, শিম্পাঞ্জিরা পরস্পরকে আলিঙ্গন করে, হাত ধরে হাঁটে, ভালোবাসা প্রকাশ করে, আবার সহিংসতাও চালায়।
১৯৭৭ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন জেন গুডল ইনস্টিটিউট। ১৯৮৬ সালের এক সম্মেলনে বন্যপ্রাণীর সংকট ও পাচারের ভয়াবহতা তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। এরপর থেকে তিনি শুধু গবেষক নন, পরিবেশ ও প্রাণী সুরক্ষার বিশ্বদূত হয়ে ওঠেন। বিশ্বজুড়ে ভ্রমণ করে বক্তৃতা দিয়েছেন, মানুষকে সচেতন করেছেন।
জেন গুডল শুধু একজন বিজ্ঞানী নন, তিনি হয়ে উঠেছিলেন প্রকৃতি ও প্রাণীর সঙ্গে মানবজাতির সম্পর্কের প্রতীক। তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রম, সততা ও সহানুভূতি বিজ্ঞানের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত শনিবার ইরানে বিনা উসকানিতে হামলা চালায়। জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায়। এমনকি ইরান যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের দিকেও অ্যান্টিশিপ ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়েছিল।
২ মিনিট আগে
যুক্তরাষ্ট্রে আক্রমণের কোনো পরিকল্পনাই ছিল না ইরানের। তেহরান আগে যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণের পরিকল্পনা করেছিল—গোয়েন্দা তথ্যে এমন কোনো লক্ষণই ছিল না। মার্কিন কংগ্রেসকে এমনটিই জানিয়েছে পেন্টাগন।
১০ মিনিট আগে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার মাত্রা ও সময় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সৌদি আরবের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। তারা উপসাগরীয় মিত্রদের সতর্ক করেছেন, এমন কোনো পদক্ষেপ না নিতে যা তেহরান বা তাদের মিত্র গোষ্ঠীর পাল্টা প্রতিক্রিয়া উসকে দিতে পারে এবং অঞ্চলকে আরও বড় সংঘাতে ঠেলে দিতে পারে।
৩১ মিনিট আগে
যুদ্ধকে ইরানিরা খুব একটা ভয় পায় না, যতটা পায় আত্মসমর্পণকে। এই ধারণার প্রমাণ মেলে ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে। ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে গঠিত সরকার কখনোই হুমকির কাছে মাথা নত করেনি। এমনকি সর্বশেষ যুদ্ধের আগেও ইরানিরা তাদের ন্যায্য অবস্থান থেকে সরে এসে যুদ্ধ ঠেকানোর চেষ্টা করেনি।
৩৪ মিনিট আগে