সৃজনশীলতা কি শুধু শিল্পীর তুলিতে বা লেখকের কলমেই আটকে থাকে? মোটেও না। আমাদের বেঁচে থাকার প্রতিটি বাঁকেই লুকিয়ে থাকে সৃজনশীলতার জাদু। তবে এই জাদুকে জাগিয়ে তুলতে প্রায়শই বাধা হয়ে দাঁড়ায় আমাদের ভেতরের ভয়, নিখুঁত হওয়ার মোহ আর ব্যর্থতার গ্লানি। আমেরিকান লেখক এলিজাবেথ গিলবার্টের বিখ্যাত বই ‘বিগ ম্যাজিক’-এর পাতায় উঠে আসা কিছু অমর দর্শন আমাদের শেখায়, কীভাবে এই ভয়কে জয় করে এক স্বাধীন ও আনন্দময় সৃজনশীল জীবন যাপন করা যায়। বইটির মূল নির্যাস থেকে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ কিছু ভাবনা নিয়েই আজকের আলোচনা।
ভয়ের সঙ্গে সন্ধি
সৃজনশীলতার পথে পা বাড়ালে সবার আগে যে অনুভূতির মুখোমুখি হতে হয়, তা হলো ভয়। কিন্তু এই ভয়কে দূরে ঠেলে দেওয়ার কিছু নেই। সৃজনশীল যাত্রায় ভয় সব সময় থাকবে, তাই তাকে পাশে বসতে দিন। শুধু খেয়াল রাখবেন, জীবনের গাড়ির স্টিয়ারিং বা নিয়ন্ত্রণ যেন কখনোই তার হাতে না যায়। মনে রাখবেন, সৃজনশীল হওয়ার জন্য আপনার কারও অনুমতির প্রয়োজন নেই; আপনার অস্তিত্বই আপনার সৃজনশীল হওয়ার সবচেয়ে বড় অধিকার। দিন শেষে, একটি স্বাধীন সৃজনশীল জীবনযাপনের জন্য যা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তা হলো নিজের ভেতরের সাহসটুকু বাঁচিয়ে রাখা।
কাজের প্রতি অঙ্গীকার
নতুন ধারণা যেন এক জাদুকরি জীবন্ত সত্তা। তারা মহাবিশ্বে ঘুরে বেড়ায় আর এমন কাউকে খোঁজে যে তাদের বাস্তবে রূপ দেবে। আপনি যদি কাজ শুরু না করেন, তাহলে সেই ধারণা নিঃশব্দে অন্য কারও কাছে চলে যাবে। তাই অনুপ্রেরণা বা ‘মিউজ’ আসার জন্য বসে থেকে সময় নষ্ট করবেন না। কাজ শুরু করে দিন, কাজ করতে করতেই অনুপ্রেরণা আপনার কাছে ধরা দেবে। সৃজনশীলতা মূলত একটি অঙ্গীকার। অনুপ্রেরণা থাকুক বা না থাকুক, প্রতিদিন নিজের কাজের জায়গায় ফিরে আসাটাই হলো এর আসল প্রতিশ্রুতি।
নিখুঁত হওয়ার মোহ ত্যাগ করুন
অনেক সময় ‘পারফেক্ট’ কিছু করতে গিয়ে কাজটাই শেষ করতে পারি না। এই পারফেকশনিজম বা খুঁতখুঁতে স্বভাব আসলে ভয়েরই আরেক রূপ। পরিপূর্ণতার চেয়ে কাজ শুরু করা এবং শেষ করাই বড় সাফল্য। একটি কাজ সফল হবে কি না, তা আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই; কিন্তু কাজ করার আনন্দ পুরোপুরি আমাদের নিজের। তাই ফলের চেয়ে প্রক্রিয়াকে ভালোবাসতে শিখতে হবে। প্রথমে নিজের আনন্দের জন্য সৃষ্টি করুন—অন্যদের গ্রহণযোগ্যতা পরে আসতে পারে। সবাই আপনার কাজ পছন্দ করবে না, এটাই স্বাভাবিক।
জীবিকা, কৌতূহল ও শেখার পথ
সৃজনশীলতাকে যখন একমাত্র আয়ের উৎস বানানো হয়, তখন আর্থিক চাপ অনেক সময় এর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য পেশার পাশাপাশি সৃজনশীলতা বাঁচিয়ে রাখুন। সব সময় প্রবল ‘প্যাশন’ খুঁজে পাওয়া না-ও যেতে পারে, কিন্তু ছোট ছোট কৌতূহল অনুসরণ করতে থাকলে তা-ই একসময় বড় পথে নিয়ে যায়। সৃজনশীল হওয়ার জন্য বড় কোনো ডিগ্রি বাধ্যতামূলক নয়; জীবনের অভিজ্ঞতাই হতে পারে আপনার সবচেয়ে বড় শিক্ষক।
বিনয়, নমনীয়তা ও মানসিক মুক্তি
সৃজনশীল জীবনে অহংকার যেমন ক্ষতিকর, তেমনি হীনম্মন্যতাও। আপনি যা সৃষ্টি করছেন, তা যেমন পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নয়, আবার একদম তুচ্ছও নয়—এই ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। ভালো কিছু তৈরি হলে সেটিকে নিজের কৃতিত্বের পাশাপাশি একধরনের প্রাপ্তি হিসেবে ভাবতে শিখুন। এতে যেমন ব্যর্থতায় ভেঙে পড়বেন না, তেমনি সাফল্যেও অন্ধ হবেন না।
নিজের ধারণার প্রতি অতিরিক্ত একগুঁয়েমি না দেখিয়ে তাকে বিকশিত হওয়ার সুযোগ দিন। সৃজনশীলতার জন্য কষ্টভোগ অপরিহার্য—এই ধারণা থেকেও বেরিয়ে আসা দরকার। বরং আনন্দ নিয়ে, কৌশলে কাজ করতে শিখুন। অন্যের সঙ্গে নিজের তুলনা না করে নিজের গতিতেই এগিয়ে চলুন। মনে রাখতে হবে, ব্যর্থতা কোনো সমাপ্তি নয়; বরং এটি সৃজনশীল যাত্রার স্বাভাবিক এবং প্রয়োজনীয় অংশ।

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় দেশের সব শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আজ বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
৭ ঘণ্টা আগে
চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতি সাত দিনের ভিডিও ফুটেজ পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড।
৮ ঘণ্টা আগে
২০২৭ সাল অর্থাৎ আগামী বছর থেকে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় বিষয় সংখ্যা কমানোর চিন্তাভাবনা করছে সরকার। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
৯ ঘণ্টা আগে
আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৭ সাল থেকে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় বিষয় সংখ্যা কমানোর বিষয়ে ভাবছে সরকার। আজ বুধবার শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ নিয়ে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন...
১০ ঘণ্টা আগে