Ajker Patrika

তেলের বাজার সামলাতে ইরানের দ্বারস্থ ট্রাম্প, স্থগিত হচ্ছে নিষেধাজ্ঞা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২১ মার্চ ২০২৬, ১৩: ৩০
তেলের বাজার সামলাতে ইরানের দ্বারস্থ ট্রাম্প, স্থগিত হচ্ছে নিষেধাজ্ঞা
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের তৃতীয় সপ্তাহে বিশ্ব অর্থনীতি এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়েছে। একদিকে রণক্ষেত্রে চলছে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’, অন্যদিকে বিশ্বজুড়ে হু হু করে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম। পরিস্থিতি এতটা বেগতিক যে খোদ ট্রাম্প প্রশাসন এখন তাদের ঘোর শত্রু ইরানের ওপর থেকেই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার মতো ‘অপ্রত্যাশিত’ পথে হাঁটছে।

শুক্রবার (২০ মার্চ) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১২ ডলারে ঠেকেছে। যুদ্ধের প্রভাবে গত তিন সপ্তাহে তেলের দাম বেড়েছে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের গড় দাম এখন প্রতি গ্যালন ৪ ডলারের কাছাকাছি, যা সাধারণ মার্কিনদের পকেটে টান দিচ্ছে। যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ায় তেলের এই সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় উঠে এসেছে এক বিস্ময়কর তথ্য। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উপদেষ্টারা গোপনে প্রস্তাব দিয়েছেন যে সমুদ্রে ভাসমান প্রায় ১৪০ মিলিয়ন ব্যারেল ইরানি তেল মিত্রদেশগুলোর কাছে বিক্রির অনুমতি দেওয়া হোক। মজার বিষয় হলো, এই তেল একসময় চীন কিনতে চেয়েছিল মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই। এখন ওয়াশিংটন নিজেই সেই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করছে, যাতে ভারত, জাপান বা ভিয়েতনামের মতো মিত্ররা এই তেল কিনতে পারে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, এটি ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে বেশ বিব্রতকর। কারণ, সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা যখন ইরানকে পরমাণু চুক্তির আওতায় অর্থ দিয়েছিলেন, তখন ট্রাম্প তাঁর তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। আর এখন তিনি নিজেই ইরানকে তেল বিক্রির সুযোগ করে দিচ্ছেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক জ্বালানি কর্মকর্তা নীলেশ নেরুরকার বলেন, ‘এটি তেল বাজারের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিপর্যয়। বর্তমানে যে পরিমাণ তেলের ঘাটতি দেখা দিয়েছে, তা মোকাবিলা করার মতো পর্যাপ্ত মজুত বা বিকল্প পথ আমাদের হাতে নেই।’

ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট অবশ্য দাবি করেছেন, ইরান এই তেলের অর্থ সরাসরি ব্যবহার করতে পারবে না এবং তাদের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ অব্যাহত থাকবে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ১৪০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বিশ্ববাজারের মাত্র দেড় দিনের চাহিদার সমান। ফলে এই পদক্ষেপ তেলের দাম কমাতে কতটা স্থায়ী ভূমিকা রাখবে, তা নিয়ে বড় ধরনের সংশয় রয়েছে।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধ শেষ হতে পারে, কিন্তু জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন অন্য কথা। তাঁদের মতে, যত দিন হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা চলবে, তত দিন জ্বালানি সংকট কাটবে না। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেলর রজার্স আশ্বস্ত করার চেষ্টা করে বলেছেন, ‘সামরিক লক্ষ্য পূরণ হলে তেলের দাম আগের চেয়েও কমে যাবে।’ তবে সেই ‘লক্ষ্য’ কবে পূরণ হবে, তার কোনো স্পষ্ট উত্তর এখনো মেলেনি।

সব মিলিয়ে রণক্ষেত্রের কামানের গর্জনের চেয়েও এখন তেলের বাজারের অস্থিরতা হোয়াইট হাউসের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তথ্যসূত্র: সিএনএন

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

নিজস্ব প্রযুক্তি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেলথ মিথ ভেঙে দিল ইরান, যা বলছেন চীনা সমরবিদ

ইরান যুদ্ধ গুটিয়ে আনার সময়সীমা বললেন ট্রাম্প

তেলের যুদ্ধে জিতে যাচ্ছে ইরান: জাপানের সঙ্গে আলোচনায় তেহরান, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল

ইউক্রেনকে গোয়েন্দা তথ্য দেওয়া বন্ধ করলে আমরাও ইরানকে দেব না—যুক্তরাষ্ট্রকে রাশিয়া

বাংলাদেশ সিরিজ কেন বাতিল করল আয়ারল্যান্ড

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত