
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে বলে সংসদে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের বাজেট বাস্তবায়ন অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করতে গিয়ে তিনি এক কোটি কর্মসংস্থান এবং মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার কথাও তুলে ধরেন।
আজ সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের বাজেট বাস্তবায়ন অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এসব কথা বলেন।
প্রতিবেদন উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিরাপত্তাসহ অত্যাবশ্যকীয় পণ্য সরবরাহ চেইনে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা এই প্রবৃদ্ধি অর্জনের পূর্বাভাসকে চ্যালেঞ্জিং করে তুলতে পারে। জ্বালানির বৈদেশিক উৎস, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সরবরাহের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য একটি বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত ১৮ বছরের আর্থিক খাতের সীমাহীন লুটপাট ও দুঃশাসন আমাদের জন্য যে কঠিন অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ রেখে গেছে, তা মোকাবিলা করে দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধিই এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’ একই সঙ্গে সাম্প্রতিক ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধসহ বৈশ্বিক অস্থিরতা সামনের দিনগুলোকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে বলেও সতর্ক করেন অর্থমন্ত্রী।
আইএমএফের পূর্বাভাস উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, উন্নত অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ২০২৫ সালে ১ দশমিক ৭ শতাংশে স্থিতিশীল থাকতে পারে। উদীয়মান ও উন্নয়নশীল এশিয়ার দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের কাছাকাছি হতে পারে। প্রতিবেদনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মোট বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৮ লাখ ৩৬ হাজার ৫৪৪ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ৫ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা। প্রথম প্রান্তিকে আহরিত রাজস্বের পরিমাণ ১ লাখ ১৭ হাজার ৬২২ কোটি টাকা, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার ২০ দশমিক ৯ শতাংশ। বিগত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাজস্ব আহরণ দাঁড়িয়েছিল ৪ লাখ ৩৬ হাজার ৫৪ কোটি টাকা, যা সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার ৮৪ দশমিক ১৮ শতাংশ।
মূল্যস্ফীতি নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, গত বছরের সেপ্টেম্বর শেষে সাধারণ মূল্যস্ফীতি বারো মাসের গড় ভিত্তিতে ৯ দশমিক ৪৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৫৮ শতাংশ ও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি, কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাতিল ও সহায়ক রাজস্বনীতির ফলে চলমান অর্থবছরের শেষ নাগাদ মূল্যস্ফীতি ‘উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমে আসবে’ বলে সরকার আশা করছে। চলতি অর্থবছরে (২০২৫-২৬) গড় মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রার কথাও তিনি জানান।
সুদের হার ও মুদ্রা পরিস্থিতি অংশে বলা হয়েছে, গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে ব্যাপক মুদ্রা বা এমটু প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ৮ শতাংশ ধরা হলেও সেপ্টেম্বর নাগাদ প্রকৃত প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ১৪ শতাংশ। গত সেপ্টেম্বরে ব্যাংক খাতে ঋণের গড় সুদহার দাঁড়ায় ১২ দশমিক ১৬ শতাংশে, যা এক বছর আগে ছিল ১১ দশমিক ৭০ শতাংশ।
ব্যয়ের চিত্রে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। প্রথম প্রান্তিক শেষে মোট ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার ৭৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে পরিচালনসহ অন্যান্য খাতে ব্যয় ৯৪ হাজার ৫৪৬ কোটি টাকা এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি, এডিপি বাবদ ব্যয় ১০ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় মোট ব্যয় ১০ শতাংশ বেড়েছে। তবে এডিপি ব্যয় কমেছে ২ দশমিক ২৯ শতাংশ।
বাজেট ঘাটতি অংশে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে অনুদান ছাড়া ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা, যা অনুমিত জিডিপির ৩ দশমিক ৬২ শতাংশ। প্রথম প্রান্তিকে এই ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৯৩৭ কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ছিল ৭ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা। বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ পরিশোধের নিট পরিমাণ অনুদানসহ ৫ হাজার ৫১৯ কোটি টাকা।
বৈদেশিক খাত পরিস্থিতি অংশে বলা হয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরে ২৪ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বেড়ে ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরে ৩১ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে রপ্তানি আয় হয়েছে ৪৩ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আর আমদানি ব্যয় ৬৪ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি আয় যথাক্রমে ১৫ দশমিক ৯৪ ও ৫ দশমিক ২৬ শতাংশ বেড়েছে বলেও অর্থমন্ত্রী জানান।
কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে ‘করব কাজ, গড়ব দেশ’ নীতির কথা তুলে ধরে দেশব্যাপী এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য উল্লেখ করা হয়েছে। যুব উদ্যোক্তাদের ঋণের সীমা ৫ লাখ টাকায় উন্নীত করা, ১০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন এবং নতুন কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপনের কথাও প্রতিবেদনে আছে। কৃষি, মৎস্য ও খাদ্যনিরাপত্তা অংশে ‘কৃষক কার্ড’ চালুর প্রক্রিয়া শুরুর কথা বলা হয়েছে।
সামাজিক সুরক্ষা অংশে দুস্থ, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা নারী ও অসহায় বয়স্কদের ভাতার হার বাড়িয়ে ৬৫০ টাকা করার কথা বলা হয়েছে। নারী উন্নয়ন অংশে নারী প্রধান, অর্থাৎ মা অথবা বোনের হাতে ভাতার অর্থ ‘জিটুপি’ পদ্ধতিতে পৌঁছে দেওয়ার কথাও প্রতিবেদনে রয়েছে।
স্থানীয় সরকার অংশে নিরাপদ পানি, পয়োনিষ্কাশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নানা প্রকল্পের পাশাপাশি ঢাকার নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ৩৫৪টি পয়েন্টে ‘অটোমেটেড ট্রেলার মেশিন’ বা এটিএম বুথ স্থাপনের তথ্যও দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনের শেষ অংশে সরকার বলেছে, রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনা, প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন বাড়ানো এবং নতুন বিনিয়োগ টানার মাধ্যমে অর্থনীতিকে আরও শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করানো সম্ভব।
সেখানে বলা হয়েছে, ‘এই চেতনা ও ঐতিহাসিক সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় একটি টেকসই, সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর করা সম্ভব হবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’

করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সংগঠন ফরেইন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ফিকি)। পাশাপাশি সংগঠনটি নিম্ন আয়ের স্তরের কর কাঠামো পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাবও দিয়েছে।
২ ঘণ্টা আগে
দেশের কৃষি খাতের টেকসই ও সুষম উন্নয়নে আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এর মধ্যে চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরেই ৫ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) প্রধান কার্যালয় কৃষি ভবনে আয়োজিত এক...
৩ ঘণ্টা আগে
দেশের শেয়ারবাজার উন্নয়নে সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকার শেয়ারবাজার বা পুঁজিবাজারকে ‘প্রাণবন্ত’ ও গতিশীল করতে এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের উৎস হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে।
৩ ঘণ্টা আগে
মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে হ্যাকার ও প্রতারক চক্রের কারসাজি রোধে সরকার সাতটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
৪ ঘণ্টা আগে