Ajker Patrika

পাইলট উদ্ধারের আড়ালে ইউরেনিয়াম চুরি করতে চেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র—দাবি ইরানের

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৮: ৫২
পাইলট উদ্ধারের আড়ালে ইউরেনিয়াম চুরি করতে চেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র—দাবি ইরানের
ছবি: এএফপি

বিধ্বস্ত যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধারের নামে মার্কিন বাহিনী মূলত ইরানের ‘সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম’ চুরির চেষ্টা চালিয়েছিল বলে দাবি করেছে তেহরান। সোমবার (৬ এপ্রিল) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের এই কথিত ‘সাহসী’ উদ্ধার অভিযান ছিল মূলত একটি প্রতারণা বা ‘কভার অপারেশন’।

যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই-এর বরাত দিয়ে বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পুরো অভিযান নিয়ে ‘অনেক প্রশ্ন ও অনিশ্চয়তা’ রয়েছে। পাইলটের অবস্থান এবং মার্কিন বাহিনীর অবতরণস্থলের মধ্যকার বিশাল দূরত্বের বিষয়টি সামনে আনেন, তাহলেই বুঝতে পারবেন।

বাঘেই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ছিল, তাদের নিখোঁজ ক্রু কোহগিলুয়েহ ও বয়র-আহমদ এবং খুজেস্তান প্রদেশের আশপাশে থাকতে পারে। কিন্তু ওই এলাকাটি মধ্য-ইরানের সেই এলাকা থেকে অনেক দূরে, যেখানে মার্কিন বাহিনী তাদের সৈন্য নামানোর চেষ্টা করেছিল। পাইলট উদ্ধারের নাম করে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম চুরির উদ্দেশ্যে এই ‘প্রতারণামূলক অভিযান’ চালানোর সম্ভাবনা কোনোভাবেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

তাহলে কি যুক্তরাষ্ট্র পরাজয় ঢাকতে এই ‘নাটক’ করেছে? ইরানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এই অভিযানকে একটি ‘ব্যর্থ প্রতারণা ও পালানোর মিশন’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। তাদের দাবি, মার্কিন বাহিনী এই অভিযানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে এবং তাদের বেশ কিছু বিমান ও হেলিকপ্টার ধ্বংস হয়েছে। মুখপাত্র বাঘেই এই অভিযানকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি ‘বিপর্যয়’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

এর আগে গতকাল রোববার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, গত শুক্রবার বিধ্বস্ত হওয়া এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানের দ্বিতীয় ক্রু সদস্যকে এক ‘দুঃসাহসিক’ অভিযানের মাধ্যমে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি জানান, ওই পাইলট বর্তমানে নিরাপদ আছেন।

তিনি আরও জানান, নিখোঁজ ওই ক্রু সদস্য (একজন কর্নেল) ইরানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় শত্রুপক্ষের নজর এড়িয়ে অবস্থান করছিলেন। তিনি বলেন, ওই কর্মকর্তা ‘শত্রুপক্ষের পেছনে, ইরানের বিপজ্জনক পাহাড়ে লুকিয়ে ছিলেন এবং শত্রুরা প্রায় তাঁর কাছাকাছি চলে আসছিল।’

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, তিনি ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় একা পাহাড়ে লুকিয়ে ছিলেন। তাঁর কাছে একটি হ্যান্ডগান ছিল। তিনি পাহাড়ের একটি ফাঁকে আশ্রয় নেন এবং প্রায় ৭ হাজার ফুট (২ হাজার মিটার) উচ্চতার একটি রিজ লাইনে (শৈলরেখা) ওঠেন।

তাঁর অবস্থান ২৪ ঘণ্টা নজরদারিতে রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। উদ্ধার শেষে তাঁকে চিকিৎসার জন্য কুয়েতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন গণমাধ্যম।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই উদ্ধার অভিযানে সিআইএ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তারা পাহাড়ে লুকিয়ে থাকা ক্রু সদস্যের অবস্থান শনাক্ত করে সে তথ্য পেন্টাগনের কাছে সরবরাহ করে।

একই সঙ্গে ইরানের ভেতরে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়ানোর একটি কৌশলও গ্রহণ করা হয়। উদ্ধার অভিযান চলাকালে প্রচার করা হয় যে, ওই ক্রু সদস্যকে ইতিমধ্যে খুঁজে পাওয়া গেছে এবং তাঁকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

ট্রাম্প দাবি করেন, এই অভিযানে কয়েক ডজন বিমান ব্যবহার করা হলেও কোনো মার্কিন সদস্য নিহত বা আহত হননি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত