Ajker Patrika

যুদ্ধ শেষের আভাস ট্রাম্পের, বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১০ মার্চ ২০২৬, ১০: ৫১
যুদ্ধ শেষের আভাস ট্রাম্পের, বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন
ছবি: এএফপি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ দ্রুত শেষ হতে পারে—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন আশাবাদী মন্তব্যের পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। গতকাল সোমবার তেলের দাম গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছালেও আজ মঙ্গলবার লেনদেনের শুরুতেই তা ৪ শতাংশের বেশি কমে গেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এবং এর ফলে বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হবে—এমন আশঙ্কায় সোমবার ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল, যা ছিল ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ের পর সর্বোচ্চ। কিন্তু ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্যে বাজারের সেই উদ্বেগ অনেকটা প্রশমিত হয়েছে।

মঙ্গলবার গ্রিনিচ মান সময় ৩টা ৪৫ মিনিটে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মানদণ্ড (বেঞ্চমার্ক) হিসেবে পরিচিত ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪.১৭ ডলার বা ৪.২ শতাংশ কমে ৯৪.৭৯ ডলারে নেমেছে। অন্যদিকে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩.৮১ ডলার বা ৪ শতাংশ কমে ৯০.৯৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। লেনদেনের এক পর্যায়ে এই দরপতন ১১ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছিল।

সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এখন ‘প্রায় শেষের পথে’। তিনি দাবি করেন, ওয়াশিংটন তার নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে আছে।

এর আগে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন এবং ইরান যুদ্ধ দ্রুত নিরসনে বেশ কিছু প্রস্তাব দিয়েছেন। রাশিয়ার এই মধ্যস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তেলের বাজারে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার ভয় কমতে শুরু করে।

ডিবিএস ব্যাংকের জ্বালানি খাতের প্রধান সুভ্রো সরকার বলেন, ‘যুদ্ধের স্থায়িত্ব নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য বাজারকে শান্ত করেছে। গতকাল দাম অস্বাভাবিক বাড়লেও আজ হয়তো কিছুটা অতিরিক্ত পতন দেখা যাচ্ছে।’

এদিকে ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, যুদ্ধের সমাপ্তি কখন হবে তা তাঁরাই নির্ধারণ করবেন।

আইআরজিসির মুখপাত্র তেহরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকে; তবে এই অঞ্চল থেকে এক লিটার তেলও রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না।

তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ট্রাম্প আরও কিছু বিকল্প ব্যবস্থা বিবেচনা করছেন বলে জানা গেছে। এর মধ্যে রয়েছে রাশিয়ার ওপর থেকে তেলের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং জরুরি ব্যবহারের জন্য রাখা কৌশলগত তেলের মজুত বাজারজাত করা। জি-৭ভুক্ত দেশগুলোও তাদের মজুত থেকে তেল ছাড়ার বিষয়ে আলোচনা করছে।

বাজার বিশ্লেষক প্রিয়াঙ্কা সাচদেব বলেন, ‘রাশিয়ার তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং কৌশলগত মজুত ব্যবহারের সম্ভাবনা বিনিয়োগকারীদের এই বার্তা দিচ্ছে, বাজারে তেলের সরবরাহ অব্যাহত থাকবে। ফলে গতকালের সেই ’আতঙ্ক’ আজ কাটতে শুরু করেছে।’

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এখনো পুরোপুরি প্রশমিত না হলেও কূটনৈতিক তৎপরতা ও মার্কিন প্রেসিডেন্টের অনড় অবস্থানে বিশ্ব অর্থনীতি আপাতত বড় ধরনের জ্বালানি সংকট থেকে স্বস্তি পেতে শুরু করেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

নেতানিয়াহু নিহত বা গুরুতর আহত হওয়ার দাবি ইরানি গণমাধ্যমের, ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দিচ্ছে ইসরায়েল

জামায়াতের মঞ্চে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি

ইরান যুদ্ধ থেকে ‘প্রস্থানের পথ’ খুঁজছে ইসরায়েল

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে মানুষের ৪৭টি মাথার খুলি, বিপুল পরিমাণ হাড়সহ গ্রেপ্তার ৪

লেবানন সীমান্তে হামলায় কলিজা ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে ইসরায়েলি মন্ত্রীর ছেলের

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত