Ajker Patrika

রাজশাহীতে সাংবাদিককে মারধর করলেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
রাজশাহীতে সাংবাদিককে মারধর করলেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা
আহত সুজন। ছবি: আজকের পত্রিকা

মাটি লুটের সংবাদ প্রকাশের জেরে রাজশাহীর চারঘাটে সাংবাদিকের হাত কেটে নেওয়ার হুমকির পর তাঁকে পিটিয়ে আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। এই ঘটনায় চারজনকে অভিযুক্ত করে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী।

গতকাল বুধবার রাতে উপজেলা সদরের শহীদ মিনার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

আহত ব্যক্তির নাম শাহিনুর রহমান সুজন, তিনি দৈনিক দিনকালের চারঘাট এলাকার প্রতিনিধি।

অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন চারঘাট পৌর বিএনপির ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি আলমগীর হোসেন (৪৮), সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মনি (৪০), হৃদয় ইসলাম (২৬), আশিক ইসলাম (২৫) এবং মো. রকি (৩৪)।

তাঁদের মধ্যে হৃদয় উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকিরুল ইসলাম বিকুলের সহকারী এবং আশিক তাঁর গাড়ির চালক। আর রকির বাবা কামরুল ইসলাম পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

জানা যায়, এক সপ্তাহ ধরে আলমগীর ও মনির নেতৃত্বে উপজেলার ভায়ালক্ষ্মীপুর সরকারি মাদ্রাসায় অবৈধভাবে রাতে পুকুর খনন শুরু হয়। পুকুরের মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছিল। মাটি বহনে ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে এলাকার সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জনদুর্ভোগ বেড়েছে। এলাকাবাসী এই ঘটনায় বাধা দিতে গেলে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ভয়ভীতি দেখান।

এই ঘটনায় বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে ‘রাতের আঁধারে সরকারি মাদ্রাসার মাটি লুট’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করেন সাংবাদিক সুজন। সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি অবগত হয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাহাতুল করিম মিজান সেখানে অভিযান চালান। এ সময় সেখানে উপস্থিত বিএনপির নেতা-কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সরে যান। সহকারী কমিশনার ঘটনাস্থলে থাকা দুটি এক্সকাভেটর (মাটি খননকারী যন্ত্র) মেশিন অকেজো করেন।

অভিযান শেষে সহকারী কমিশনার রাহাতুল করিম মিজান চলে যাওয়ার পর সন্ধ্যার দিকে বিএনপি নেতা মনি সাংবাদিক সুজনকে ফোন করে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করেন। এ সময় মনি প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং সুজনের হাত কেটে নেওয়ার হুমকি দেন। পরে ওই বিএনপি নেতা মনির সঙ্গে ভয়েস রেকর্ডটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন সাংবাদিক সুজন।

তিনি ভয়েস রেকর্ড প্রকাশ করে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। এরপর রাত ৯টার দিকে চারঘাট পৌরসভা সদরের শহীদ মিনার এলাকার একটি চায়ের স্টলে বসেছিলেন সাংবাদিক সুজন।

এ সময় তাঁর ওপর হামলা চালান বিএনপি নেতা মনি এবং আলমগীরের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীরা। তাঁরা বাঁশের এবং কাঠের লাঠি দিয়ে সুজনকে বেধড়ক পেটান। স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে গেলে বিএনপির নেতা-কর্মীরা সেখান থেকে সরে যান। এরপর সুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আহত সুজন বলেন, ‘সংবাদ প্রকাশের কারণে আমাকে টার্গেট করে হামলা করা হয়েছে। এখনো প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছি। আমি এবং আমার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি। থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’

জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকিরুল ইসলাম বিকুল বলেন, ‘সাংবাদিকের ওপর হামলা কোনোভাবেই ঠিক হয়নি। আমি এটি সমর্থন করতে পারি না। সাংবাদিকদের সঙ্গে আমার কোনো বিরোধ নেই। আমি ঘটনার পর আহত সাংবাদিক সুজনের সঙ্গে কথা বলেছি। হামলার সঙ্গে যেসব নেতা-কর্মী জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধে দ্রুতই সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

চারঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন তুহিন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরই ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত