Ajker Patrika

মরুর দুম্বা গুরুদাসপুরে

আনিসুর রহমান, গুরুদাসপুর, নাটোর
আপডেট : ১৯ মে ২০২৬, ০৮: ৫০
মরুর দুম্বা গুরুদাসপুরে
দুম্বা খামারি আব্দুল হান্নান সরকারের সঙ্গে কথা বলছেন ক্রেতা ও কয়েকজন দর্শনার্থী। গত রোববার নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার চাপিলা ইউনিয়নের খামারপাথুরিয়া গ্রামে। ছবি: আজকের পত্রিকা

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার চাপিলা ইউনিয়নের খামারপাথুরিয়া গ্রাম। এই গ্রামে ৩০ বিঘা জায়গায় গড়ে উঠেছে খামার। পাড়াগাঁয়ে খামারটিতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ক্রেতা ও দর্শনার্থীরা আসেন। কারণ, এই খামারে মরুভূমির প্রাণী দুম্বা পাওয়া যায়। রয়েছে ১৪ প্রজাতির ছাগল, বিভিন্ন জাতের গরু ও গাড়ল।

গুরুদাসপুরের এই খামারমালিক দুই ভাই আনোয়ার হোসেন ও আব্দুল হান্নান সরকার। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খামারে প্রায় ৫ কোটি টাকার গবাদিপশু রয়েছে। ৩০ জন শ্রমিক কাজ করছেন। একসময় অভাব-অনটনে দিন কাটত দুই ভাইয়ের। এখন নিজেরা সচ্ছল হয়েছেন। সৃষ্টি হয়েছে কর্মসংস্থানও।

খামারটির উদ্যোক্তা আনোয়ার হোসেন জানান, ১৯৯৫ সালে বড় ভাইয়ের সহযোগিতায় শখের বশে মাত্র ৩২ হাজার টাকায় দুটি রামছাগল কিনে লালনপালন শুরু করেছিলেন। সেই থেকে শুরু। বছর যায়, আর বাড়তে থাকে ছাগলের সংখ্যা।

খামারটিতে বর্তমানে রয়েছে ১৪ প্রজাতির প্রায় ৩০০টি ছাগল, ৭৫টি দুম্বা, অস্ট্রেলিয়ান দরপার জাতের ৬২টি গাড়ল, ৫ থেকে ৬ জাতের ১৭টি গরু। তবে পুরো খামারের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ মরুভূমির প্রাণী দুম্বা। ইতিমধ্যে এটি জেলায় একমাত্র বড় দুম্বার খামার হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছে।

দুই ভাইয়ের গড়ে তোলা খামারে দুম্বা। ছবি: আজকের পত্রিকা
দুই ভাইয়ের গড়ে তোলা খামারে দুম্বা। ছবি: আজকের পত্রিকা

আরেক উদ্যোক্তা হান্নান সরকার বলেন, ২০০৭ সালে ভারত থেকে দুই জোড়া দুম্বা সংগ্রহের মাধ্যমে যাত্রা শুরু হয় তাঁর খামারের। এরপর ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে দুম্বার সংখ্যা। গত কোরবানির ঈদে এই খামার থেকে ৮০টি দুম্বা বিক্রি হয়েছিল। বর্তমানে খামারে টার্কি, আওয়াসি ও নাগরি জাতের প্রায় ৬০টি দুম্বা রয়েছে। এর মধ্যে ৩০টি দুম্বা আসন্ন কোরবানির জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ওজনে দেড় মণ থেকে শুরু করে চার মণ পর্যন্ত। একেকটি দুম্বার দাম ধরা হচ্ছে ১ লাখ ২০ হাজার থেকে শুরু করে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত।

খামারিরা জানান, মরুভূমির প্রাণী হওয়ায় দুম্বার রোগবালাই তুলনামূলক কম। একই সঙ্গে খাবারের খরচও কম। বাংলাদেশের আবহাওয়ার সঙ্গে প্রাণীটি এখন বেশ ভালোভাবে মানিয়ে নিয়েছে। তবে শুরুর দিকে দুম্বার তেমন চাহিদা ছিল না, কিন্তু সময়ের সঙ্গে মানুষের আগ্রহ বেড়েছে; বিশেষ করে কোরবানির মৌসুমে চাহিদা কয়েক গুণ বাড়ে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ দুম্বা কিনতে আসেন।

এই খামার প্রসঙ্গে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. সেলিম উদ্দীন বলেন, দুম্বা মূলত গ্রীষ্মপ্রধান এবং শুষ্ক অঞ্চলের প্রাণী হলেও বর্তমানে বাংলাদেশের আবহাওয়াতেও এটি ভালোভাবে মানিয়ে নিচ্ছে। দেশে তাপমাত্রা বাড়ার কারণে দুম্বা পালন এখন আরও সম্ভাবনাময় হয়ে উঠছে। গুরুদাসপুরে বড় পরিসরে একটি দুম্বার খামার গড়ে উঠেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত