Ajker Patrika

জ্বালানি সংকট: শিবচরে ইরি, বোরো ও পাটের আবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক

শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি
জ্বালানি সংকট: শিবচরে ইরি, বোরো ও পাটের আবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক
জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দেওয়ায় সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

মাদারীপুরের শিবচরে ফসলি জমিতে ইরি ও বোরো ধানের আবাদ চলছে। পাশাপাশি পাট চাষের জন্যও জমি প্রস্তুত করা হচ্ছে। তবে জ্বালানি তেলের সংকটে বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। তেলের অভাবে নিয়মিত সেচপাম্প চালাতে না পারায় সময়মতো ইরি ও বোরো খেতে পানি দিতে পারছেন না তাঁরা। ফলে অনেক জমি শুকিয়ে ফেটে যাচ্ছে।

চলতি মৌসুমে পাটের বীজ বপন নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। এতে একদিকে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কাও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ফসলি জমিতে এ মৌসুমে ইরি ও বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। এসব জমিতে সেচ অব্যাহত রাখতে ইঞ্জিনচালিত সেচযন্ত্র স্থাপন করা হয়েছে। উপজেলার চরাঞ্চলসহ বেশির ভাগ এলাকার সেচযন্ত্র ডিজেলচালিত। সম্প্রতি জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দেওয়ায় সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। কৃষকেরা প্রয়োজনের তুলনায় কম তেল পাচ্ছেন। আবার তেল নিতে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। ফলে সময়মতো জমিতে সেচ দিতে না পারায় অনেক জমি শুকিয়ে যাচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে শিবচরে ২ হাজার ৭১২ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। এ ছাড়া পাট চাষ হচ্ছে প্রায় ১২ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে। উপজেলার বহেরাতলা, দত্তপাড়া, নিলখী, শিরুয়াইল, দ্বিতীয়াখণ্ডসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে ইরি ও বোরোর আবাদ বেশি হয়। পাশাপাশি উপজেলার বেশির ভাগ ইউনিয়নেই পাট চাষ হয়ে থাকে। পাট চাষের ক্ষেত্রেও নিয়মিত সেচ প্রয়োজন। তাই ইরি-বোরোর পাশাপাশি পাট চাষ নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকেরা।

দত্তপাড়া ইউনিয়নের বাঁচামারা এলাকার কৃষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি পাঁচ বিঘা জমিতে ইরি ও বোরো ধানের আবাদ করেছি। রোপণের শুরুতে ঠিকমতো পানি দিতে পারায় ফলন ভালো হয়েছিল। কিন্তু এখন ধান বের হতে শুরু করেছে, অথচ সঠিক সময়ে পানি দিতে পারছি না। এতে ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

আরেক কৃষক মো. শাহ আলম বলেন, ‘ডিজেল সংকটের কারণে বেশির ভাগ কৃষক নিয়ম মেনে জমিতে সেচ দিতে পারছেন না। জমি শুকিয়ে ফেটে যাচ্ছে। সামনে পাটের বীজ বপনের সময়, তখনো প্রচুর পানি দরকার হবে। তেল কিনতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। সব মিলিয়ে আমরা বিপদে আছি।’

শিরুয়াইল এলাকার কৃষক এনায়েত করিম অভিযোগ করে বলেন, ‘দু-তিন দিন পরপর চাহিদার তুলনায় অল্প পরিমাণ ডিজেল পাওয়া যায়। এ জন্য কয়েক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। যে পরিমাণ তেল পাওয়া যায়, তাতে পুরো জমিতে সেচ দেওয়া খুবই কষ্টসাধ্য। এ সংকটের সমাধান না হলে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হবে।’

শিবচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলিমুজ্জামান খান বলেন, ‘জ্বালানি সংকটের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ইউনিয়নভিত্তিক কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কৃষকদের তেল সরবরাহে সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিবচরে চলতি মৌসুমে বিস্তীর্ণ জমিতে ইরি-বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এলাকাটি পাট চাষের জন্যও উপযোগী। সেচ যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে কৃষি অফিস তদারকি করছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

মার্কিন দ্বিতীয় পাইলটকে হন্যে হয়ে খুঁজছে ইরান, ধরিয়ে দিলে পুরস্কার ঘোষণা

মেয়ে জাইমাকে নিয়ে হলে সিনেমা দেখলেন প্রধানমন্ত্রী

পার্থর বিরুদ্ধে দেওয়া ফেসবুক পোস্ট ডিলিট করে যা বললেন ফয়েজ আহমদ

মোহনগঞ্জে মোটরসাইকেল স্ট্যান্ডে চাঁদার দাবিতে হামলা, আটক ১

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ইরানের, মধ্যস্থতায় অনীহা কাতারের

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত