Ajker Patrika

ঝিনাইদহে বেশির ভাগ ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধ, ডিসি বললেন সংকট নেই

আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, ঝিনাইদহ 
ঝিনাইদহে বেশির ভাগ ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধ, ডিসি বললেন সংকট নেই
ফিলিং স্টেশনে প্রবেশে প্রতিবন্ধক তৈরি। ছবি: আজকের পত্রিকা

ঝিনাইদহে জেলার বেশির ভাগ ফিলিং স্টেশন জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধ রেখেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চালকেরা। জেলার ৩৩টি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে অন্তত ২৮টিতে শনিবার দুপুরের পর থেকে তেল বিক্রি বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে।

শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরের পর ঝিনাইদহ শহরের পায়রা চত্বর, হামদহ, আরাপপুর, পোপীনাথপুরসহ ঝিনাইদহ-ঢাকা ও ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ পাম্পে তেল বিক্রি বন্ধ রয়েছে। এতে মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস ও পিকআপের চালকেরা বিপাকে পড়েছেন।

কালীগঞ্জ থেকে ঝিনাইদহ শহরে আসা বাবুল আক্তার জানান, তিনি হামদহ এলাকার মেসার্স রেজাউল ইসলাম ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে গেলে তাঁকে তেল দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, পাম্পের সামনে বাঁশ দিয়ে বাধার সৃষ্টি করে রেখেছে। যাতে কেউ পাম্পে প্রবেশ করতে না পারে। পাম্পের কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বললে তাঁরা বলেন তেল শেষ হয়ে গেছে, দেওয়া যাবে না। তিনি বলেন, তেল না পেলে কালীগঞ্জে ফিরব কীভাবে?

শহরের আল ফালাহ হাসপাতাল এলাকার বাসিন্দা মামুন হোসেন বলেন, ‘আমি তেল নিতে এসে পাম্প কর্মচারীদের অনেক অনুরোধ করেছি, কিন্তু তারা তেল দেয়নি। সরকার মোটরসাইকেল প্রতি দুই লিটার তেল দেওয়ার নির্দেশ দিলেও তা মানা হচ্ছে না।’

জেলার কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুর ও শৈলকুপা উপজেলার বেশির ভাগ ফিলিং স্টেশনেও শনিবার দুপুরের পর থেকে তেল বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে ঝিনাইদহ শহরের মেসার্স শরিফুল ফিলিং স্টেশন ও তাজ ফিলিং স্টেশন নামে দুটি পাম্পে সীমিত পরিমাণে তেল বিক্রি করতে দেখা গেছে।

এদিকে জানা গেছে, শনিবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাম্পমালিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন জেলা প্রশাসক। বৈঠকে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী তেল বিক্রি ও পাম্প পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়।

হামদহ এলাকার মেসার্স রেজাউল ইসলাম ফিলিং স্টেশনের হিসাবরক্ষক বিকাশ বিশ্বাস বলেন, ‘আমাদের স্টক শেষ হয়ে যাওয়ায় বিক্রি বন্ধ রাখতে হয়েছে। তবে জরুরি সেবার জন্য কিছু তেল মজুত রাখা হয়েছে।’

হামদহ এলাকার আরিফ ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক মারুফ আহমেদ বলেন, ‘আমরা ডিজেল বিক্রি করছি, কিন্তু অন্য তেলের স্টক শেষ হয়ে যাওয়ায় বিক্রি বন্ধ রয়েছে। পুলিশ, প্রশাসন ও অ্যাম্বুলেন্সের জন্য ৭০০ লিটার করে ডিজেল ও অকটেন মজুত রাখা হয়েছে। নতুন তেল আসলে নিয়ম অনুযায়ী বিক্রি শুরু করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, গত বৃহস্পতিবার থেকে পাম্পে অতিরিক্ত ভিড় শুরু হয়েছে। যাদের দুই লিটার প্রয়োজন তারা সাত-আট লিটার করে নিচ্ছেন। এতে অনেকেই তেল পাচ্ছেন না। এই কারণে মোটরসাইকেলে তেল সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।

জেলা তেল পরিবেশক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আজ সকালে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। তবে পাম্প বন্ধ রাখার বিষয়ে আমি অবগত নই। অনেক পাম্পমালিক বৃহস্পতিবার ডিপো থেকে তেল নিতে পারিনি। ডিপো থেকে সরবরাহ যেভাবে দেওয়া হচ্ছে, আমরা সেটার ওপরই নির্ভরশীল। অনেকের স্টক শেষ হয়ে যাওয়ায় হয়তো বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে।’

এ বিষয়ে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ মাসউদ বলেন, ‘পাম্পমালিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছি। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী পাম্প পরিচালনার কথা বলা হয়েছে। তবে আমি সরাসরি তাদের নিয়ন্ত্রক নই।’ তিনি আরও বলেন, তেলের কোনো ঘাটতি নেই। কেউ যাতে ব্যক্তিগতভাবে তেল মজুত না করে, সে বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন বা পুলিশের জন্য আলাদা করে তেল মজুত রাখার কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। কেউ যদি প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে এমন দাবি করে, তাহলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

প্রতিবেশী দেশে আর হামলা নয়, ক্ষমাও চাইলেন ইরানি প্রেসিডেন্ট

হঠাৎ কেন প্রতিবেশী দেশে হামলা বন্ধের ঘোষণা দিল ইরান, নেপথ্যে কী

ব্রিটেনের ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী বোমারু বিমান, হামলা কি রাতেই

বিশ্ব অর্থনীতিতে অশনিসংকেত: দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ জ্বালানি তেলের দাম

অভিজ্ঞতা ছাড়াই ইবনে সিনায় চাকরি, এইচএসসি পাসে আবেদন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত