Ajker Patrika

ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক মামুন খালেদ ফের রিমান্ডে

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক মামুন খালেদ ফের রিমান্ডে
শেখ মামুন খালেদ। ছবি: সংগৃহীত

জুলাই আন্দোলনে মিরপুর থানায় করা এক হত্যা মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে তৃতীয় দফায় ৩ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছিদ্দিক আজাদ তাঁকে ফের রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দেন।

দ্বিতীয় দফায় ৬ দিনের রিমান্ড শেষে মামুন খালেদকে আদালতে হাজির করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিএমপির গোয়েন্দা মিরপুর বিভাগের পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) কফিল উদ্দিন ফের ৪ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন ও জামাল উদ্দিন মারজিন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত তা নাকচ করে ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত ২৫ মার্চ রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর ডিওএইচএস এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। পরে ২৬ মার্চ এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে আদালতে হাজির করে ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। প্রথম দফা রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করে গত ৩১ মার্চ তাঁকে ৬ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে অংশ নেওয়ার সময় দেলোয়ার হোসেনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। অভিযোগ করা হয়েছে, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ও অজ্ঞাতসন্ত্রাসীরা আন্দোলনকারীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

ঘটনাস্থলে গুরুতর আহত দেলোয়ার হোসেনকে প্রথমে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে এবং পরে শ্যামলীর সিটি কেয়ার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন তিনি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর এ ঘটনায় হত্যা মামলা করা হয়।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, মামুন খালেদকে দুই দফায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাঁর কাছ থেকে এই মামলার বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের তথ্য সংগ্রহ, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং এ ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের জন্য শেখ মামুন খালেদকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।

মামুন খালেদ ২০০৭-০৮ সালের সেনানিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলের শেষ দিকে ডিজিএফআইয়ের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (সিআইবি) পরিচালক ছিলেন। পরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক হন তিনি। ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক ছিলেন তিনি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত