
স্থবির হয়ে পড়া বগুড়া-সিরাজগঞ্জ নতুন ডুয়েলগেজ রেললাইন প্রকল্প গতি পেয়েছে। বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় থাকা প্রকল্পটির সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) রেলপথ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সংশোধিত ডিপিপিতে বাংলাদেশ রেলওয়ের এই প্রকল্পের খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা। ২০১৮ সালে একনেকে অনুমোদনের সময় প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫ হাজার ৫৭৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা।
আট বছরের ব্যবধানে প্রকল্প ব্যয় দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধির বিষয়ে প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্মাণসামগ্রী ও জমির মূল্যবৃদ্ধি, মার্কিন ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি ও প্রকল্পের পরিধি সম্প্রসারণের কারণে ব্যয় বেড়েছে।
বগুড়া-সিরাজগঞ্জ পথে নতুন এই ৭৬ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণ হলে এ পথে দূরত্ব কমবে ১১৪ কিলোমিটার। এতে যাত্রার সময় বাঁচবে প্রায় তিন ঘণ্টা। প্রকল্প সূত্র বলেছে, প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম গতি পেয়েছে। বগুড়া ও সিরাজগঞ্জে জমি বুঝে নেওয়ার কাজ চলছে।
নতুন এই ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ রেলওয়ে। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। তখন এই প্রকল্পে ভারতীয় ঋণে অর্থায়ন করার কথা ছিল। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত বছরের মার্চে বিগত অন্তর্বর্তী সরকার এই প্রকল্পে ভারতীয় অর্থায়ন বাতিল করে। এতে প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল।
বর্তমানে প্রকল্পটির অর্থায়নে এগিয়ে এসেছে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি)। আগে প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ২০১৮ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল। সংশোধিত প্রস্তাবে মেয়াদ আরও চার বছর বাড়িয়ে ২০৩০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। সংশোধিত ডিপিপি ১৪ জুন রেলপথ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে প্রকল্প দপ্তর। মন্ত্রণালয় থেকে ডিপিপি পরিকল্পনা কমিশনে যাবে। সবকিছু ঠিক থাকলে সংশোধিত ডিপিপি এক মাসের মধ্যে একনেক সভায় উঠবে বলে জানিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সূত্র।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, কাজের পরিধি বাড়ার পাশাপাশি জমির দাম, নির্মাণসামগ্রীর দাম, ডলারের বিনিময় হার অনেক বেড়ে যাওয়ায় প্রকল্প ব্যয়ও বেড়েছে। জমির বর্তমান বাজারমূল্য বৃদ্ধি এবং পুনর্বাসন ব্যয় বাড়ায় ভূমি অধিগ্রহণ খাতে ব্যয় উল্লেখযোগ্য বেড়েছে। সর্বশেষ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রতিবেদনে ইঞ্জিনিয়ারিং চাহিদার পরিবর্তন, রেল ফ্লাইওভার অন্তর্ভুক্তকরণ এবং বিভিন্ন সম্প্রসারণমূলক কাজের সুপারিশ করা হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ১২ জুন বগুড়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এই প্রকল্পের রুট পরিবর্তনসহ বিভিন্ন প্রস্তাবের কথা জানান।
জানতে চাইলে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, প্রকল্পটির নকশা ও অ্যালাইনমেন্ট চূড়ান্ত করা হয়েছে। শিগগির ডিপিপি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হবে এবং আগামী এক মাসের মধ্যে এটি একনেকে উপস্থাপন করা হবে। এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রীর প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা, জনস্বার্থসহ সব দিক বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যে প্রস্তাব প্রকল্প ও জনগণের জন্য সবচেয়ে উপযোগী বলে বিবেচিত হবে, সেটিই বাস্তবায়ন করা হবে।
মূল ডিপিপিতে ৯৬০ একর জমি অধিগ্রহণের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৯২১ কোটি টাকা। তবে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান চূড়ান্ত অ্যালাইনমেন্ট নির্ধারণ ও ভূমি অধিগ্রহণ পরিকল্পনা প্রণয়নের পর প্রয়োজনীয় জমির পরিমাণ দাঁড়ায় ৯০১ দশমিক ৭৭ একর। এরপর বগুড়া ও সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসকদের চূড়ান্ত ব্যয় প্রাক্কলনে ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৪৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ জমির মূল্যবৃদ্ধির কারণে শুধু এ খাতেই ব্যয় বেড়েছে ৩২৩ কোটি ১৬ লাখ টাকা।
প্রকল্প সূত্র জানায়, ভূমি অধিগ্রহণ বাবদ প্রয়োজনীয় অর্থ ইতিমধ্যে দুই জেলার প্রশাসকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সংশোধিত ডিপিপি সূত্রে জানা যায়, এই প্রকল্পের আওতায় বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত সরাসরি প্রায় ৭৬ কিলোমিটার নতুন ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ করা হবে। বগুড়া সদর, কাহালু, শাজাহানপুর, শেরপুর, রায়গঞ্জ, কামারখন্দ ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে।
বর্তমানে বগুড়া-সিরাজগঞ্জ পথে ট্রেন চলাচলের জন্য প্রায় ১৯০ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। ট্রেনগুলোকে সান্তাহার, নাটোর ও পাবনার ঈশ্বরদী হয়ে অতিরিক্ত পথ অতিক্রম করতে হয়। এতে সময় বেশি লাগে, পরিচালন ব্যয়ও বেশি হয়। নতুন রেললাইন চালু হলে এ পথে দূরত্ব ১১৪ কিলোমিটার কমবে এবং যাত্রার সময় প্রায় তিন ঘণ্টা সাশ্রয় হবে। একই সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের দ্রুত, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী রেল যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে বলে আশা করছে রেলওয়ে।
প্রকল্পের আওতায় ৮৬ দশমিক ৫১ কিলোমিটার মূল রেললাইন এবং ৩৭ কিলোমিটার লুপলাইন নির্মাণ করা হবে। করতোয়া নদীর ওপর ২৪৬ মিটার এবং ইছামতী নদীর ওপর ২০৫ মিটার দৈর্ঘ্যের দুটি বড় সেতুসহ মোট ১২১টি ছোট-বড় সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের ওপর একটি রেল ওভারপাস এবং ঢাকা-নাটোর মহাসড়কের ওপর একটি রোড ওভারপাস নির্মাণ করা হবে।
এই পথে মোট ১১টি স্টেশন থাকবে। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জ জংশন, কৃষ্ণদিয়া, রায়গঞ্জ, চান্দাইকোনা, সনকা, শেরপুর, আরিয়া বাজার ও রাণীরহাটে নতুন আটটি স্টেশন নির্মাণ করা হবে। অন্যদিকে বগুড়া, কাহালু ও সদানন্দপুর স্টেশন পুনর্নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া রাণীরহাট এলাকায় একটি ‘ওয়াই’ আকৃতির রেললাইন নির্মাণ করা হবে, যার একটি শাখা বগুড়ার দিকে এবং অন্যটি কাহালুর দিকে যাবে।
প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক মো. আবু জাফর মিঞা আজকের পত্রিকাকে বলেন, সংশোধিত ডিপিপি রেলপথ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ডিপিপি অনুমোদিত হলে দরপত্র আহ্বানসহ পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মূল নির্মাণকাজ শুরু করতে আরও প্রায় ৯ মাস লাগতে পারে। আন্তর্জাতিক মানের চুক্তিপত্র করা হয়েছে, যাতে প্রয়োজনীয় সব বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ২০১৮ সালে যখন ডিপিপি করা হয়েছিল, তখনকার দামের ভিত্তিতে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে নির্মাণসামগ্রীসহ প্রায় সবকিছুর দাম, বিশেষ করে ডলারের বিনিময় হার বেড়ে যাওয়ায় প্রকল্প ব্যয়ও বেড়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারের উচ্চপর্যায়ের আগ্রহের কারণে প্রকল্পটির বিভিন্ন প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়ায় গতি এসেছে। অগ্রাধিকারের তালিকায় থাকা প্রকল্পটিকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, রেললাইনটি অনেক আগেই নির্মাণ হওয়া উচিত ছিল। রাজনৈতিক কারণে তা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘদিন প্রকল্পটি বাস্তবায়িত না হওয়ায় এখন অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রয়োজন হচ্ছে। সময়ের ব্যবধানে জমি অধিগ্রহণ, নির্মাণসামগ্রী ও অন্যান্য খরচ বেড়ে যাওয়ায় প্রকল্প ব্যয়ও বেড়েছে। তবে শুরু থেকে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে নির্ধারিত সময় ও ব্যয়ের মধ্যে কাজ শেষ করা যায়।

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অনুমোদিত জনবলকাঠামোয় উপাধ্যক্ষ পদ নেই। তবে একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তে ডা. এ এফ এম আতিকুর রহমানকে উপাধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর পর থেকে তিনি যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন। এমনকি অধ্যক্ষের জন্য বরাদ্দ সরকারি গাড়িও ব্যবহার করেন তিনি।
২ ঘণ্টা আগে
গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভায় ভারী বর্ষণে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের ঘরবাড়ি, সড়ক, দোকানপাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানায় পানি ঢুকে পড়েছে। প্রায় ৫ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বিশুদ্ধ পানি, খাবার-সংকটে পড়েছেন বাসিন্দারা। এ ছাড়া সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগে...
৩ ঘণ্টা আগে
যশোর শহরের চিত্রামোড়ে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) গ্রাহকসেবা কক্ষের ভেতরে ১০ জনের জটলা। সবার হাতেই এক টুকরো কাগজ। সেই কাগজে কারও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, কারও-বা বাসাবাড়ির লক হয়ে পড়া বিদ্যুতিক প্রিপেইড মিটারের নাম্বার। গত মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টা এই দৃশ্য দেখা যায়।
৩ ঘণ্টা আগে
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে ঘাঘট নদীভাঙন রক্ষা প্রকল্পের কাজের অনিয়মের খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীভাঙন এলাকায় শ্যালো মেশিন বসিয়ে জিওব্যাগ ভরার জন্য যদি বালু উত্তোলন করা হয়, এতে নদীভাঙন রক্ষায় কোনো কাজে আসবে না। বরং ভাঙন আরও বাড়বে। সরেজমিনে উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের...
৩ ঘণ্টা আগে