Ajker Patrika

কারখানার বর্জ্যে নদীর পানি ‘আলকাতরা’

  • বিষাক্ত বর্জ্যে একসময়ের জীবন্ত নদীগুলো হারাচ্ছে স্বাভাবিক প্রবাহ ও প্রাণ।
  • ৩৮ কিলোমিটার দীর্ঘ হাঁড়িধোয়া নদী দেশের দ্বিতীয় সর্বাধিক দূষিত নদী।
নরসিংদী সংবাদদাতা
কারখানার বর্জ্যে নদীর পানি ‘আলকাতরা’
নরসিংদীতে কারখানার বর্জ্যে হাঁড়িধোয়া নদীতে বিষাক্ত পানি। ছবি: আজকের পত্রিকা

নরসিংদীতে কলকারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে নদ-নদীর পানি ভয়াবহ দূষণের কবলে পড়েছে। একসময়ের জীবন্ত নদীগুলো হারাচ্ছে স্বাভাবিক প্রবাহ ও প্রাণ। এতে নদীতীরবর্তী মানুষের জীবনযাত্রা, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে।

শীতলক্ষ্যা ও মেঘনা নদীবেষ্টিত নরসিংদীর ব্রহ্মপুত্র, আড়িয়াল খাঁ, হাঁড়িধোয়া, পাহাড়িয়া ও পুরাতন ব্রহ্মপুত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ শাখানদীগুলোকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে শিল্পাঞ্চল। তবে এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে নির্গত অপরিশোধিত বর্জ্য সরাসরি নদীতে পড়ায় দিন দিন বাড়ছে দূষণ। এতে নদীর পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টার’-এর তথ্য অনুযায়ী, নরসিংদীর প্রায় ৩৮ কিলোমিটার দীর্ঘ হাঁড়িধোয়া নদী দেশের দ্বিতীয় সর্বাধিক দূষিত নদী। নদীর পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা নেমে এসেছে শূন্য দশমিক ৬-এ, যা জলজপ্রাণীর জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর পানিতে নামলেই শরীরে দেখা দিচ্ছে খোস-পাঁচড়া ও চর্মরোগসহ নানা স্বাস্থ্য সমস্যা। একই সঙ্গে মাছসহ অন্যান্য জলজপ্রাণী প্রায় বিলুপ্তির পথে। এমনকি নদীর তীরবর্তী গাছপালা ও আগাছাও টিকে থাকতে পারছে না।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, হাঁড়িধোয়ার পাশাপাশি শীতলক্ষ্যা নদীর অবস্থাও দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। একসময় যেখানে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত, এখন সেখানে শীত মৌসুমে কাপাসিয়া থেকে ঘোড়াশাল পর্যন্ত মাছ মরে ভেসে ওঠার ঘটনা ঘটছে নিয়মিত।

নরসিংদী পরিবেশ আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক প্রলয় জামান বলেন, কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য ও গ্যাসের কারণেই নদীর মাছ মারা যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে পরিবেশের ওপর ভয়াবহ প্রভাব পড়বে এবং দেশে মাছের সংকট দেখা দেবে।

অন্যদিকে হাঁড়িধোয়া নদীর দূষণ রোধে সরকারের ১০ কোটি টাকা প্রকল্পের কাজের ধীরগতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পের অধীনে নদী দূষণের উৎস শনাক্ত ও প্রতিকারমূলক ব্যবস্থার কাজ চলছে।

এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের নরসিংদী কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. বদরুল হুদা বলেন, নদী দূষণের কারণ অনুসন্ধান করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নদীরক্ষা কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

‘ইলন মাস্কের হাত থেকে বাঁচাতে’ কিশোরী কন্যাকে হত্যা করলেন মা

অবশেষে অনশনরত স্বামীর হাত ধরে ঘরে ফিরলেন সেই স্ত্রী

মার্কিন বাহিনীর নতুন মাথাব্যথা ইরানের ‘অদৃশ্য কমান্ডো’

ক্রুকে উদ্ধারে কী কী প্রযুক্তি ব্যবহার করল যুক্তরাষ্ট্র, ইরানিরা কেন খুঁজে পেল না

চৈত্রসংক্রান্তিতে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে সাধারণ ছুটি

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত