Ajker Patrika

নাটোরের গুরুদাসপুর: ইটভাটার কবলে তিন ফসলি জমি

  • কৃষিজমিতে গড়ে তোলা হয়েছে ১১টি ইটভাটা।
  • ৪৫ হেক্টরের বেশি পরিমাণ কৃষিজমি উজাড় হয়েছে।
গুরুদাসপুর (নাটোর) সংবাদদাতা
নাটোরের গুরুদাসপুর: ইটভাটার কবলে তিন ফসলি জমি
নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় কৃষিজমিতে গড়ে তোলা ইটভাটা। ছবি: আজকের পত্রিকা

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় কৃষিজমিতে গড়ে তোলা হয়েছে ১১টি ইটভাটা। এতে পরিবেশের যেমন ক্ষতি হচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষকও। কমে যাচ্ছে আবাদি জমির পরিমাণও। তা ছাড়া ঘনবসতি এলাকা ও কৃষিজমির মধ্যে এসব ইটভাটা স্থাপনের কারণে নির্গত কালো ধোঁয়ায় কৃষি আবাদসহ ফলদ উদ্ভিদ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব বিষয়ে প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, দুই ও তিন ফসলি কৃষি জমিতে গড়ে ওঠা এসব ইটভাটার কারণে ৪৫ হেক্টরের বেশি পরিমাণ কৃষিজমি উজাড় হয়েছে। প্রতিটি ইটভাটা গড়ে ২৭-৩০ বিঘা কৃষিজমি ব্যবহার করছে। ফলে প্রায় ৭০০ টন ধানের আবাদ কমেছে। এসব ধানের আর্থিক মূল্য গড়ে প্রায় ১ কোটি টাকা। অথচ এসব জমিতে বছরে দুবার করে ধানসহ পাট, সরিষা ও সবজি আবাদ হতো। এখন ইটভাটার নির্গত কালো ধোঁয়ার কারণে আশপাশের খেতের ফসল এবং ফলদ উদ্ভিদের ক্ষতি হচ্ছে।

ইটভাটার মালিকেরা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ার কারণে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় না বলেও জানা গেছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গুরুদাসপুর পৌরসভার মধ্যমপাড়ায় ৫টি, মশিন্দা ইউনিয়নের সাহাপুরে ৩টি ও ধারাবারিষা ইউনিয়নের চরকাদহ ও হাজিরহাটে ২টি, নাজিরপুর ইউনিয়নের শ্যামপুরে ১টিসহ মোট ১১টি ইটভাটা গড়ে উঠেছে। পাঁচ বছরের বেশি সময় আগে এসব ইটভাটার নবায়নের মেয়াদ শেষ হয়েছে।

পরিবেশ আইন, ২০১৩-এ বলা আছে, আপাতত বলবৎ কোনো আইনে যা কিছু থাক না কেন, ছাড়পত্র থাকুক বা না থাকুক—আবাসিক, সংরক্ষিত বা বাণিজ্যিক, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা উপজেলা সদরে ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না। এ ছাড়া কৃষিজমি, পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না।

এ দিকে ইট প্রস্তুতের জন্য কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি (টপ সয়েল) কেটে নেওয়া হচ্ছে বলেও জানা গেছে।

বিভিন্ন ইটভাটা ঘুরে দেখা গেছে, সবগুলো ইটভাটাই ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার কৃষিজমির মাঝে গড়ে তোলা হয়েছে। কাঁচা ইটের জন্য পাহাড়সমান উঁচু করে মাটি রাখা হয়েছে। এই মাটি দিয়ে কাঁচা ইট প্রস্তুত করছেন শ্রমিকেরা। কয়লার পাশাপাশি খড়িও স্তূপ করে রাখা হয়েছে ইটভাটাগুলোয়।

উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলামের দাবি, তাঁর দুটির মধ্যে একটি এবং শ্যামপুরের একটিসহ মোট দুটি ভাটার লাইসেন্স নবায়ন রয়েছে। অন্যগুলো কীভাবে চলছে, জানা নেই তাঁর। তবে কাঠ পোড়ানোর অভিযোগটি সত্য নয় বলে দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বলেন, খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

‘ইলন মাস্কের হাত থেকে বাঁচাতে’ কিশোরী কন্যাকে হত্যা করলেন মা

অবশেষে অনশনরত স্বামীর হাত ধরে ঘরে ফিরলেন সেই স্ত্রী

মার্কিন বাহিনীর নতুন মাথাব্যথা ইরানের ‘অদৃশ্য কমান্ডো’

ক্রুকে উদ্ধারে কী কী প্রযুক্তি ব্যবহার করল যুক্তরাষ্ট্র, ইরানিরা কেন খুঁজে পেল না

চৈত্রসংক্রান্তিতে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে সাধারণ ছুটি

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত