Ajker Patrika

মাদুরোর মামলাটি যেভাবে ভেস্তে দিতে পারেন তাঁর আইনজীবীরা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
শিল্পীর তুলিতে নিউইয়র্কের আদালতে সস্ত্রীক মাদুরো। ছবি: সিএনএন
শিল্পীর তুলিতে নিউইয়র্কের আদালতে সস্ত্রীক মাদুরো। ছবি: সিএনএন

ক্ষমতাচ্যুত ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে দায়ের করা বহুল আলোচিত ফৌজদারি মামলাটি গত ছয় বছর ধরেই কার্যত স্থবির ছিল। সম্প্রতি তাঁকে আটক করে নিউইয়র্কের ম্যানহাটন ফেডারেল আদালতে হাজির করা হলেও, এই মামলা বিচারে যেতে আরও বহু বছর লেগে যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আইন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, মামলাটি ঘিরে রয়েছে জটিল আন্তর্জাতিক রাজনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক প্রশ্ন।

নিউইয়র্কের আদালতে স্থানীয় সময় সোমবার (৫ জানুয়ারি) মাদক-সন্ত্রাসবাদের ষড়যন্ত্র, কোকেন আমদানির ষড়যন্ত্র, মেশিনগান ও ধ্বংসাত্মক অস্ত্র রাখার অভিযোগসহ সব অভিযোগে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন মাদুরো। তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসও একই ধরনের অভিযোগে নির্দোষ দাবি করেছেন। আদালতে মাদুরো দাবি করেন, তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ‘অপহরণ’ করেছে।

মিয়ামি-ভিত্তিক সাবেক ফেডারেল কৌঁসুলি ডিক গ্রেগোরির মতে, মাদুরোর আইনজীবীরা বিচারের আগেই একাধিক আইনি লড়াইয়ে নামবেন। গ্রেগোরি প্রায় ৪০ বছর আগে পানামার শাসক ম্যানুয়েল নরিয়েগার বিচারকাজে যুক্ত ছিলেন—যা মাদুরোর মামলার সঙ্গে অনেকটাই তুলনীয়। বিশেষ করে, কোনো বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানকে জোর করে ধরে এনে যুক্তরাষ্ট্রে বিচারের মুখোমুখি করার ঘটনা মাদুরোর আগে শুধু নরিয়েগার ক্ষেত্রেই ঘটেছিল।

আইনজীবীরা এ ক্ষেত্রে প্রথমেই মাদুরোর গ্রেপ্তারকে অবৈধ বলে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেন। একই সঙ্গে বিচার বিভাগের সঙ্গে প্রমাণ সংক্রান্ত তথ্য, নথিপত্রে প্রবেশাধিকার এবং গোপন জাতীয় নিরাপত্তা তথ্য ব্যবহারের প্রশ্নে তীব্র আইনি লড়াই হতে পারে। শ্রেণিবদ্ধ এসব তথ্য আদালতে ব্যবহারের প্রক্রিয়াই অনেক সময় মামলার গতি মাসের পর মাস পিছিয়ে দেয়। অনেক ক্ষেত্রে আসামিপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশের চাপ সৃষ্টি করে—যাকে ‘গ্রেমেইলিং’ বলা হয়—যাতে সরকার মামলা চালাতে নিরুৎসাহিত হয়।

মাদুরোর সম্ভাব্য আরেকটি বড় কৌশল হলো রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়মুক্তি (হেড অব স্টেট ইমিউনিটি) দাবি করা। আদালতে তিনি নিজেকে এখনো ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট বলে উল্লেখ করেছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ২০২৪ সাল থেকেই মাদুরোকে অবৈধ নেতা হিসেবে বিবেচনা করছে এবং বিরোধীপক্ষকে বৈধ প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। আইনজ্ঞদের মতে, কূটনৈতিক স্বীকৃতির প্রশ্নে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের অবস্থানই শেষ কথা হলেও বিষয়টি শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়াতে পারে।

মামলার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সহযোগী সাক্ষীদের উপস্থিতি। প্রসিকিউটরেরা দাবি করছেন, মাদুরোর ঘনিষ্ঠ মহল থেকেই একাধিক সাক্ষী তাদের কাছে তথ্য দিয়েছেন। তবে এসব সাক্ষীকে আদালতে হাজির করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। নরিয়েগার মামলার সময় গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর রহস্যজনক মৃত্যু ও নথি উধাও হয়ে যাওয়ার নজির রয়েছে। অনেক সাক্ষীকে তখন সাক্ষী সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় নতুন পরিচয়ে জীবন কাটাতে হয়েছিল।

তবে সাবেক কৌঁসুলিদের মতে—যুক্তরাষ্ট্র সরকার যদি মাদুরোর মতো একজন প্রভাবশালী নেতাকে অভিযুক্ত ও আটক করে থাকে, তাহলে মামলাটি যথেষ্ট শক্ত প্রমাণের ওপর দাঁড়িয়েই করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে ফার্ক, ইএলএন, সিনালোয়া কার্টেল, জেটাস ও ট্রেন দে আরাগুয়ার মতো পাঁচটি মাদক-সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে মাদুরোর সরাসরি সম্পৃক্ততার বর্ণনা রয়েছে।

শেষ পর্যন্ত সমঝোতার সম্ভাবনা থাকলেও, নরিয়েগা ও ‘এল চ্যাপো’ গুজমানের মতো উদাহরণ টেনে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন—এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের মাদক-সন্ত্রাসের মামলায় পূর্ণাঙ্গ বিচারে এগোনোর সম্ভাবনাই বেশি। কারণ, সম্ভাব্য সাজা হতে পারে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ বহু দশকের কারাবাস।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

ফের আসছে শৈত্যপ্রবাহ, থাকবে কয় দিন

বাঞ্ছারামপুরের ইউএনও ফেরদৌস আরা আর নেই

রাজধানীর ফার্মগেট-টেকনিক্যালসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে শিক্ষার্থীদের অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ

জামায়াতের সঙ্গে আসন নিয়ে টানাপোড়েন, আজই চূড়ান্ত করবে ১১ দল

আজকের রাশিফল: নেতিবাচক মানুষ থেকে দূরে থাকুন, পুরোনো প্রেমের স্মৃতি তাজা হবে

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত