Ajker Patrika

ইরানে ইসলামিক রিপাবলিক ২.০ আসছে, কেমন হবে এটি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ইরানে ইসলামিক রিপাবলিক ২.০ আসছে, কেমন হবে এটি

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র ও বৈশ্বিক অর্থনীতির ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে। যুদ্ধের দুই সপ্তাহ পার হতে না হতেই ইরানে এক নতুন নেতৃত্ব এসেছে। আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র মোজতবা খামেনি সুপ্রিম লিডার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তাঁর প্রথম বিবৃতিতে তিনি কেবল প্রতিশোধের কথা বলেননি, বরং ‘হরমুজ প্রণালী’ স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখার এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোকে মার্কিন ঘাঁটি সরিয়ে নেওয়ার আলটিমেটাম দিয়েছেন। ফলে আমেরিকা এক অন্তহীন সামরিক ও অর্থনৈতিক চোরাবালিতে আটকে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছে।

এই সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ওয়াশিংটন পোস্টের কলামিস্ট ডেভিড ইগনাটলাস এক নিবন্ধে সতর্ক করেছেন যে, ইরান যুদ্ধে আমেরিকার বর্তমান ‘সামরিক বিজয়’ আসলে একটি সাময়িক বিভ্রম হতে পারে। তাঁর মতে, ইরান হয়তো সামরিকভাবে পঙ্গু হয়ে গেছে, কিন্তু বর্তমান শাসনব্যবস্থা বা ‘রেজিম’ এখনো টিকে আছে এবং তারা এখন আরও বেশি প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে উঠছে।

ইগনাটলাস মনে করেন, আমেরিকা এবং ইসরায়েল গত কয়েক দশকে একটি শিক্ষা বারবার পেয়েছে, তা হলো সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব দিয়ে শত্রুকে দমন করা গেলেও তাঁকে নির্মূল করা যায় না। গাজা, আফগানিস্তান বা ভিয়েতনামের মতো ইরানও আবার ফিরে আসবে। ইসরায়েলের ভাষায় সাময়িকভাবে শত্রু দমানো হলো ‘ঘাস ছাঁটাই’, কিন্তু মূল সমস্যার সমাধান হয়না।

বর্তমান যুদ্ধ ইরানের পুরনো থিওক্রেসি বা ধর্মতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে একটি নতুন ধারার জন্ম দিচ্ছে, যাকে ইগনাটলাস ‘ইসলামিক রিপাবলিক ২.০’ বলছেন। এটি হবে একটি সামরিক শাসিত রাষ্ট্র যেখানে ক্ষমতার মূল কেন্দ্রে থাকবে আইআরজিসি। নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনি তাঁর বাবার মতো ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব না হলেও, ঘৃণা এবং প্রতিশোধের নেশায় তিনি আইআরজিসির একনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করবেন।

মার্কিন নীতিনির্ধারকরা ভেবেছিলেন, আকাশপথে বোমা মেরে জনগণের মনোবল ভেঙে দেওয়া যাবে এবং তারা শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করবে। কিন্তু ইতিহাস বলে, যখন কোনো দেশ বিদেশি শক্তির দ্বারা আক্রান্ত হয়, তখন সাধারণ মানুষ তাদের অপছন্দের সরকারের প্রতিও এক ধরণের জাতীয়তাবাদী সমর্থন দেখাতে শুরু করে। বোমাবর্ষণ মানুষকে আত্মসমর্পণের বদলে আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ এবং একগুঁয়ে করে তুলছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বড় বিজয়ের ঘোষণা দিলেও এর অর্থনৈতিক মাসুল দিতে হবে দীর্ঘ সময় ধরে। পারস্য উপসাগরে নাব্য চলাচল স্বাভাবিক রাখা এখন আমেরিকার জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে পড়বে। ট্রাম্প তাঁর শুল্ক নীতির কারণে মিত্রদেরও চটিয়েছেন, ফলে এই যুদ্ধের খরচ মেটানো এবং অঞ্চল পুনর্গঠনে তিনি সহযোগিতার অভাব বোধ করতে পারেন।

ইগনাটলাস সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইরানের সম্ভাব্য ‘সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক’ নিয়ে। ১৯৭০ সালে ফিলিস্তিনের ব্ল্যাক সেপ্টেম্বরের মতো ইরানও এখন চোরাগোপ্তা হামলা এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের পথ বেছে নিতে পারে। ইরানের গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক পিএলওর চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী ও বিপজ্জনক।

ডেভিড ইগনাটলাসের মতে, ইরানের পরিবর্তন যদি কোনোদিন আসে, তা কেবল ইরানি জনগণের মাধ্যমেই আসবে। বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপ কেবল রক্তপাত এবং প্রতিশোধের চক্রকেই দীর্ঘায়িত করবে। আমেরিকা হয়তো যুদ্ধে জিতেছে, কিন্তু শান্তি এখনো বহুদূর।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

অপারেশন থিয়েটারে মির্জা আব্বাস, মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার

ভৈরবে ১ কোটি ৮৫ হাজার টাকাসহ আটক দুই স্বর্ণকার, ২১ ঘণ্টা পর মুক্ত

চট্টগ্রামে ৭ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাইবার আইনে মামলা

ম্যানেজিং কমিটিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিলের প্রশ্নই ওঠে না: শিক্ষামন্ত্রী

হিজবুল্লাহর লাগাম টানতে চায় লেবাননের রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সেনাবাহিনীর না

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত