
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের দ্বিতীয় সপ্তাহে এসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক জটিল ও বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। একদিকে তিনি তড়িঘড়ি করে ‘বিজয়’ ঘোষণা করতে চাইছেন, অন্যদিকে যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ তাঁর হাত থেকে ফসকে যাওয়ার সংকেত মিলছে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই মুহূর্তে যুদ্ধ থেকে সরে আসা বা এতে আটকে থাকা—উভয়ই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগত ও অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যয়কর হতে পারে।
যুদ্ধের ১২ তম দিনে এসে ট্রাম্পের জয়ী হতে না পারার পেছনে সাতটি মৌলিক কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। নিচে তার বিস্তারিত তুলে ধরা হলো—
হরমুজ প্রণালির সামরিক ধাঁধা
মার্কিন সামরিক বাহিনীর ব্যাপক শ্রেষ্ঠত্ব থাকলেও হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়ে ইরান প্রমাণ করেছে, সব সমস্যার সমাধান সহিংসতা বা যুদ্ধ দিয়ে সম্ভব নয়। বিশ্বের মোট তেলের এক-পঞ্চমাংশ এই সরু পথ দিয়ে সরবরাহ করা হয়। মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক ক্যাপ্টেন লরেন্স ব্রেনান বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত করতে না পারলে তাকে বিজয় বলা যায় না। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি প্রায় অসম্ভব একটি কাজ। সস্তা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইরান এই পথ বন্ধ রাখতে সক্ষম হচ্ছে, যার কোনো সহজ সামরিক সমাধান পেন্টাগনের হাতে নেই।’
সর্বোচ্চ নেতার নতুন সমীকরণ
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানে ‘শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন’ বা রেজিম চেঞ্জের যে স্বপ্ন দেখেছিল, তা ধাক্কা খেয়েছে। নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনির দায়িত্ব গ্রহণ ট্রাম্পের সাফল্যের বয়ানকে ম্লান করে দিয়েছে। ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি জেক অচিনক্লস মনে করেন, নতুন এই নেতা তাঁর বাবার চেয়েও অনেক বেশি কট্টরপন্থী এবং চরমপন্থী। এটি প্রথাগত সামরিক বিজয়কে একটি কৌশলগত ব্যর্থতায় রূপান্তর করেছে।
ইসরায়েলের নিজস্ব লক্ষ্য ও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের মানসিকতা
ট্রাম্প রাজনৈতিক কারণে দ্রুত যুদ্ধ শেষ করতে চাইলেও মিত্র দেশ ইসরায়েল তা হয়তো মানবে না। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ইসরায়েল দীর্ঘস্থায়ী বা ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধে’ অভ্যস্ত। ইতিমধ্যে দেখা গেছে, ইসরায়েল যখন ইরানের তেল অবকাঠামোতে বোমা হামলা চালায়, তখন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত লক্ষ্যের সঙ্গে তাদের মতপার্থক্য তৈরি হয়। ফলে ট্রাম্পের ‘যৌথ সিদ্ধান্ত’ গ্রহণের প্রক্রিয়ায় বিদেশি রাষ্ট্রের প্রভাব নিয়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।
যুদ্ধের অসংলগ্ন বর্ণনা
হোয়াইট হাউস শুরু থেকেই যুদ্ধের লক্ষ্য নিয়ে একেক সময় একেক কথা বলছে। কোনো একক ও সুসংগত যুদ্ধের আখ্যান বা ‘নারেটিভ’ না থাকায় বিজয় দাবি করা ট্রাম্পের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে যখন যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি তাঁর নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে, তখন একে জয় হিসেবে চালিয়ে দেওয়া রাজনৈতিকভাবে কঠিন।
পারমাণবিক কর্মসূচি ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ
ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করেছেন। তিনি গত বছরও এমন দাবি করেছিলেন। কিন্তু জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থার মতে, ইসফাহান পরমাণু কেন্দ্রে এখনো প্রায় ২০০ কেজি উচ্চ মাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে। বিশাল স্থল অভিযান চালিয়ে এই তেজস্ক্রিয় পদার্থ উদ্ধার বা ধ্বংস করা ছাড়া ওয়াশিংটন কখনোই নিশ্চিত হতে পারবে না যে ইরানের পারমাণবিক স্বপ্ন শেষ হয়েছে। ট্রাম্পের বলেছেন, তিনি ইরানে স্থল অভিযান চালানোর বিষয়টি বিবেচনায় রেখেছেন। কিন্তু অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, ইরানে মার্কিন স্থল অভিযান হবে ‘আত্মঘাতী’।
ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থবিরতা
যুদ্ধ শুরুর সময় ট্রাম্প ইরানি জনগণকে ‘মুক্তির ঘণ্টা’ বাজার আশ্বাস দিয়ে বিদ্রোহ করার ডাক দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত ইরানে তেমন কোনো গণ-অভ্যুত্থানের লক্ষণ নেই। উল্টো আশঙ্কা করা হচ্ছে, হামলা বন্ধ হলে বর্তমান শাসনব্যবস্থা আরও কঠোরভাবে সাধারণ মানুষের ওপর দমন-পীড়ন চালাবে। অর্থাৎ ট্রাম্পের বাগাড়ম্বরের তুলনায় মাঠের বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন।
আমেরিকার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি
যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল, যা বর্তমানে ৮০ থেকে ১০০ ডলারে উঠানামা করছে। মার্কিনিদের দৈনন্দিন পারিবারিক বাজেট এবং পেট্রলের দামের ওপর এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে। এ ছাড়া নিজ দেশে ভার্জিনিয়া ও মিশিগানের মতো জায়গায় সহিংস ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে। যুদ্ধের কারণে মার্কিনিরা নিজেদের কতটা নিরাপদ বোধ করছে, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে সংশয়।
১৯৪৫ সালে নাৎসি জার্মানি বা জাপানের বিরুদ্ধে আমেরিকার যে বিজয় এসেছিল, বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে তার কোনো মিল নেই। বরং ট্রাম্প এক ‘ইচ্ছাকৃত যুদ্ধের’ (War of choice) ফাঁদে পড়েছেন। এখন যদি তিনি জয়ী বেশে দ্রুত বেরিয়ে আসতে না পারেন, তবে দীর্ঘমেয়াদি এই সংঘাতে অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রতিপক্ষ ইরানের টিকে থাকার লড়াইয়ের কাছে হোয়াইট হাউসকে হার মানতে হতে পারে।
সিএনএন থেকে সংক্ষেপে অনুদিত

ইরান শুধু জ্বালানি সরবরাহের ওপরই আঘাত হানছে না। তাদের ড্রোন ও মিসাইলগুলো উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শিল্পখাতেও গভীর প্রভাব ফেলেছে—প্রযুক্তি কোম্পানি থেকে শুরু করে এয়ারলাইনস পর্যন্ত। তারা আমাজনের ডেটা সেন্টার, দুবাই বিমানবন্দর এবং বেশ কয়েকটি উপসাগরীয় দেশের
২ ঘণ্টা আগে
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র ও বৈশ্বিক অর্থনীতির ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে। যুদ্ধের দুই সপ্তাহ পার হতে না হতেই ইরানে এক নতুন নেতৃত্ব এসেছে। আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র মোজতবা খামেনি সুপ্রিম লিডার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
২ ঘণ্টা আগে
রাতের অন্ধকার আকাশ চিরে কমলা রঙের ক্ষুদ্র আলোর বিন্দুগুলো ছুটে যাচ্ছে, আর পেছনে বাজছে বিমান হামলার সতর্ক সাইরেন। এটি এক অস্বস্তিকর দৃশ্য, যা ইসরায়েলে যুদ্ধের এক নিয়মিত বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়েছে। কারণ, ইরান ক্রমশ তার কিছু ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ওয়ারহেডে ক্লাস্টার মিউনিশন সংযোজন করছে, যার লক্ষ্য
৭ ঘণ্টা আগে
‘তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ’ এখন আর হেলাফেলায় ছুড়ে ফেলার মতো শব্দবন্ধ নয়। সাম্প্রতিক সময়ে এই যুদ্ধ আসন্ন—এমন ঘোষণা দেওয়া রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান বর্তমান যুদ্ধও এর ব্যতিক্রম নয়। ব্রিটিশ গণমাধ্যমে আলোচনা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান যদি ইরানে বোমা হামলার...
৯ ঘণ্টা আগে