
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলে বেড়াচ্ছেন, ইরান এ যুদ্ধের ইতি টানতে মরিয়া হয়ে উঠেছে; তারা চুক্তি চাইছে। তবে ইরানের দিক থেকে প্রকাশ্যে এমন কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। এই যুদ্ধ শুরুর ঠিক আগে নিজের কূটনৈতিক চেষ্টাকে নিজে ধ্বংস করেছেন ট্রাম্প। এর মধ্য দিয়ে তিনি যে সংকটের সূচনা করেছেন, তা থেকে তিনি সহসা বেরিয়ে আসতে পারবেন এবং ইরান এতে সাহায্য করবে, সে লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না।
গত বুধবার সন্ধ্যায় কংগ্রেস সদস্যদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা (ইরান) খুব করে একটি চুক্তি করতে চায়। কিন্তু তারা এটি বলতে ভয় পাচ্ছে। কারণ তারা মনে করে, যুদ্ধবিরতি হলে নিজেদের লোকেরাই তাদের (শাসকগোষ্ঠী) মেরে ফেলবে।
তারা এ-ও ভয় পাচ্ছে, তারা আমাদের হাতেও মারা পড়বে।’
ট্রাম্পের কথাবার্তা থেকে মনে হচ্ছিল, যুদ্ধবিরতি হতে পারে। তবে এর মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে সেনা উপস্থিতি বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প। সেনাদের যুদ্ধে পাঠানোর যেকোনো সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের জন্য একটি বিশাল ঝুঁকির কারণ হবে। ফলে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মার্কিন সেনা হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে। আর স্থল অভিযান শুরু হলে ট্রাম্পের এবারের ক্ষমতার আমল পুরোটাই যুদ্ধের মধ্যে শেষ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা সৃষ্টি হবে। আবার ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি যুদ্ধ থামাবেন। তবে বাস্তবতা হলো, তিনি নতুন একটি যুদ্ধ শুরু করেছেন এবং সেটা চার সপ্তাহ ধরে চলছে। এতে করে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা ম্লান হয়ে যাচ্ছে। কারণ ইতিমধ্যেই অনেক দেরি হয়ে গেছে।
বাস্তবতা সম্পর্কে জনগণের ধারণাকে নতুন রূপ দিয়ে ট্রাম্প সব সময় সফল হয়েছেন। এবার সফল হতে হলে সত্যিকারের কিছু দরকার। কারণ তিনি নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করা এবং তাঁকে নিয়ে ইরানের হাস্যরস থামাতে হলে সত্যিকার অর্থেই কিছু করতে হবে এবং এটা করতে পারলেই কেবল নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে পারবেন।
তবে এসব করার জন্য ট্রাম্পের হাতে আসলে খুব একটা সময়ও নেই। যুদ্ধের কারণে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক চাপ প্রতিদিনই বাড়ছে। ট্রাম্পের জন্য এখন এমন একটি মুহূর্ত ঘনিয়ে আসছে, যা তাঁকে ভিয়েতনাম ও ইরাক যুদ্ধের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিতে যাচ্ছে। এই যুদ্ধ থেকে প্রস্থানের পথ খুঁজতে গিয়ে যুদ্ধকে আরও তীব্র করতে হবে কি না, সে প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড়াতে যাচ্ছেন তিনি।
বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিলে এটা বলতেই হয়, ইরান তার নেতৃত্ব এবং সামরিক শিল্প কমপ্লেক্সের অনেকটাই হারিয়েছে, তবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর এত ধ্বংসাত্মক ক্ষমতার পরও, তারা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে আরও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে টেনে নিয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে।
এ সপ্তাহে যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের অনিশ্চিত দৃষ্টিভঙ্গি ফুটে উঠেছে। ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ধ্বংস করার হুমকি দেওয়া, সেখান থেকে পিছিয়ে আসা এবং যুদ্ধবিরতির জন্য আলোচনার ঘোষণা দেওয়ার মধ্য দিয়ে তা স্পষ্ট হয়েছে। একই সঙ্গে কূটনীতির মুলা ঝোলানোর আগে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর দিকে তাঁর দৃশ্যমান ঝোঁক একটি ভয়াবহ বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করে। এতে করে এটাও স্পষ্ট হয়ে ওঠে, এখানে শান্তিচুক্তির লক্ষণগুলো খুবই কম। আবার আরেকটি প্রশ্নও উঠছে, ট্রাম্পের ঘোষণা অনুসারে যুক্তরাষ্ট্র যদি ইতিমধ্যেই জিতে গিয়ে থাকে, তবে কেন তাঁরা এখনো লড়াই করছেন এবং হাজার হাজার মার্কিন মেরিন ও এয়ারবোর্ন সেনাকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠাচ্ছেন?
সাবেক মার্কিন মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচক অ্যারন ডেভিড মিলার বলেন, ‘যুদ্ধ থামাতে ইরানিরা এমন কিছু দাবি করতে যাচ্ছে, যা ডোনাল্ড ট্রাম্প দিতে প্রস্তুত নন। আর এটি তাঁকে এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি করছে, যেখানে শুধু হরমুজ প্রণালি খোলা নয়; বরং সেটাকে খোলা রাখতেও তাঁকে বড় ধরনের অভিযান চালাতে হতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, এই যুদ্ধ এখন একটি আন্তর্জাতিক সংকটে পরিণত হয়েছে। ট্রাম্পের বেছে নেওয়া যুদ্ধ এখন প্রয়োজনীয়তার যুদ্ধে পরিণত হয়েছে।
এটি প্রায় নিশ্চিতভাবেই সত্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হাজার হাজার বিমান হামলা ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ও নেতৃত্বকে ধ্বংস করে দিয়েছে এবং সেই নিপীড়নমূলক নিরাপত্তাব্যবস্থাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, যা এই শাসনব্যবস্থাকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রেখেছে। কিন্তু ট্রাম্পের বারবার বিজয়ের দাবি এই ইঙ্গিত দেয়, তার প্রতিপক্ষ সংঘাতকে কীভাবে দেখছে সে সম্পর্কে তাঁর ভুল ধারণা রয়েছে। আর এটি ঘুরেফিরে আলোচনায় তাঁর দর-কষাকষির অবস্থানকে দুর্বল করে দিতে পারে।
এদিকে ইরানের শাসনব্যবস্থার জন্য বাস্তবতা হলো, তারা প্রথাগত যুদ্ধে জিততে পারবে না। তবে যেকোনোভাবে এই যুদ্ধে টিকে থাকাটাই তাদের জন্য বিজয়। এর বাইরে তারা যুক্তরাষ্ট্র এবং বিশ্বের ওপর এতটাই কষ্ট চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে, যাতে পিছু হটা ছাড়া ট্রাম্পের কাছে আর কোনো বিকল্প না থাকে।
কূটনীতি শুরু হওয়ার আগে সব যুদ্ধকেই অমীমাংসযোগ্য মনে হয়। সেখানে আপস একটি বড় পথ খুলে দেয়, যেখানে শত্রুরা একবিন্দুতে মিলিত হতে পারে। তবে সংকট সমাধানের জন্য সে সময় ফুরিয়ে আসছে।
এদিকে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করায় ইতিমধ্যে অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। ইরানে স্থল অভিযান শুরু হলে এই অর্থনৈতিক সংকট আরও বড় হতে পারে। এই যুদ্ধ থামানোর আরেকটি বড় কারণ হলো, বিভিন্ন দেশের তেলের মজুত ফুরিয়ে যাওয়া। হরমুজ হয়ে যেসব দেশে তেল যায় তাদের মজুত ফুরিয়ে আসছে। এই জ্বালানির মজুত ফুরিয়ে গেলে ভয়ংকর সংকটে পড়বে বিশ্ব। মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তারা শিগগিরই একটি কার্যকর যোগাযোগ স্থাপন করতে না পারলে, এই যুদ্ধ বিপর্যয়করভাবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে উৎপাদিত ১৯০ মিলিয়ন ঘনমিটার হিলিয়ামের এক-তৃতীয়াংশই (৬৩ মিলিয়ন ঘনমিটার) সরবরাহ করে কাতার। গত ২ মার্চ কাতারের রাস লাফান ও মেসাইদ শিল্পাঞ্চলে ইরানি হামলার পর কাতারএনার্জি তাদের এলএনজি উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করে।
১০ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করেন। তাদের শ্রম শুধু দেশের রপ্তানি খাত গড়ে তোলেনি, তৈরি করেছে করভিত্তিও। এই শিল্প দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশির জোগান দেয় এবং মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১১ শতাংশ।
১২ ঘণ্টা আগে
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে অপারেশন ‘এপিক ফিউরি’ শুরুর প্রায় চার সপ্তাহ পার হতে চলেছে। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে আলোচনা করছে। যদিও ইরান বলছে, এমন কোনো আলোচনা হচ্ছে না। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে হাজার হাজার সেনা জড়ো করছে।
১৫ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ওয়াশিংটন ইরানের সঙ্গে ‘গঠনমূলক’ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রকাশ্যে ইরানি কর্মকর্তারা ট্রাম্পের এই দাবি নাকচ করে এটিকে তেলের দাম কমানো এবং বিশ্লেষকেরা এটিকে ‘সময়ক্ষেপণের’ উদ্দেশ্যে ছড়ানো ভুয়া খবর বলে অভিহিত করেছেন।
১৭ ঘণ্টা আগে