Ajker Patrika

কিশোরীর পেট থেকে ২ কেজির চুলের বল অপসারণ, জমেছিল যেভাবে

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২৫, ১৩: ৫৫
চীনে এক কিশোরীর পেট থেকে ২ কেজি ওজনের একটি চুলের বল অপসারণ করেছেন। ছবি: সংগৃহীত
চীনে এক কিশোরীর পেট থেকে ২ কেজি ওজনের একটি চুলের বল অপসারণ করেছেন। ছবি: সংগৃহীত

চীনে এক কিশোরীর পেট থেকে দুই কেজি ভরের চুলের এক বিশাল বল অপসারণ করেছেন চিকিৎসকেরা। ছয় বছর ধরে নিজের চুল টেনে খাওয়ার অভ্যাস থেকে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। হংকং থেকে প্রকাশিত ইংরেজি দৈনিক সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

খবরে বলা হয়েছে, গত জুলাই মাসে ১৫ বছর বয়সী নিনি (ছদ্মনাম) হেনান প্রদেশ থেকে মায়ের সঙ্গে পাশের প্রদেশ হুবেইয়ের উহানের শিশু হাসপাতালে যায়। চিকিৎসকেরা জানান, মেয়েটি অত্যন্ত শীর্ণকায়। তার উচ্চতা ছিল ৫ ফুট ২ ইঞ্চির মতো হলেও ওজন মাত্র ৩৫ কেজি। ছয় মাস ধরে তার মাসিকও বন্ধ ছিল।

তীব্র পেটব্যথায় খাওয়া-দাওয়াও প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল নিনির। ব্যথায় অজ্ঞান হওয়ার উপক্রম হলে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরীক্ষায় জানা যায়, শরীরে গুরুতর রক্তস্বল্পতাও রয়েছে। এ অবস্থায় আরও পরীক্ষা নিরীক্ষা করে চিকিৎসকেরা নিনির পেটে বিশালাকার চুলের বল খুঁজে পান। চুলের সঙ্গে খাবারের অবশিষ্টাংশ মিশে তৈরি হওয়া ওই বল প্রায় পুরো পেট জুড়ে ছিল। চিকিৎসকেরা এটিকেই তার সব অসুস্থতার মূল কারণ হিসেবে শনাক্ত করেন।

নিনির মা চিকিৎসকদের জানান, মেয়ে ৬ বছর ধরে নিজের চুল খেয়ে আসছে। ১৪ জুলাই চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ওই চুলের বলটি অপসারণ করেন। অপারেশনের সময় দেখা যায়, নিনির পেট স্বাভাবিক আকারের তুলনায় দ্বিগুণ ফুলে গেছে।

অস্ত্রোপচারের পাঁচ দিন পর নিনি স্বাভাবিকভাবে খাবার খাওয়া শুরু করে। ৫ আগস্ট স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে চিকিৎসকেরা জানান, মেয়েটি ভালোভাবে সেরে উঠেছে। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার সময় নিনি মিষ্টি দিয়ে তৈরি ফুলের তোড়া উপহার দিয়ে চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। তার মা জানান, মেয়ের ওজনও ধীরে ধীরে বাড়ছে।

চিকিৎসকেরা বলেন, যদি কোনো শিশু এক মাসের বেশি সময় ধরে খাবার হিসেবে খাওয়ার অযোগ্য জিনিস—যেমন চুল বা কাচ—খেতে থাকে এবং সেটি বন্ধ করতে না পারে, তবে অভিভাবকদের সতর্ক হয়ে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া উচিত। এ ধরনের সমস্যাকে বলা হয় ‘ট্রাইকোফাজিয়া।’

চীনের জিয়াংসু প্রদেশের নানজিংয়ের জিনলিং হাসপাতালের চিকিৎসক লিউ ফ্যাং জানান, ট্রাইকোফাজিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের সাধারণত খাদ্যাভ্যাস, মনোরোগ চিকিৎসা ও ওষুধের সমন্বয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তার ভাষায়, রোগীদের ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার খেতে পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি ভুল ধারণা সংশোধনের মাধ্যমে তাদের আচরণ পরিবর্তনে কাজ করা হয়। প্রয়োজন হলে তাদের তরল ওষুধও দেওয়া হয়, যাতে শারীরিক অবস্থার উন্নতি ঘটে।

লিউ আরও বলেন, কিছু ক্ষেত্রে ঐতিহ্যবাহী চীনা চিকিৎসা ও ফিজিওথেরাপিও ব্যবহার করা হয় রোগীর উপসর্গ কমানোর জন্য।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত