মুহাম্মদ শফিকুর রহমান

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার আলগী বাজার উচ্চবিদ্যালয়ের গণিত বিষয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আরিফুল ইসলাম। শিক্ষকতার পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং করে দারুণ সফল এই তরুণ শিক্ষক। ফাইবার ও আপওয়ার্কে তিনি টপ রেটেড সেলার। প্রতি মাসে তাঁর আয় ১ লাখ ৭৭ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকার মধ্যে ওঠানামা করে।
পারিবারিক প্রেক্ষাপট
আরিফুলের বাড়ি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের কালিরখামার গ্রামে। তাঁর
বাবা কোরআনে হাফেজ ও কৃষিকাজ করেন। দুই ভাই, দুই বোনের মধ্যে আরিফুল বড়। তিনি স্ত্রী,
এক সন্তানকে নিয়ে বর্তমানে নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার চর আলগী বাজার এলাকায় বসবাস করেন।
কঠোর পরিশ্রমের গল্প
শুরুতে অনেকে বলতেন, শিক্ষক হয়ে ফ্রিল্যান্সিং! এতে কী আর হবে? কিন্তু আরিফুল ধৈর্য ধরতে থাকেন। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি কোডম্যানবিডি সংস্থার কোর্সে যুক্ত হন। প্রতিদিন সকালে টিউশনি, স্কুলে পাঠদান, বিকেলে আবার টিউশনি এবং রাতে কোডম্যানবিডির ক্লাস ও অনুশীলন—এই কঠোর সময়সূচির মধ্যেই তিনি ফ্রিল্যান্সিং শেখার কাজ করতে থাকেন। প্রধান শিক্ষক এবং সহকর্মীরা সে সময় তাঁকে উৎসাহিত ও সহায়তা করেছিলেন।
কোর্স শুরু করার পর মাত্র ছয় মাসের মধ্যে
তিনি প্রথম উপার্জন করেন। ফাইবারে অ্যাকাউন্ট খোলার পাঁচ দিনের মধ্যে প্রথম ৫ ডলারের কাজ পাওয়া তাঁর আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়। শিক্ষকতার দায়িত্ব শেষের অবশিষ্ট সময়টুকু তিনি ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজে ব্যয় করতেন।
ফ্রিল্যান্সিং ও দক্ষতার জগৎ
ছাত্র পড়ানো থেকে যে আয় হতো, তা দিয়ে সংসারের প্রয়োজন মেটানো ছিল কষ্টকর। সহকর্মীর পরামর্শে তিনি ফ্রিল্যান্সিং শুরু করেন। আরিফুল একজন ইথিক্যাল হ্যাকার ও সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্ট। হ্যাকড ওয়েবসাইট পুনরুদ্ধার, ম্যালওয়ার ও ভাইরাস পরিষ্কার, ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পেনিট্রেশন টেস্টিং—এসব কাজেই তিনি বেশ দক্ষ। তিনি কোডম্যানবিডিতে সাপোর্ট মেম্বার হিসেবে শিক্ষার্থীদের সহায়তাও করে থাকেন।
চ্যালেঞ্জ ও সাফল্য
গ্রামে কম্পিউটার ও ইন্টারনেটের সীমাবদ্ধতা, লোডশেডিং—সব চ্যালেঞ্জের মধ্যেও তিনি কাজ করেছেন এবং করছেন। প্রথম ৫ ডলারের কাজ থেকে এখন তাঁর মাসিক আয় ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করে। ২০২৪ সালে সর্বোচ্চ আয় হয়েছে ৩ হাজার ৮৪০ ডলার। আয়ের প্রায় ২৫ শতাংশ তিনি সমাজসেবায় ব্যয় করে থাকেন।
একবার মনিটর নষ্ট হলে অস্ট্রেলিয়ান ক্লায়েন্ট ২৫০ ডলার পাঠিয়ে সাহায্য করেছিলেন। এ ঘটনা আরিফুলের মনোবল আরও বাড়িয়ে দেয়।
আরিফুলের পরামর্শ
সাইবার প্রতারণা থেকে রক্ষা পেতে—
» সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক না করা
» অচেনা যোগাযোগ এড়ানো
» নিয়মিত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন
» গুরুত্বপূর্ণ তথ্য কাউকে না দেওয়া।
তরুণদের ফ্রিল্যান্সিংয়ে ভালো করতে হলে কিছু সাধারণ ভুল এড়াতে হবে বলে সতর্ক করেন আরিফুল। ভুলগুলো হলো—
» দ্রুত আয়ের আশা করা
» নিয়মিত অনুশীলন না করা
» ইংরেজি ভাষা শেখার বিষয়টি উপেক্ষা করা
» একাধিক দক্ষতায় দক্ষ হয়ে না ওঠা
» সহজে হাল ছেড়ে দেওয়া
» ভুল গাইডলাইন অনুসরণ
» প্রফেশনাল আচরণ না জানা।
ভবিষ্যতে আরিফুল ইসলাম এলাকার বেকারদের ফ্রিল্যান্সিং শিখিয়ে দক্ষ করে তুলতে চান। এ জন্য একটি দক্ষ টিম তৈরি করে দেশ-বিদেশে কাজ করার স্বপ্ন দেখেন তিনি।

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার আলগী বাজার উচ্চবিদ্যালয়ের গণিত বিষয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আরিফুল ইসলাম। শিক্ষকতার পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং করে দারুণ সফল এই তরুণ শিক্ষক। ফাইবার ও আপওয়ার্কে তিনি টপ রেটেড সেলার। প্রতি মাসে তাঁর আয় ১ লাখ ৭৭ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকার মধ্যে ওঠানামা করে।
পারিবারিক প্রেক্ষাপট
আরিফুলের বাড়ি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের কালিরখামার গ্রামে। তাঁর
বাবা কোরআনে হাফেজ ও কৃষিকাজ করেন। দুই ভাই, দুই বোনের মধ্যে আরিফুল বড়। তিনি স্ত্রী,
এক সন্তানকে নিয়ে বর্তমানে নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার চর আলগী বাজার এলাকায় বসবাস করেন।
কঠোর পরিশ্রমের গল্প
শুরুতে অনেকে বলতেন, শিক্ষক হয়ে ফ্রিল্যান্সিং! এতে কী আর হবে? কিন্তু আরিফুল ধৈর্য ধরতে থাকেন। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি কোডম্যানবিডি সংস্থার কোর্সে যুক্ত হন। প্রতিদিন সকালে টিউশনি, স্কুলে পাঠদান, বিকেলে আবার টিউশনি এবং রাতে কোডম্যানবিডির ক্লাস ও অনুশীলন—এই কঠোর সময়সূচির মধ্যেই তিনি ফ্রিল্যান্সিং শেখার কাজ করতে থাকেন। প্রধান শিক্ষক এবং সহকর্মীরা সে সময় তাঁকে উৎসাহিত ও সহায়তা করেছিলেন।
কোর্স শুরু করার পর মাত্র ছয় মাসের মধ্যে
তিনি প্রথম উপার্জন করেন। ফাইবারে অ্যাকাউন্ট খোলার পাঁচ দিনের মধ্যে প্রথম ৫ ডলারের কাজ পাওয়া তাঁর আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়। শিক্ষকতার দায়িত্ব শেষের অবশিষ্ট সময়টুকু তিনি ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজে ব্যয় করতেন।
ফ্রিল্যান্সিং ও দক্ষতার জগৎ
ছাত্র পড়ানো থেকে যে আয় হতো, তা দিয়ে সংসারের প্রয়োজন মেটানো ছিল কষ্টকর। সহকর্মীর পরামর্শে তিনি ফ্রিল্যান্সিং শুরু করেন। আরিফুল একজন ইথিক্যাল হ্যাকার ও সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্ট। হ্যাকড ওয়েবসাইট পুনরুদ্ধার, ম্যালওয়ার ও ভাইরাস পরিষ্কার, ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পেনিট্রেশন টেস্টিং—এসব কাজেই তিনি বেশ দক্ষ। তিনি কোডম্যানবিডিতে সাপোর্ট মেম্বার হিসেবে শিক্ষার্থীদের সহায়তাও করে থাকেন।
চ্যালেঞ্জ ও সাফল্য
গ্রামে কম্পিউটার ও ইন্টারনেটের সীমাবদ্ধতা, লোডশেডিং—সব চ্যালেঞ্জের মধ্যেও তিনি কাজ করেছেন এবং করছেন। প্রথম ৫ ডলারের কাজ থেকে এখন তাঁর মাসিক আয় ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করে। ২০২৪ সালে সর্বোচ্চ আয় হয়েছে ৩ হাজার ৮৪০ ডলার। আয়ের প্রায় ২৫ শতাংশ তিনি সমাজসেবায় ব্যয় করে থাকেন।
একবার মনিটর নষ্ট হলে অস্ট্রেলিয়ান ক্লায়েন্ট ২৫০ ডলার পাঠিয়ে সাহায্য করেছিলেন। এ ঘটনা আরিফুলের মনোবল আরও বাড়িয়ে দেয়।
আরিফুলের পরামর্শ
সাইবার প্রতারণা থেকে রক্ষা পেতে—
» সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক না করা
» অচেনা যোগাযোগ এড়ানো
» নিয়মিত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন
» গুরুত্বপূর্ণ তথ্য কাউকে না দেওয়া।
তরুণদের ফ্রিল্যান্সিংয়ে ভালো করতে হলে কিছু সাধারণ ভুল এড়াতে হবে বলে সতর্ক করেন আরিফুল। ভুলগুলো হলো—
» দ্রুত আয়ের আশা করা
» নিয়মিত অনুশীলন না করা
» ইংরেজি ভাষা শেখার বিষয়টি উপেক্ষা করা
» একাধিক দক্ষতায় দক্ষ হয়ে না ওঠা
» সহজে হাল ছেড়ে দেওয়া
» ভুল গাইডলাইন অনুসরণ
» প্রফেশনাল আচরণ না জানা।
ভবিষ্যতে আরিফুল ইসলাম এলাকার বেকারদের ফ্রিল্যান্সিং শিখিয়ে দক্ষ করে তুলতে চান। এ জন্য একটি দক্ষ টিম তৈরি করে দেশ-বিদেশে কাজ করার স্বপ্ন দেখেন তিনি।

ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ডিজিটাল নিবন্ধন ও আইডি কার্ড ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে সরকার। এর ফলে ফ্রিল্যান্সাররা সরকার স্বীকৃত ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ড পাবেন, যা ব্যাংকিং সেবা, ঋণ ও ক্রেডিট সুবিধা, আর্থিক প্রণোদনা ও সরকারি-বেসরকারি প্রশিক্ষণে সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করবে এবং পেশাগত মর্যাদা...
১৫ ঘণ্টা আগে
দেশের সাধারণ মানুষের হাতে স্মার্টফোন পৌঁছে দিতে এবং ডিজিটাল সেবা আরও সহজলভ্য করতে বড় ধরনের পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। বিশেষ করে কাগজের নোট ছাপানো ও ব্যবস্থাপনায় বছরে রাষ্ট্রের ব্যয় হয় প্রায় ৫০০ কোটি টাকা।
১ দিন আগে
ইরানের চলমান বিক্ষোভ তীব্র হতে শুরু করলেই দেশটিতে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেয় সরকার। এরপরও ইলন মাস্কের রকেট কোম্পানি স্পেসএক্সের মালিকানাধীন স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবাদাতা স্টারলিংক ব্যবহার করে অনেকে বিক্ষোভের তথ্য বহির্বিশ্বের কাছে পৌঁছে দিচ্ছিল।
১ দিন আগে
প্রযুক্তি নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত এবং বড় আয়োজন কনজ্যুমার ইলেকট্রনিকস শো (সিইএস)। এটি হলো প্রযুক্তির বাণিজ্যিক প্রদর্শনী, যা প্রতিবছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে অনুষ্ঠিত হয়। পুরো বিশ্বের প্রযুক্তি উদ্ভাবকেরা এখানে আসেন তাঁদের অভিনব সব উদ্ভাবন নিয়ে।
১ দিন আগে