Ajker Patrika

‘পাটা এবং পুতার মাঝখানে পড়ে খেলোয়াড়-কোচ যেন ভর্তা না হয়ে যায়’

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
‘পাটা এবং পুতার মাঝখানে পড়ে খেলোয়াড়-কোচ যেন ভর্তা না হয়ে যায়’
বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল গতকাল অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিরেই চলে যান মিরপুরে। প্রধান কোচ ফিল সিমন্স ও টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও ছিলেন সেখানে। ছবি: বিসিবি

দেশের ক্লাব ক্রিকেট যে থমকে আছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নীতিনির্ধারকদের দাবি, তাঁরা লিগ আয়োজনে প্রস্তুত। কিন্তু কিছু ক্লাব ক্রিকেটারদের জিম্মি করে রেখেছে বলে অভিযোগ তাঁদের। ওদিকে বর্তমান বোর্ড বিরোধী ক্লাবগুলোর সিদ্ধান্ত—যাদের তারা ‘অবৈধ ’ মনে করে, তাদের অধীনে কোনো ক্রিকেট নয়। ক্ষমতার এই লড়াইয়ের মাঝে অসহায় সময় পার করছেন ক্রিকেটাররা।

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এখন দলবদলের কাজ শেষে শুরু হতো ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল)। তবে এখন পর্যন্ত ডিপিএল মাঠেই গড়াতে পারেনি। ক্রিকেটাররাও সামাজিক মাধ্যমে ডিপিএল নিয়ে হা-হুতাশ করেছেন। বাংলাদেশের সাবেক ক্রিকেটার ও ঘরোয়া ক্রিকেটের কোচ রাজিন সালেহ সামাজিক মাধ্যমে শ্লেষাত্মক পোস্ট দিয়েছেন। ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, ‘ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ।পাটা এবং পুতার মাঝখানে পড়ে খেলোয়াড়-কোচ যেন ভর্তা না হয়ে যায়।’

বিসিবি সহসভাপতি ফারুক আহমেদের মতে ক্লাব ক্রিকেট না হলে ক্রিকেটাররাই হবেন আসল ভুক্তভোগী। ফারুক বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট যে জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে, ক্লাব ক্রিকেটের গুরুত্বপূর্ণ অবদান আছে। আমরা উঠেছি ক্লাব ক্রিকেট থেকে। দলগুলো কেন খেলতে চায় না, জানি না। বোধগম্য না। হয়তোবা এটা তাঁরা একটু রাজনীতি এনেছেন এখানে যে এই বোর্ড, এই বোর্ড...বোর্ড তো একটা সংস্থা। এই যে ধারা চালু হয়ে গেল (ক্রিকেটারদের জিম্মি করা), এই ট্রেন্ড যে যারা এখন খেলতে চাচ্ছেন না তারা যদি কখনো ক্ষমতায় আসেন, আবার যদি একই দৃশ্য দেখা যায় (ক্রিকেটারদের জিম্মি), বাংলাদেশ ক্রিকেট খুব বেশি এগোতে পারবে না। এখন ক্লাবগুলো যদি খেলে ভালো, না খেললে তো আসলে আমাদেরই ক্ষতি।’

ক্রিকেটারদের রাজনীতিতে জড়ানোর ঘটনা নতুন কিছু নয়। তবে খেলোয়াড়দের খেলোয়াড়ি জীবনে জড়াতে নিরুৎসাহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর কথার সঙ্গে পুরোপুরি একমত বিসিবি সহসভাপতি ফারুক আহমেদ। আজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খেলোয়াড়দের মাসিক ভাতা দেওয়ার ঘোষণার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল, বিসিবি সহসভাপতি ফারুক, সাবেক পরিচালক মাহবুব আনাম, সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালসহ ক্রীড়াঙ্গনের অনেক সংগঠকই। ক্রিকেটারদের খেলা চলাকালীন অবস্থায় রাজনীতিতে আসা উচিত না—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কথার সঙ্গে একমত কি না এই প্রশ্নের উত্তরে ফারুক বলেন, ‘আমি অবশ্যই মনে করি একমত। আমার ব্যক্তিগত অভিমত দিচ্ছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তিনি তাঁরটা বলেছেন। আমার মতে তারকাখ্যাতিকে কাজে লাগিয়ে রাজনীতি করা উচিত না।’

ফারুকের মতে, আইন করে খেলোয়াড়দের রাজনীতিতে আসা বন্ধ করা উচিত। বিসিবি সহসভাপতি আজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘খেলা ছাড়ার পরে রাজনীতিতে আসার দুনিয়ায় অনেক উদাহরণ আছে। আপনি খেলা ছাড়বেন, এক সময় রাজনীতি করবেন। আমাদের কিছু খেলোয়াড় যাঁরা এই সমস্যায় ভুগছেন। নাম বলার প্রয়োজন মনে করি না আমি। এটা যেন আর আমরা দেখতে না পাই।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত