তানিম আহমেদ, ঢাকা
জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জাতীয় পার্টির (জাপা) নড়াচড়ায় হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনীতি। দলটি নিষিদ্ধ করার দাবি উঠেছে আবারও। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, এর মূলে রয়েছে সুবিধার জন্য বারবার ভোল পাল্টানো জাপাকে ঘিরে তৈরি হওয়া সন্দেহ। সংস্কার, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) নিয়ে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অনৈক্যের সময় জাপার এই সক্রিয়তা কয়েকটি দল সন্দেহের চোখে দেখছে। দলগুলো মনে করছে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে জাপার হঠাৎ সক্রিয়তা স্বতঃস্ফূর্ত রাজনৈতিক তৎপরতা না হয়ে কোনো কৌশলগত সমঝোতার ফলও হতে পারে। নির্বাচন সামনে রেখে অতীতের মতো এবারও জাপাকে সামনে রেখে কলকাঠি নাড়া হচ্ছে।
রাজনীতিতে জাপার হঠাৎ সক্রিয় হয়ে ওঠাকে জামায়াত দেখছে ‘নতুন ষড়যন্ত্র’ হিসেবে। এনসিপি মনে করছে, জাপাকে নির্বাচনে নিয়ে আসার মাধ্যমে পতিত আওয়ামী লীগের লোকদের অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা হচ্ছে। তাদের নিয়ে ‘অংশগ্রহণমূলক’ নির্বাচনের অতীতের যে পরিকল্পনা, সেটি বাস্তবায়নের পথে অনেকে হাঁটার চেষ্টা করছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সক্রিয় থাকা আরও কয়েকটি দলও মনে করে, আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের জন্য জাপাকে মাঠে নামানোর চেষ্টা চলছে।
অবশ্য জাপা বলছে, আওয়ামী লীগকে টানার মতো অবস্থা তাদের নেই। এসব সন্দেহ তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।
১৯৯০-এর দশক থেকে দেশের রাজনীতিতে সুবিধার জন্য বারবার ভোল পাল্টেছে জাপা। দলটির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক স্বৈরশাসক এইচ এম এরশাদের মৃত্যুর পর গৃহবিবাদে বিভক্ত হলেও চরিত্রে তেমন একটা বদল হয়নি বলেই মনে করেন বিশ্লেষকেরা। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পরও দলটিতে ভাঙন হয়েছে। কিছুদিন আগে আনিসুল ইসলাম মাহমুদের নেতৃত্বে নতুন অংশ আত্মপ্রকাশ করেছে। অপর অংশের চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জি এম কাদের)। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের আমলে দলটি ‘গৃহপালিত বিরোধী দলের’ তকমা পেয়েছিল।
রাজনীতিতে জাপার সক্রিয় হওয়ার বিষয়ে দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘নির্বাচনে জাতীয় পার্টি অংশ নেবে। জনগণ ভোট না দিলে ভিন্ন চিন্তা, ভোট দিলে আমাদের অবস্থানে থাকব।’ জাপা আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে—এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে টানার মতো অবস্থান আমাদের নেই। এটা ষড়যন্ত্র। আমাদের মিছিল-মিটিংয়ে আওয়ামী লীগের কেউ কোনো দিন আসেনি।
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ। তাদের কার্যক্রম তারা করবে। আমরা কে তাদের টানতে যাব। এসব তকমা দেওয়ার জন্য বলা হচ্ছে।’
অবশ্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘হাসিনা তো একা লুটপাট ও দুঃশাসন করেনি। তাঁর জোটে জাতীয় পার্টি ছিল। হাসিনার কর্মকাণ্ডের দায় তাদেরও নিতে হয়। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে, দলটির শরিকেরা ও সহযোগীরাও সম-অপরাধী। এ ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়া সরকার বা নির্বাচন কমিশনের বিষয়। জাপার বিষয়ে মন্তব্য করায় প্রশাসন দিয়ে দমন করানো ঠিক নয়।’
গণ-অভ্যুত্থানে গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের পতনের পর সেনাপ্রধানের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে জাপার প্রতিনিধিও ছিলেন। তাঁরা সেদিন রাষ্ট্রপতির সঙ্গেও দেখা করেন। ৮ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টার শপথ অনুষ্ঠানেও দেখা গেছে জি এম কাদেরসহ দলটির প্রতিনিধিদের। পরে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে এক দফা সাক্ষাৎও করে দলটির প্রতিনিধিদল। এরপরই আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে জাপাকে নিষিদ্ধের দাবি ওঠে। এরপর কিছুদিন রাজনীতিতে একঘরে হয়ে যায় দলটি। এরই মধ্যে আনিসুল ইসলাম মাহমুদের নেতৃত্বে একটি পক্ষ আলাদা জাতীয় পার্টি করে।
নির্বাচন কমিশনের রোডম্যাপ অনুযায়ী আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ছাড়া নির্বাচন না করার ঘোষণা দিয়েছে জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন, এবি পার্টি, গণঅধিকার পরিষদসহ কয়েকটি দল। তবে বিএনপিসহ তার সমমনা দলগুলোর অবস্থান বিপরীত। এই অবস্থায় অনেকে মনে করছেন, ওই দলগুলোকে চাপে রাখার চেষ্টা হিসেবে জাপাকে সামনে আনা হচ্ছে।
একটি দলের একজন নেতা বলেন, সরকারের ভেতর একটি পক্ষ জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে এনে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিকল্পনা করছে। তাদের দাবি, এটি আন্তর্জাতিক চাপ। বিষয়টি আরও কিছুদিন পর পরিষ্কার হবে।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ রাসিন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ফ্যাসিস্ট হয়ে যাওয়ার পেছনে অন্যতম দোসর ও সহযোগী ছিল জাতীয় পার্টি। জাতীয় পার্টির মাধ্যমে পতিত আওয়ামী লীগের লোকদের নিয়ে একটি ইনক্লুসিভ নির্বাচনের পরিকল্পনা আগে থেকেই ছিল। সেটি বাস্তবায়নের পথে অনেকে হাঁটার চেষ্টা করছেন। তার নজির শুক্রবার দেখতে পেয়েছি। এই পাঁয়তারার নিন্দা জানাই আমরা।’
জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধের দাবিতে গত শুক্রবার রাজধানীতে বিক্ষোভ করে গণঅধিকার পরিষদ। বিকেলে দুই দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের পর রাতে ওই ঘটনার প্রতিবাদে গণঅধিকার পরিষদ মশাল মিছিল করে দলের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের নেতৃত্বে। সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লাঠিপেটায় গুরুতর আহত হন নুরসহ দলের ৪০ জনের বেশি নেতা-কর্মী। ওই ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের কথা জানিয়েছে সরকার।
বিএনপির নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ফ্যাসিবাদের প্রধান হলো হাসিনা। তাদের দোসর হলো জাতীয় পার্টি। এ ক্ষেত্রে দলটি সামনে থেকে আওয়ামী লীগের শক্তি ব্যবহার করতে পারে। এটা রাজনৈতিক কূটকৌশল। আওয়ামী লীগকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য হয়তো জাতীয় পার্টি গার্ডিয়ানশিপ নিচ্ছে। সে কারণে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী দলগুলো বিক্ষুব্ধ। ফ্যাসিবাদের সব সুযোগ-সুবিধা ভোগকারীদের জন্য ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তির ওপর হামলা মেনে নিতে পারেন না তাঁরা।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ জাপার হঠাৎ সক্রিয়তাকে ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসনের নতুন ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেন। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করে নির্বাচনকে অনিশ্চিত করার ষড়যন্ত্র হচ্ছে জাতীয় পার্টির মাধ্যমে। এটি সরকারের দুর্বলতা।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত ছিল জাতীয় পার্টির ইস্যুটি শুরুতেই নিষ্পত্তি করা। বিগত প্রতিটি অবৈধ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ছিল ফ্যাসিবাদের অন্যতম প্রধান সহযোগী, তাদের নিয়ে নড়াচড়া আজ হোক, কাল হোক, হতোই। জাতীয় পার্টি নিয়ে বর্তমান নড়াচড়াকে সরকারের ব্যর্থতা হিসেবে দেখি।’
জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জাতীয় পার্টির (জাপা) নড়াচড়ায় হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনীতি। দলটি নিষিদ্ধ করার দাবি উঠেছে আবারও। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, এর মূলে রয়েছে সুবিধার জন্য বারবার ভোল পাল্টানো জাপাকে ঘিরে তৈরি হওয়া সন্দেহ। সংস্কার, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) নিয়ে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অনৈক্যের সময় জাপার এই সক্রিয়তা কয়েকটি দল সন্দেহের চোখে দেখছে। দলগুলো মনে করছে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে জাপার হঠাৎ সক্রিয়তা স্বতঃস্ফূর্ত রাজনৈতিক তৎপরতা না হয়ে কোনো কৌশলগত সমঝোতার ফলও হতে পারে। নির্বাচন সামনে রেখে অতীতের মতো এবারও জাপাকে সামনে রেখে কলকাঠি নাড়া হচ্ছে।
রাজনীতিতে জাপার হঠাৎ সক্রিয় হয়ে ওঠাকে জামায়াত দেখছে ‘নতুন ষড়যন্ত্র’ হিসেবে। এনসিপি মনে করছে, জাপাকে নির্বাচনে নিয়ে আসার মাধ্যমে পতিত আওয়ামী লীগের লোকদের অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা হচ্ছে। তাদের নিয়ে ‘অংশগ্রহণমূলক’ নির্বাচনের অতীতের যে পরিকল্পনা, সেটি বাস্তবায়নের পথে অনেকে হাঁটার চেষ্টা করছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সক্রিয় থাকা আরও কয়েকটি দলও মনে করে, আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের জন্য জাপাকে মাঠে নামানোর চেষ্টা চলছে।
অবশ্য জাপা বলছে, আওয়ামী লীগকে টানার মতো অবস্থা তাদের নেই। এসব সন্দেহ তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।
১৯৯০-এর দশক থেকে দেশের রাজনীতিতে সুবিধার জন্য বারবার ভোল পাল্টেছে জাপা। দলটির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক স্বৈরশাসক এইচ এম এরশাদের মৃত্যুর পর গৃহবিবাদে বিভক্ত হলেও চরিত্রে তেমন একটা বদল হয়নি বলেই মনে করেন বিশ্লেষকেরা। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পরও দলটিতে ভাঙন হয়েছে। কিছুদিন আগে আনিসুল ইসলাম মাহমুদের নেতৃত্বে নতুন অংশ আত্মপ্রকাশ করেছে। অপর অংশের চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জি এম কাদের)। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের আমলে দলটি ‘গৃহপালিত বিরোধী দলের’ তকমা পেয়েছিল।
রাজনীতিতে জাপার সক্রিয় হওয়ার বিষয়ে দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘নির্বাচনে জাতীয় পার্টি অংশ নেবে। জনগণ ভোট না দিলে ভিন্ন চিন্তা, ভোট দিলে আমাদের অবস্থানে থাকব।’ জাপা আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে—এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে টানার মতো অবস্থান আমাদের নেই। এটা ষড়যন্ত্র। আমাদের মিছিল-মিটিংয়ে আওয়ামী লীগের কেউ কোনো দিন আসেনি।
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ। তাদের কার্যক্রম তারা করবে। আমরা কে তাদের টানতে যাব। এসব তকমা দেওয়ার জন্য বলা হচ্ছে।’
অবশ্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘হাসিনা তো একা লুটপাট ও দুঃশাসন করেনি। তাঁর জোটে জাতীয় পার্টি ছিল। হাসিনার কর্মকাণ্ডের দায় তাদেরও নিতে হয়। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে, দলটির শরিকেরা ও সহযোগীরাও সম-অপরাধী। এ ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়া সরকার বা নির্বাচন কমিশনের বিষয়। জাপার বিষয়ে মন্তব্য করায় প্রশাসন দিয়ে দমন করানো ঠিক নয়।’
গণ-অভ্যুত্থানে গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের পতনের পর সেনাপ্রধানের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে জাপার প্রতিনিধিও ছিলেন। তাঁরা সেদিন রাষ্ট্রপতির সঙ্গেও দেখা করেন। ৮ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টার শপথ অনুষ্ঠানেও দেখা গেছে জি এম কাদেরসহ দলটির প্রতিনিধিদের। পরে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে এক দফা সাক্ষাৎও করে দলটির প্রতিনিধিদল। এরপরই আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে জাপাকে নিষিদ্ধের দাবি ওঠে। এরপর কিছুদিন রাজনীতিতে একঘরে হয়ে যায় দলটি। এরই মধ্যে আনিসুল ইসলাম মাহমুদের নেতৃত্বে একটি পক্ষ আলাদা জাতীয় পার্টি করে।
নির্বাচন কমিশনের রোডম্যাপ অনুযায়ী আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ছাড়া নির্বাচন না করার ঘোষণা দিয়েছে জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন, এবি পার্টি, গণঅধিকার পরিষদসহ কয়েকটি দল। তবে বিএনপিসহ তার সমমনা দলগুলোর অবস্থান বিপরীত। এই অবস্থায় অনেকে মনে করছেন, ওই দলগুলোকে চাপে রাখার চেষ্টা হিসেবে জাপাকে সামনে আনা হচ্ছে।
একটি দলের একজন নেতা বলেন, সরকারের ভেতর একটি পক্ষ জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে এনে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিকল্পনা করছে। তাদের দাবি, এটি আন্তর্জাতিক চাপ। বিষয়টি আরও কিছুদিন পর পরিষ্কার হবে।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ রাসিন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ফ্যাসিস্ট হয়ে যাওয়ার পেছনে অন্যতম দোসর ও সহযোগী ছিল জাতীয় পার্টি। জাতীয় পার্টির মাধ্যমে পতিত আওয়ামী লীগের লোকদের নিয়ে একটি ইনক্লুসিভ নির্বাচনের পরিকল্পনা আগে থেকেই ছিল। সেটি বাস্তবায়নের পথে অনেকে হাঁটার চেষ্টা করছেন। তার নজির শুক্রবার দেখতে পেয়েছি। এই পাঁয়তারার নিন্দা জানাই আমরা।’
জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধের দাবিতে গত শুক্রবার রাজধানীতে বিক্ষোভ করে গণঅধিকার পরিষদ। বিকেলে দুই দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের পর রাতে ওই ঘটনার প্রতিবাদে গণঅধিকার পরিষদ মশাল মিছিল করে দলের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের নেতৃত্বে। সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লাঠিপেটায় গুরুতর আহত হন নুরসহ দলের ৪০ জনের বেশি নেতা-কর্মী। ওই ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের কথা জানিয়েছে সরকার।
বিএনপির নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ফ্যাসিবাদের প্রধান হলো হাসিনা। তাদের দোসর হলো জাতীয় পার্টি। এ ক্ষেত্রে দলটি সামনে থেকে আওয়ামী লীগের শক্তি ব্যবহার করতে পারে। এটা রাজনৈতিক কূটকৌশল। আওয়ামী লীগকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য হয়তো জাতীয় পার্টি গার্ডিয়ানশিপ নিচ্ছে। সে কারণে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী দলগুলো বিক্ষুব্ধ। ফ্যাসিবাদের সব সুযোগ-সুবিধা ভোগকারীদের জন্য ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তির ওপর হামলা মেনে নিতে পারেন না তাঁরা।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ জাপার হঠাৎ সক্রিয়তাকে ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসনের নতুন ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেন। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করে নির্বাচনকে অনিশ্চিত করার ষড়যন্ত্র হচ্ছে জাতীয় পার্টির মাধ্যমে। এটি সরকারের দুর্বলতা।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত ছিল জাতীয় পার্টির ইস্যুটি শুরুতেই নিষ্পত্তি করা। বিগত প্রতিটি অবৈধ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ছিল ফ্যাসিবাদের অন্যতম প্রধান সহযোগী, তাদের নিয়ে নড়াচড়া আজ হোক, কাল হোক, হতোই। জাতীয় পার্টি নিয়ে বর্তমান নড়াচড়াকে সরকারের ব্যর্থতা হিসেবে দেখি।’
এয়ারপোর্ট থেকে সরাসরি ঢাকা মেডিকেল যান এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সারজিস আলম। রাত ১১টায় দিকে হাসপাতালে পৌঁছে নাহিদ ইসলাম গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
৪ ঘণ্টা আগেচীন সরকারের আমন্ত্রণে পাঁচ দিনের সফর শেষে রোববার রাতে দেশে ফিরেছে আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে এনসিপির প্রতিনিধিদল। হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাদের স্বাগত জানান ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
৫ ঘণ্টা আগেতিন মাসের জন্য নির্বাহী কাউন্সিল গঠন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এই কাউন্সিলে ৫১ জন সদস্য স্থান পেয়েছেন। আজ রোববার (৩১ আগস্ট) এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানায় দলটি।
৬ ঘণ্টা আগেআগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হবে বলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিএনপিকে আস্বস্ত করেছেন। বৈঠকে জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধের ব্যাপারে কোনো আলোচনা হয়নি।
৮ ঘণ্টা আগে