
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আধিপত্যবাদের কোনো ষড়যন্ত্র বরদাশত করা হবে না, সবকিছু ছিন্নভিন্ন করে দেওয়া হবে। সবাইকে আরেকটি অনিবার্য লড়াইয়ের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
আজ শুক্রবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমির এসব কথা বলেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আজকে আমরা যে মঞ্চে দাঁড়িয়েছি, এই মঞ্চের সাথে দুইটা জিনিস কখনো যাবে না—একটা আধিপত্যবাদ, আরেকটা ফ্যাসিবাদ। এই দুইটাকে এই মঞ্চ কখনো কবুল করবে না, বরদাশত করবে না। এই মঞ্চে যাঁরা বসে আছেন, তাঁরা জাতির স্বার্থে দেশপ্রেম বুকে ধারণ করার কারণে তিলে তিলে জ্বলেছেন। তাঁরা প্রমাণ করেছেন—জীবন দেব, কিন্তু অন্যায়ের কাছে মাথা নত করব না।’
২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর খুনের রাজনীতি দিয়ে, মানুষের রক্ত দিয়ে হাত রাঙিয়ে হাসিনার রাজনীতির নতুন উত্থান হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ‘তাদের হাতে একসময় আমরা সকলেই মজলুম ছিলাম। রাজপথে আন্দোলন করেছি, সংগ্রাম করেছি। তাদেরই একটা অংশ আজকে সরকারে যাওয়ার পরে অতীতের সবকিছু ভুলে গিয়েছে। তারা জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলেই আজকে এই দাবি বাস্তবায়নের জন্য আমাদের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আসতে হয়েছে।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘গণভোটের প্রস্তাব তাঁদেরই (বিএনপির) একজন করেছিলেন। তাঁদের নেতা নির্বাচনী প্রচারে বলেছিলেন—“প্রিয় দেশবাসী, ভোট দেবেন দুইটা। একটা দেবেন আমাদের মার্কায়, আরেকটা দেবেন গণভোটে। আপনারা সকলে গণভোটে হ্যাঁ বলবেন।” অথচ এখন তাঁরা বলছেন গণভোট অবৈধ! আমরা পার্লামেন্টে জিজ্ঞেস করলাম—এটা কি নির্বাচনের পরে অবৈধ হলো নাকি আগেই অবৈধ ছিল? তাঁরা কখনো বলেন চারটার মধ্যে সাড়ে তিনটা মানি, আবার কখনো বলেন পুরাটাই অবৈধ। আমরা পার্লামেন্টে বলেছি, একই আদেশে দুইটা ভোট হয়েছে; গোশত হালাল কিন্তু শোরবা হারাম—এই সুবিধাবাদী মানসিকতা আমরা মানি না। মুক্তিযুদ্ধকে স্মরণ করে দয়া করে রায়টা মেনে নেন।’
শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘এই রায় মেনে নিলে আমরা এই স্টেজে দাঁড়িয়ে এই দাবিতে আর বক্তব্য দেব না। কিন্তু যদি না মানেন, মহান আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলছি, এই রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন থামবে না। আন্দোলন চলবে সংসদে, আন্দোলন চলবে রাজপথে।’
ফ্যাসিবাদীরা বিভিন্ন বয়ান তৈরি করে জাতিকে বিভক্ত করেছিল মন্তব্য করে জামায়াত আমির বলেন, ‘আপনারা নির্বাচনের আগে বলেছিলেন, ‘নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করলে সবাইকে নিয়ে দেশ চালাবেন। এখন আপনারা কী করছেন? এক দলকে পাঠাচ্ছেন পাকিস্তানে, আরেক দলকে পেশোয়ারে, অন্যদলকে অন্য কোনো দেশে। আর নিজেরা দেশের জমিদারি দখল করতে চাচ্ছেন।’
জামায়াত আমির হুঁশিয়ারি দেন, ‘মনে রাখবেন, জুলাইয়ের দুইটা স্লোগান ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। একটা ছিল—‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, আর অন্যটা ছিল—‘দেশটা কারও বাপের নয়’। এ দেশ বাংলাদেশের জনগণের।
আধিপত্যবাদের দোসরদের তাড়াতে গিয়ে শত শত আলেমওলামা বুকের তাজা রক্ত আর জীবন দিয়ে দেশবাসীকে মুক্তি এনে দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা সেই আলেমদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করব না। আমাদের যুবসমাজ, শ্রমিক, কৃষক এমনকি চার বছরের শিশু জীবন দিয়ে আমাদের ঋণী করে গিয়েছে। আমরা তাদের কথা দিচ্ছি—তোমাদের সাথে বেইমানি করব না। তোমাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা অবিচল থাকব।’
জনগণের বিজয় হবেই মন্তব্য করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘যে ৭০ ভাগ জনগণ গণভোটে “হ্যাঁ” বলে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে, বিজয় তাদেরই হবে। নতুন করে কেউ ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চাইলে তাঁদের বলব—নিকট অতীতে যাঁদের বুকে টেনে নিয়ে, হাতে-পায়ে ধরে, ইঞ্জিনিয়ারিং করে আপনারা ক্ষমতায় এসেছেন; তাঁদের পরিণতি থেকে শিক্ষা গ্রহণ করুন।’
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু প্রমুখ।

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘দেশ ও জনগণের স্বার্থে জামায়াত কোনো আপস করবে না। আমাদের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ হাসিমুখে ফাঁসির কাষ্ঠে জীবন দিয়েছেন। কিন্তু পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের সঙ্গে কোনো আপস করেননি। দেশ ও জনগণের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে।
৪ ঘণ্টা আগে
সাবেক পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘বেনজীরকে আটক দেশের পুলিশের কৃতিত্ব নয়, এটা ইন্টারপোলের কৃতিত্ব। তার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্টও বর্তমান সরকার জারি করে নাই। তবে বেনজীর আটক বাংলাদেশের একটা অর্জন।...
৭ ঘণ্টা আগে
আমি সীমান্ত হত্যাকাণ্ড এবং পুশ ইন সম্পর্কিত একটি বিশেষ আলোচনা করার প্রস্তাবে নোটিশ দিয়েছিলাম। সংসদের মুলতবি শাখা থেকে চিঠি দিয়ে আমাকে জানানো হয়– আজকে রবিবার এই বিষয়টি আলোচনা করার জন্য গৃহীত হয়েছে এবং এর অনুলিপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাঠানো হয়েছে।
১১ ঘণ্টা আগে
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নে প্রতি তিন মাস অন্তর অগ্রগতি পর্যালোচনা ও তথ্য উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে গণসংহতি আন্দোলন (জিএসএ)। বাজেট ঘাটতি, রাজস্ব আহরণ, খাতভিত্তিক বরাদ্দ ও সামষ্টিক অর্থনীতির ঝুঁকি নিয়ে দলটি বিস্তারিত মূল্যায়ন তুলে ধরেছে।
১৫ ঘণ্টা আগে