Ajker Patrika

ফুটপাতে উচ্ছেদ

সম্পাদকীয়
ফুটপাতে উচ্ছেদ

নতুন কোনো সরকার ক্ষমতায় এলে প্রথমেই বেশ কিছু ব্যাপারে তৎপর হয়ে ওঠে। একটি তৎপরতার দেখা মেলে প্রতিবারই। অবৈধ দখল উচ্ছেদের ব্যাপারে তারা যেন বদ্ধপরিকর হয়।

কিন্তু তারপর? তারপর যেই লাউ, সেই কদু। এই গল্প শুনতে শুনতে আর দেখতে দেখতে সাধারণ জনগণ আর বিস্মিত হয় না। তারা জানে, বীরত্ব দেখিয়ে হকার উচ্ছেদ করার কিছুদিন পরই আবার তাদের দেখা যাবে সেই আগের জায়গাতেই ব্যবসা করতে। ফুটপাত দখলমুক্ত হবে না, রাস্তার ধারগুলোও ভরে থাকবে ভ্যান-দোকানদারে।

প্রশ্নটা উঠেছে প্রায়ই—চাইলে কি হকার উচ্ছেদ করা যায় না? রাস্তা এবং ফুটপাতকে কি হকারমুক্ত করা যায় না? এই প্রশ্নের উত্তর সহজ। আন্তরিকভাবে চাইলে অবশ্যই ফুটপাত ও রাস্তা হকারমুক্ত রাখা যায়। সমস্যা হলো, ওই আন্তরিকতার দেখা মেলে না। যে পুলিশ বাহিনীর ট্রাফিক বিভাগ অবৈধ স্থাপনা ও দোকান উচ্ছেদে অভিযান চালাল, তারা কি খেয়াল করে দেখেছে, উচ্ছেদ অভিযানের কয়েক দিনের মধ্যেই উচ্ছেদ হওয়া দোকানদারেরা আবার স্বমহিমায় সেখানেই বিরাজ করছেন?

মোহাম্মদপুরে চালানো উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে একটি প্রতিবেদন দেখা যাচ্ছে আজকের পত্রিকায়। সেই প্রচলিত কাহিনিটিই আরেকবার লেখা হয়েছে যেন। উচ্ছেদ এবং আবার জায়গা দখল করার ব্যাপারটা এতটাই পুরোনো, এতটাই ঐতিহ্যবাহী যে যেকোনো সরকারের আমলেই ফলাফল যে একই রকম হবে, সেটা আর নতুন করে বলে দিতে হয় না। প্রতিবেদনটিতে দেখা গেল, হকাররা নিয়মিত টাকা দিয়েই প্রতিদিন ব্যবসা করেন।

ছোট-বড় ফুটপাতের দোকান থেকে দেড় শ বা দুই শ টাকা করে যাঁরা আদায় করেন, তাঁদের নামও ছেপে দেওয়া হয়েছে। এলাকার হকাররা সেই লোকজনের নাম জানেন এবং তাঁদের হাতেই টাকা তুলে দেন। অর্থাৎ ফুটপাতের একজন রাজা আছেন, যাঁর নির্দেশে চলে এই ব্যবসা। কিন্তু যাঁদের নাম ছাপা হয়েছে, তাঁরা কি কারও আশীর্বাদ ছাড়া এই অকাজটি করতে পারেন? কী করে উচ্ছেদের পরপরই এই লোকগুলো সবাইকে ‘ম্যানেজ’ করে ফেলেন? তাঁদের ক্ষমতার উৎস কী, সেটা আসলে এই ফুটপাতের দোকানদারেরা যেমন জানেন, তেমনি যাঁরা উচ্ছেদ অভিযান চালান, তাঁরাও জানেন। এবং অনুমান করে নেওয়া কঠিন নয় যে এই সকল অব্যবস্থা তৈরি করার জন্য একজন বাঁশিওয়ালা আছেন। সেই বাঁশিওয়ালার বাঁশির মোহন সুরে সবাই বিমোহিত হয়ে পড়েন। বিমোহিত হয়ে পড়লে তখন আর প্রচলিত আইনকানুন কাজ করে না। ফলে, দখল হওয়া ফুটপাতকেই তখন আইনি ভিত্তি পেয়ে যায়। তাতে জনগণের বারোটা বাজল কি তেরোটা বাজল, তা নিয়ে মাথা ঘামানোর কেউ নেই।

এটা আসলে জনগণের সঙ্গে করা তামাশা। জনগণ বুঝতে পারে, নাটের গুরু কেউ না থাকলে এই অঘটনগুলো বারবার ঘটতে পারত না। সুশাসন এই অব্যবস্থা, এই অঘটনের ইতি ঘটাতে পারত। কিন্তু বিপুল ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পরও রাজনৈতিক দলগুলো যে সেই ঐতিহ্যের কাছে হেরে যায়, তার একটা সুরাহা হওয়া দরকার। বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে?

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী গ্রেপ্তার, নেওয়া হয়েছে ডিবি কার্যালয়ে

ইরানে পারমাণবিক হামলার গুঞ্জন, হোয়াইট হাউসের তীব্র প্রতিবাদ

এভারকেয়ার হাসপাতালে চাকরির সুযোগ, এসএসসি পাসেই আবেদনের সুযোগ

বোর্ড ভাঙার খবর শুনে বিসিবি ছাড়লেন বুলবুল

তামিমের কমিটির ১১ জনের পাঁচজন চট্টগ্রামের, তিন মন্ত্রীর সন্তান, আছেন প্রতিমন্ত্রীর স্ত্রীও

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত