Ajker Patrika

শক্তিশালী গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য প্রয়োজন কৃষকের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি

মো. ওয়াকিলুর রহমান
শক্তিশালী গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য প্রয়োজন কৃষকের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি
ছবি: আজকের পত্রিকা

বাংলাদেশের অর্থনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতির সঙ্গে কৃষির সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর ও ঐতিহাসিক। গ্রামীণ জীবনব্যবস্থা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং জাতীয় অর্থনীতির ভিত নির্মাণে কৃষি দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) কৃষির শতকরা অবদান কমে প্রায় ১১ শতাংশে নেমে এসেছে, বাস্তবে এর বহুমাত্রিক অবদান মোটেই কমেনি; বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা আরও বিস্তৃত হয়েছে।

সংকটময় পরিস্থিতিতে কৃষিই মানুষের প্রধান ভরসা হয়ে ওঠে, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক মহামারির সময় তা নতুন করে প্রমাণিত হয়েছে। তাই কৃষিকে কেবল অর্থনীতির একটি খাত হিসেবে দেখার প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি আজ আর যথেষ্ট নয়; বাস্তবে কৃষি একটি পূর্ণাঙ্গ সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান। কৃষিকে কেন্দ্র করে দেশে বহু প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে এবং এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সামাজিক মর্যাদা নিয়ে বসবাস করছেন। অথচ এই খাতের মূল অংশীজন—কৃষক, মৎস্যচাষি ও প্রাণিসম্পদ খামারিরা, অনেক ক্ষেত্রেই অবহেলিত ও উপেক্ষিত। প্রশ্ন করা যেতে পারে, এই অবহেলার পেছনে কি তাদের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতির অভাবই মূল কারণ? বাস্তবতা হলো, স্বাধীনতার ৫৫ বছর হলেও কৃষি উৎপাদকদের সংগঠিত করে শক্তিশালী প্রতিনিধিত্বমূলক প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এখনো দেশে গড়ে ওঠেনি!

অন্যদিকে কৃষির চারটি প্রধান উপখাত হলো ফসল, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও বনায়ন যা কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বিভিন্ন কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, কৃষি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনসহ নানা সংস্থা। এ ছাড়া দেশি-বিদেশি উন্নয়ন সংস্থাগুলোও কৃষি উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে। এই বিস্তৃত প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামোর মাধ্যমে গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন, প্রশিক্ষণ ও জ্ঞান সম্প্রসারণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে এসব প্রতিষ্ঠানে লক্ষাধিক মানুষ কর্মরত আছেন এবং তারা নিজেদের পেশাগত পরিচয় দিতে গর্ববোধ করেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, যারা এই খাতের মূল চালিকাশক্তি (উৎপাদক শ্রেণি) তাদের অনেকেই নিজেদের পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না।

প্রকৃতপক্ষে, কৃষি উৎপাদনের সঙ্গে দেশের বৃহত্তম জনশক্তি সম্পৃক্ত। এই উৎপাদক শ্রেণির কার্যক্রম কেবল খাদ্য উৎপাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি দারিদ্র্য হ্রাস, ক্ষুধা ও অপুষ্টি দূরীকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি)-এর একাধিক লক্ষ্য, বিশেষ করে দারিদ্র্য বিমোচন, ক্ষুধামুক্ত বিশ্ব গঠন, টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা এবং পরিবেশ সুরক্ষার সঙ্গে কৃষি উৎপাদকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কিন্তু কৃষি উৎপাদকদের শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো না থাকায় এই বিশাল জনগোষ্ঠী ব্যক্তিগত বা পারিবারিক উদ্যোগের ভিত্তিতে উৎপাদন পরিচালনা করে থাকেন। ফলে উৎপাদন পরিকল্পনা, বাজারব্যবস্থা, মূল্য নির্ধারণ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কিংবা প্রযুক্তি ব্যবহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তারা সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নিতে বা নীতিনির্ধারণে প্রভাব বিস্তার করতে পারেন না। এর ফলে অনেক সময় কৃষকেরা ন্যায্য মূল্য, বাজার সুবিধা কিংবা নীতিগত সুরক্ষা থেকেও বঞ্চিত হন।

আর এই একক বা ব্যক্তিনির্ভর উৎপাদন কাঠামোর কারণে কৃষি খাতকে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। কৃষক কী উৎপাদন করবেন, কখন উৎপাদন করবেন এবং কত পরিমাণ উপকরণ ব্যবহার করবেন—এসব সিদ্ধান্ত সরাসরি উৎপাদন ও পরিবেশের ওপর প্রভাব ফেলে। কিন্তু সমন্বিত ব্যবস্থাপনার অভাবে অনেক ক্ষেত্রে অধিক উৎপাদনের আশায় প্রয়োজনের তুলনায় বেশি রাসায়নিক সার, কীটনাশক ও সেচ ব্যবহার করা হয়। এর ফলে মাটির উর্বরতা কমে যায়, পানি দূষিত হয় এবং পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। একই ধরনের প্রবণতা মাছ চাষ, হাঁস-মুরগি পালন এবং গবাদিপশু লালন-পালনের ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে।

অন্যদিকে, কৃষি জমি বহুমুখী বাহ্যিক চাপের সম্মুখীন। অপরিকল্পিত বসতি স্থাপন, অপরিকল্পিত শিল্পায়ন, কৃষিজমিতে দূষণ, ইটভাটায় উর্বর মাটির ব্যবহার এবং অযৌক্তিক ভূমি রূপান্তরের কারণে আবাদি জমির পরিমাণ ও উৎপাদন ক্ষমতা ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রতিবছর দেশে প্রায় ১২ হাজার হেক্টর কৃষি জমি হ্রাস পাচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব। অতিবৃষ্টি, খরা, ঘূর্ণিঝড়, তাপমাত্রার অস্বাভাবিক পরিবর্তন এবং মৌসুমি অনিশ্চয়তা কৃষি উৎপাদনকে ক্রমেই ঝুঁকির মুখে ফেলছে। অথচ অন্যান্য অনেক খাতের মতো কৃষি এখনো প্রয়োজনীয় বিমা বা ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার আওতায় আসেনি।

এই বাস্তবতায় কৃষি উৎপাদক শ্রেণিকে একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনা সময়ের দাবি। যদি কৃষি উৎপাদকদের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া যায় এবং সংগঠিত কাঠামোর মাধ্যমে তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা যায়, তাহলে তারা নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় আরও কার্যকরভাবে অংশগ্রহণ করতে পারবে। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বাজার অস্থিরতার সময় কৃষি বিমা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন সরকারের পক্ষে সহজ হবে। ফলশ্রুতিতে, উৎপাদন পরিকল্পনা, বাজার ব্যবস্থাপনা এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সমন্বিত ও টেকসই পদ্ধতি গড়ে উঠবে।

ইতিহাসে দেখা যায়, কৃষক সংগঠনের প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে ১৯৩৬ সালের ১৬ জানুয়ারি ভারতবর্ষে কৃষক সংগঠন গঠিত হয়েছিল, যার অন্যতম দাবি ছিল জমিদারি প্রথা বিলোপ। তাদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে জমিদারি প্রথা বিলোপ, খাসমহল প্রথা রহিতকরণ, কৃষিঋণ মওকুফ এবং বর্গাপ্রথা সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ দাবি আদায় হয়েছিল। স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর ১৯৭২ সালে কৃষক নেতারা নতুন করে সংগঠিত হওয়ার উদ্যোগ নেন। তবে বিভক্তি ও সীমাবদ্ধতার কারণে জাতীয় পর্যায়ে শক্তিশালী ভূমিকা গড়ে উঠতে পারেনি। বর্তমানে স্থানীয় পর্যায়ে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগ এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা কৃষকদের সংগঠিত করার চেষ্টা করছে। কিন্তু এসব উদ্যোগের অধিকাংশই প্রকল্পনির্ভর এবং প্রকল্প শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কার্যক্রমও স্থবির হয়ে যায়। তাই অতীতের এসব সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়ে যদি সরকার কৃষি উৎপাদকদের একটি স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান করে, তবে তা খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উৎপাদক শ্রেণির প্রাতিষ্ঠানিক রুপদিতে, কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় সরকারের সমন্বয়ে একটি নতুন কাঠামো গড়ে তোলা যেতে পারে, যেখানে উৎপাদক শ্রেণির মর্যাদা ও অংশগ্রহণ সর্বাধিক গুরুত্ব পাবে। অবশ্য একটি পূর্ণাঙ্গ প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গঠনের জন্য বিস্তৃত আলোচনা, গবেষণা এবং পাইলট কার্যক্রম প্রয়োজন। তবে সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিলে এমন একটি কাঠামো গড়ে তোলা খুব বেশি সময়সাপেক্ষ হবে না। বর্তমান সরকার কৃষক কার্ড প্রণয়ন ও বিতরণের জন্য যে তড়িৎ সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাতে প্রমাণ হয় কৃষকের মর্যাদা বৃদ্ধিতে সরকারের সদিচ্ছার কোনো কমতি নেই। কাজেই কৃষক কার্ডের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি কৃষি উৎপাদকের মর্যাদা আরও এক ধাপে এগিয়ে নিয়ে যাবে। প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতির ফলে যেসব ইতিবাচক প্রভাব দেখা যেতে পারে, সেগুলো হলো:

১. কৃষির প্রতি তরুণ প্রজন্মের দৃষ্টিভঙ্গিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। বর্তমানে অনেক তরুণ কৃষিকে অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ পেশা হিসেবে বিবেচনা করে। কিন্তু কৃষি উৎপাদন যদি একটি মর্যাদাপূর্ণ ও আধুনিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে তরুণেরা এটিকে সম্ভাবনাময় পেশা হিসেবে গ্রহণ করতে আগ্রহী হবেন।

২. তরুণ প্রজন্ম নতুন প্রযুক্তি গ্রহণে তুলনামূলকভাবে বেশি আগ্রহী। তাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ড্রোন ও ন্যানো প্রযুক্তির মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নিরাপদ ও প্রয়োজনীয় খাদ্য উৎপাদন সম্ভব হবে।

৩. কৃষিপণ্যের উৎপাদন পরিমাণ ও লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে বিভ্রান্তি কমবে। উৎপাদকেরা সংগঠিত হলে সঠিক উৎপাদন তথ্য পাওয়া সহজ হবে, যা সরকারের আমদানি ও রপ্তানি নীতিনির্ধারণে সহায়ক হবে।

৪. কৃষিজমির রূপান্তর রোধ, সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং উৎপাদনশীলতার ভিত্তিতে ক্রপ জোনিং কার্যক্রম বাস্তবায়ন সহজ হবে।

৫. কৃষি উপকরণ, মৎস্য ও প্রাণিখাদ্যের সরবরাহ ও অ-প্রয়োজনীয় ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

৬. উৎপাদকেরা একটি সংগঠিত কাঠামোর মধ্যে থাকলে সরকারি নীতি সহায়তা বাস্তবায়ন আরও কার্যকর হবে।

৭. কৃষি উৎপাদকের প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ ও বিমা সুবিধা সহজে পেতে পারবেন।

পরিশেষে বলা যায়, কৃষি উৎপাদক শ্রেণি শুধু খাদ্য উৎপাদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; তারা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, গ্রামীণ অর্থনীতির গতিশীলতা এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় এক অপরিহার্য শক্তি হিসেবে কাজ করে আসছে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ শ্রেণি প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও যথাযথ মর্যাদা থেকে বঞ্চিত। তাই এখনই সময় কৃষি উৎপাদকদের রাষ্ট্রীয় নীতিমালায় সুস্পষ্টভাবে স্বীকৃতি প্রদান, তাদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং উন্নয়ন প্রক্রিয়ার কেন্দ্রে স্থান দেওয়া। কৃষি উৎপাদক শ্রেণির মর্যাদা ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে পারলেই টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা, শক্তিশালী গ্রামীণ অর্থনীতি এবং সত্যিকার অর্থে একটি অদম্য ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।

লেখক: প্রফেসর, গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান বিভাগ

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

ই-মেইল: wakilur. rahman@bau. edu. bd

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

‘ইলন মাস্কের হাত থেকে বাঁচাতে’ কিশোরী কন্যাকে হত্যা করলেন মা

অবশেষে অনশনরত স্বামীর হাত ধরে ঘরে ফিরলেন সেই স্ত্রী

মার্কিন বাহিনীর নতুন মাথাব্যথা ইরানের ‘অদৃশ্য কমান্ডো’

ক্রুকে উদ্ধারে কী কী প্রযুক্তি ব্যবহার করল যুক্তরাষ্ট্র, ইরানিরা কেন খুঁজে পেল না

চৈত্রসংক্রান্তিতে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে সাধারণ ছুটি

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত