বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের কথা নিশ্চয় কেউ ভোলেননি। শুধু ‘শিবির’ সন্দেহে তাঁকে অমানুষিক নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয়েছিল। আবরার শিবির করতেন কি না; কিংবা শিবির সমর্থন করতেন কি না, সে ব্যাপারে তাঁর নিহত হওয়ার পরও কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে তাঁকে যাঁরা মারধর করতে করতে মেরেই ফেলেছিলেন, তাঁরা যে ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কে কোন দল সমর্থন করল, সেটা এখানে বড় বিষয় নয়।
বরং গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, এই অপ্রত্যাশিত ঘটনায় কে বা কারা অপরাধী। আদালত ঠিক সেই কাজটিই করেছেন—২০ আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং ৫ আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন।
দুঃখজনক হলেও সত্য, প্রায় একই রকম একটি কাণ্ড আমরা আবার দেখতে পেলাম সম্প্রতি। ১০ মার্চ, মঙ্গলবার আজকের পত্রিকার শেষের পাতায় প্রকাশিত ছোট একটি খবর আবরার হত্যাকাণ্ডের কথাই মনে করিয়ে দেয়। নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মারধর করেছেন জাতীয় ছাত্রশক্তির কয়েকজন নেতা-কর্মী। এমনটাই অভিযোগ করেছেন রাহিদ খান পাভেল নামের ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী।
রোববার রাতে দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী পাভেলকে ছাত্রলীগ সন্দেহে আটক করে কয়েক দফায় মারধর করা হয়। এরপর আহত অবস্থায় তাঁকে শাহবাগ থানার সামনে ফেলে রেখে যায় নির্যাতনকারীরা। তাঁর কাছ থেকে মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও মোটরসাইকেলের চাবিও ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন পাভেল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাইফুল্লাহ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলাম, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ মহিউদ্দিনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করেছেন তিনি।
সোমবার ভোরে ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ তাঁর ফেসবুক আইডিতে ‘ছাত্রলীগ ধরেছি’ লিখে শাহবাগ থানায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। যদিও এই সম্পাদকীয় লেখা পর্যন্ত পাভেলের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কিন্তু সাইফুল্লাহ বা তাঁর ছাত্রশক্তি কি তাঁকে সন্দেহের বশে মারধর করতে পারে? তারা নিশ্চয় কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পায়নি। তারা একটি ছাত্রসংগঠনমাত্র।
ধরে নেওয়া যাক, পাভেল ছাত্রলীগের কর্মী কিংবা সমর্থক। কিন্তু তিনি কি কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত? এমন কোনো প্রমাণ কি ছাত্রশক্তি পেয়েছে? যদি পেয়েও থাকে, তাহলে তাঁকে মারধর করে আইন হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কে দিয়েছে তাদের? সন্দেহভাজনকে আটকে পুলিশে সোপর্দ করে দিলেই তো হতো।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আব্দুল কাদের এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ছাত্ররাজনীতিতে ছাত্রলীগের অনুপস্থিতি পূরণের জন্য ছাত্রশক্তি গঠন করা হয়। সাম্প্রতিক এই ঘটনা তাহলে কি কাদেরের ওই বক্তব্যে সত্যে পরিণত করেছে? ছাত্রলীগ যেমন শিবির সন্দেহে যে কাউকে নির্যাতন করতে পারত, ঠিক একই লাইসেন্স কি ছাত্রশক্তিও পেয়ে গেল?
আদালতে এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হবে বলেই আমাদের প্রত্যাশা।

বাংলাদেশে ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ (PDPO) তৈরির সময় একটি বিষয় আমাদের বারবার ভাবিয়েছে, মেটা কেন শিশুদের বয়সের সংজ্ঞা নিয়ে এত অস্বাভাবিক চাপ দিচ্ছিল?
১৫ ঘণ্টা আগে
অবশেষে ১২ মার্চ দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর পর দেশে সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছে। শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে বিশেষ করে শেষ তিন মেয়াদে দেশের জনগণের জাতীয় সংসদ নিয়ে তেমন একটা আগ্রহ দেখা যায়নি। কারণ, একক দলীয় সংসদ সদস্য এবং গৃহপালিত তকমা পাওয়া বিরোধী...
২০ ঘণ্টা আগে
দেশে একটি নতুন সরকারের যাত্রা কেবল শুরু হয়েছে। এই সরকারের কাছে জাতির অনেক প্রত্যাশা। তার মধ্যে সামাজিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন, জীবনযাত্রার ব্যয়ভার কমানো এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার বিষয় আছে। এর বাইরে আরও অনেক কিছুরই প্রত্যাশা আছে।
২০ ঘণ্টা আগে
যশোরের দুঃখ ভবদহ—কথাটি আর মিথ্যা নয়। যশোর ও খুলনার ৩৩০ বর্গকিলোমিটার এলাকার ১০ লাখ মানুষের দুঃখ-দুর্দশার নাম ভবদহ। এ এলাকার জনগণের জীবন বাঁচানোর জন্য যে আন্দোলন-সংগ্রাম চলমান রয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে সমস্যার সমাধানের নামে ১৯৯০ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত নেওয়া ২১টি প্রকল্পের ব্যয় দেখানো হয়েছে ৬০০ কোটি টাকা।
২০ ঘণ্টা আগে