Ajker Patrika

পেট্রল-অকটেনের রেশনিং দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি ব্যবসায়ীদের

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
পেট্রল-অকটেনের রেশনিং দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি ব্যবসায়ীদের
রাজধানীর ধানমন্ডির একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা। ছবি: আজকের পত্রিকা

দেশে পেট্রল ও অকটেনের ওপর আরোপ করা রেশনিং দ্রুত তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা। তাঁদের অভিযোগ, সরকারের ভুল হিসাব-নিকাশের কারণে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

রাজধানীর ধানমন্ডির একটি রেস্তোরাঁয় আজ বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি তুলে ধরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির আওতায় দেশের পেট্রলপাম্প মালিক, বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী এবং ট্যাংক লরি মালিকেরা যুক্ত রয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল বলেন, দেশে পেট্রল ও অকটেনের প্রকৃত কোনো ঘাটতি নেই। সিলেট গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদিত কনডেনসেট পরিশোধনের মাধ্যমে দেশের চাহিদার উল্লেখযোগ্য অংশ উৎপাদিত হয়। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বা আন্তর্জাতিক অস্থিরতার সঙ্গে এই উৎপাদনের কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নেই।

সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল বলেন, সিলেট গ্যাসক্ষেত্র ও দেশের বেসরকারি শোধনাগারগুলোতে উৎপাদিত পেট্রল ও অকটেন পুরোপুরি বিপিসির মাধ্যমে বাজারে সরবরাহ করা হয়। ফলে এই দুই জ্বালানির ওপর রেশনিং আরোপ করা যৌক্তিক নয়।

লিখিত বক্তব্যে সংগঠনটি জানায়, গুজবের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় হঠাৎ অতিরিক্ত জ্বালানি কেনার প্রবণতা দেখা দেয়। এতে বাজারে চাপ তৈরি হয়। কিন্তু পরবর্তীতে বিপিসি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা না করেই তড়িঘড়ি করে রেশনিং নীতিমালা চালু করায় সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।

সংগঠনটির দাবি, বিপিসি পাম্পগুলোয় আগের গড় উত্তোলনের ভিত্তিতে সরবরাহ ২৫ শতাংশ কমিয়েছে। কিন্তু হিসাব নির্ধারণে ভুল সময়কাল ধরা হয়েছে। মার্চ থেকে জুনের গড় উত্তোলন ধরে কোটা নির্ধারণ করায় বাস্তবে সরবরাহ আরও কমে গেছে। তাদের মতে, হিসাবগত ত্রুটির কারণে কাগজে ২৫ শতাংশ কম দেখালেও বাস্তবে বাজারে প্রায় ৪৫ শতাংশ জ্বালানি কম আসছে।

তেল ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, অনেক পাম্পের বরাদ্দ এত কমে গেছে যে ৫ থেকে ৯ হাজার লিটার ধারণক্ষম ট্যাংক লরি পূর্ণ লোডে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে আংশিক লোডে তেল উত্তোলন করতে গিয়ে পরিবহন ব্যয় কমিশনের চেয়েও বেশি পড়ছে, যা ব্যবসাকে অলাভজনক করে তুলছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ব্যবসায়ীরা দৈনিক কোটার পরিবর্তে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে কোটা নির্ধারণ এবং চাহিদার ওঠানামা অনুযায়ী সরবরাহ সমন্বয়ের দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে ঘিরে দেশে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার পর গত কয়েক দিনে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় পেট্রলপাম্পে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। ঢাকায় তেল বিক্রি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ৬০-৮০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে। এ অবস্থায় ৬ মার্চ ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেল বিক্রির সীমা নির্ধারণ করে দেয় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মোটরসাইকেলে দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার, ব্যক্তিগত গাড়িতে ১০ লিটার এবং এসইউভি, জিপ ও মাইক্রোবাসে ২০ থেকে ২৫ লিটার পর্যন্ত পেট্রল বা অকটেন বিক্রি করা হচ্ছে। ডিজেলচালিত পিকআপ ও লোকাল বাসে ৭০ থেকে ৮০ লিটার এবং দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও কনটেইনারবাহী যানবাহনে ২০০ থেকে ২২০ লিটার পর্যন্ত সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। অনিয়ম, অবৈধ মজুত ও বেশি দামে বিক্রি ঠেকাতে জেলা প্রশাসনের অধীনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত