
নাটোরের সিংড়ার নিঙ্গইন এলাকায় নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের পাশে মাটির নিচে গর্ত করে প্লাস্টিকের ট্যাংকিতে রাখা হয় ১০ হাজার লিটার ডিজেল। খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। নিয়মবহির্ভূতভাবে মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগে জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী মো. রুবেলকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
অথচ আইনে মজুতদারির সাজা অনেক বেশি। অবশ্য ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজা নিয়ে বিতর্ক পুরোনো। বরাবরই অভিযোগ উঠে বড় অপরাধে কম সাজা দেওয়া এবং এখতিয়ার বহির্ভূত সাজা নিয়ে।
নাটোরে ১০ হাজার লিটার ডিজেল মজুতকারীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অথচ পাবনায় একটি পাম্পে অবৈধভাবে তেল মজুতের ঘটনায় ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ফলে দুই জায়গায় দুই রকম সাজা কেন—এ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫ (১) ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি মজুতদারি ও কালোবাজারি কারবারের জন্য দোষী সাব্যস্ত হন তাহলে তাকে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা ১৪ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া যাবে। তবে, শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে, যদি অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রমাণ করতে পারেন যে তিনি আর্থিক বা অন্য কোনো লাভ ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশে মজুত করেছিলেন তাহলে তিন মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। একই সঙ্গে জরিমানাও করা হবে তাকে।
মোবাইল কোর্ট আইন (ভ্রাম্যমাণ আদালত আইন) ২০০৯-এর ৬(১) ধারায় বলা হয়েছে, ক্ষমতাপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ প্রতিরোধ কার্যক্রম পরিচালনাকালে কোনো অপরাধ তাঁর সামনে ঘটলে তিনি স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ওই আইনের নির্ধারিত দণ্ড দিতে পারবেন। ৭(৩) ধারায় বলা হয়েছে, অভিযোগ অস্বীকার করে আত্মপক্ষ সমর্থনে অভিযুক্ত ব্যক্তির ব্যাখ্যা সন্তোষজনক হলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাঁকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেবেন।
মোবাইল কোর্ট আইনের ৭(৪) ধারায় বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তির ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযোগটি বিচারের জন্য উপযুক্ত এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে পাঠাবেন। তবে বেশির ভাগ সময়ই প্রশ্ন উঠে উপযুক্ত আদালতে না পাঠিয়ে সাজা দেওয়া বা জরিমানা করার ঘটনায়। কেন না এই আইনের ৮ (১) ধারায় বলা হয়েছে, মোবাইল কোর্ট দুই বছরের বেশি কারাদণ্ড দিতে পারবে না। আর সংশ্লিষ্ট অপরাধের জন্য সংশ্লিষ্ট আইনে যে অর্থদণ্ড নির্ধারিত রয়েছে উক্ত অর্থদণ্ড বা অর্থদণ্ডের নির্ধারিত সীমার মধ্যে যে কোনো পরিমাণ অর্থদণ্ড করা যাবে।
নানা বিতর্কের কারণে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১১ সালের অক্টোবর ও ডিসেম্বরে দুটি এবং ২০১২ সালের মে মাসে একটি রিট করা হয়। পরে তিনটি রিট একসঙ্গে নিষ্পত্তি করে ২০১৭ সালের ১১ মে রায় দেন হাইকোর্ট। রায়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালত আইন, ২০০৯-এর ১১টি ধারা-উপধারাও অবৈধ ঘোষণা করা হয়।
হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদের বিচারিক ক্ষমতা দেওয়া সংবিধানের লঙ্ঘন এবং তা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর আঘাত। এটি ক্ষমতার পৃথক্করণ নীতিরও পরিপন্থী। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা ম্যাজিস্ট্রেটসহ কর্ম কমিশনের সব সদস্য প্রশাসনিক নির্বাহী। নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তাঁরা প্রজাতন্ত্রের সার্বভৌম বিচারিক ক্ষমতা চর্চা করতে পারেন না।
ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে গেলে ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষকে আপিলের অনুমতি দিয়ে হাইকোর্টের রায় স্থগিত করা হয়। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। আর আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশ নিয়েই চলছে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা।

বাংলাদেশের প্রায় সব জাতীয় নির্বাচনের ইশতেহারে নারীর অধিকার, ক্ষমতায়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো। ১৯৯১ সাল থেকে দলগুলোর ইশতেহার পর্যালোচনা করে দেখা যায়, উন্নয়নের মূলধারায় নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো...
১২ মিনিট আগে
মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশি নাগরিক জোবাইদুল আমিনকে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এরপর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। মার্কিন প্রসিকিউটরদের মতে, এটি অনলাইনে শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়নের ঘটনায় আলাস্কায় পরিচালিত এযাবৎকালের মধ্যে সবচেয়ে বড় অভিযান।
২ ঘণ্টা আগে
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে দেশেও। সরকারের তরফ থেকে জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত আছে বলে আশ্বস্ত করা হলেও দেশজুড়ে ফিলিং স্টেশনগুলোয় চাপ কমছে না। আতঙ্কিত হয়ে তেল কিনতে অনেকেই ভিড় করছেন রিফুয়েলিং স্টেশনগুলোয়।
৩ ঘণ্টা আগে
এবারের নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক চর্চা পুনরুজ্জীবিত হবে এবং রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়বে—এমন প্রত্যাশা ছিল। নারী সংস্কার কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোকে অন্তত ৫০ শতাংশ আসনে নারী মনোনয়ন দেওয়ার সুপারিশ করেছিল। অন্যদিকে...
৪ ঘণ্টা আগে