Ajker Patrika

১০ হাজার লিটার ডিজেল মজুতের সাজা মাত্র ৫ হাজার—আইন কী বলছে

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৭ মার্চ ২০২৬, ২২: ৪৬
১০ হাজার লিটার ডিজেল মজুতের সাজা মাত্র ৫ হাজার—আইন কী বলছে
প্রতীকী ছবি

নাটোরের সিংড়ার নিঙ্গইন এলাকায় নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের পাশে মাটির নিচে গর্ত করে প্লাস্টিকের ট্যাংকিতে রাখা হয় ১০ হাজার লিটার ডিজেল। খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। নিয়মবহির্ভূতভাবে মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগে জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী মো. রুবেলকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

অথচ আইনে মজুতদারির সাজা অনেক বেশি। অবশ্য ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজা নিয়ে বিতর্ক পুরোনো। বরাবরই অভিযোগ উঠে বড় অপরাধে কম সাজা দেওয়া এবং এখতিয়ার বহির্ভূত সাজা নিয়ে।

নাটোরে ১০ হাজার লিটার ডিজেল মজুতকারীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অথচ পাবনায় একটি পাম্পে অবৈধভাবে তেল মজুতের ঘটনায় ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ফলে দুই জায়গায় দুই রকম সাজা কেন—এ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

জেনে নেওয়া যাক, এ বিষয়ে আইন কী বলছে—

১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫ (১) ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি মজুতদারি ও কালোবাজারি কারবারের জন্য দোষী সাব্যস্ত হন তাহলে তাকে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা ১৪ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া যাবে। তবে, শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে, যদি অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রমাণ করতে পারেন যে তিনি আর্থিক বা অন্য কোনো লাভ ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশে মজুত করেছিলেন তাহলে তিন মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। একই সঙ্গে জরিমানাও করা হবে তাকে।

মোবাইল কোর্ট আইন (ভ্রাম্যমাণ আদালত আইন) ২০০৯-এর ৬(১) ধারায় বলা হয়েছে, ক্ষমতাপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ প্রতিরোধ কার্যক্রম পরিচালনাকালে কোনো অপরাধ তাঁর সামনে ঘটলে তিনি স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ওই আইনের নির্ধারিত দণ্ড দিতে পারবেন। ৭(৩) ধারায় বলা হয়েছে, অভিযোগ অস্বীকার করে আত্মপক্ষ সমর্থনে অভিযুক্ত ব্যক্তির ব্যাখ্যা সন্তোষজনক হলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাঁকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেবেন।

মোবাইল কোর্ট আইনের ৭(৪) ধারায় বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তির ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযোগটি বিচারের জন্য উপযুক্ত এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে পাঠাবেন। তবে বেশির ভাগ সময়ই প্রশ্ন উঠে উপযুক্ত আদালতে না পাঠিয়ে সাজা দেওয়া বা জরিমানা করার ঘটনায়। কেন না এই আইনের ৮ (১) ধারায় বলা হয়েছে, মোবাইল কোর্ট দুই বছরের বেশি কারাদণ্ড দিতে পারবে না। আর সংশ্লিষ্ট অপরাধের জন্য সংশ্লিষ্ট আইনে যে অর্থদণ্ড নির্ধারিত রয়েছে উক্ত অর্থদণ্ড বা অর্থদণ্ডের নির্ধারিত সীমার মধ্যে যে কোনো পরিমাণ অর্থদণ্ড করা যাবে।

নানা বিতর্কের কারণে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১১ সালের অক্টোবর ও ডিসেম্বরে দুটি এবং ২০১২ সালের মে মাসে একটি রিট করা হয়। পরে তিনটি রিট একসঙ্গে নিষ্পত্তি করে ২০১৭ সালের ১১ মে রায় দেন হাইকোর্ট। রায়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালত আইন, ২০০৯-এর ১১টি ধারা-উপধারাও অবৈধ ঘোষণা করা হয়।

হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদের বিচারিক ক্ষমতা দেওয়া সংবিধানের লঙ্ঘন এবং তা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর আঘাত। এটি ক্ষমতার পৃথক্‌করণ নীতিরও পরিপন্থী। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা ম্যাজিস্ট্রেটসহ কর্ম কমিশনের সব সদস্য প্রশাসনিক নির্বাহী। নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তাঁরা প্রজাতন্ত্রের সার্বভৌম বিচারিক ক্ষমতা চর্চা করতে পারেন না।

ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে গেলে ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষকে আপিলের অনুমতি দিয়ে হাইকোর্টের রায় স্থগিত করা হয়। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। আর আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশ নিয়েই চলছে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

প্রতিবেশী দেশে আর হামলা নয়, ক্ষমাও চাইলেন ইরানি প্রেসিডেন্ট

হঠাৎ কেন প্রতিবেশী দেশে হামলা বন্ধের ঘোষণা দিল ইরান, নেপথ্যে কী

ব্রিটেনের ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী বোমারু বিমান, হামলা কি রাতেই

বিশ্ব অর্থনীতিতে অশনিসংকেত: দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ জ্বালানি তেলের দাম

অভিজ্ঞতা ছাড়াই ইবনে সিনায় চাকরি, এইচএসসি পাসে আবেদন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত