রাহুল শর্মা, ঢাকা
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে নারীর ৬০ শতাংশ কোটা বাদ দেওয়া হয়েছে; সেই সঙ্গে পোষ্য ও পুরুষ কোটাও। শুধু মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তান, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীদের জন্য মোট ৭ শতাংশ কোটা রাখা হয়েছে। বাকি ৯৩ শতাংশ নিয়োগ হবে মেধার ভিত্তিতে। এই নিয়োগ হবে উপজেলা অথবা প্রয়োজনে থানাভিত্তিক।
গত বৃহস্পতিবার রাতে জারি হওয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫-এর প্রজ্ঞাপন থেকে এসব তথ্য জানা যায়। এতে রাষ্ট্রপতির আদেশে স্বাক্ষর করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষাসচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা।
বিধিমালার তথ্য বলছে, সহকারী শিক্ষকের ৯৩ শতাংশ নিয়োগ হবে মেধার ভিত্তিতে। এর মধ্যে ২০ শতাংশ পদ বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের দ্বারা এবং ৮০ শতাংশ পদ অন্যান্য বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের দ্বারা পূরণ করা হবে। আর বাকি ৭ শতাংশ কোটার মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের জন্য ১ শতাংশ এবং ১ শতাংশ থাকবে শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীদের জন্য। তবে কোটায় প্রার্থী পাওয়া না গেলে মেধাক্রম অনুযায়ী এসব পদ পূরণ করা হবে। প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা হতে হবে ন্যূনতম স্নাতক। শিক্ষাজীবনের কোনো পরীক্ষায় তৃতীয় শ্রেণি থাকা যাবে না।
জানতে চাইলে গতকাল শুক্রবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার আজকের পত্রিকাকে বলেন, উচ্চ আদালতের রায়ের আলোকে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটাব্যবস্থা পরিবর্তন করা হয়েছে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে এত দিন নারীরা ৬০ শতাংশ কোটা সুবিধা ভোগ করে আসছিলেন। এটি শিক্ষকতা পেশায় নারীর উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে। সর্বশেষ ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০১৯’ এ সরাসরি নিয়োগযোগ্য পদের ৬০ শতাংশ মহিলা প্রার্থী, ২০ শতাংশ পোষ্য প্রার্থী এবং অবশিষ্ট ২০ শতাংশ পুরুষ প্রার্থীদের দিয়ে পূরণের কথা উল্লেখ ছিল। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রাথমিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার মানোন্নয়নে গঠিত পরামর্শক কমিটিও শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনায় নারী শিক্ষককে অগ্রাধিকার সুপারিশ করেছে। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমদের নেতৃত্বাধীন এই কমিটি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তাদের প্রতিবেদন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়। প্রতিবেদনে প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষার শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনায় নারী শিক্ষককে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়। কিন্তু নতুন প্রজ্ঞাপনে সেই সুপারিশের প্রতিফলন নেই।
এ বিষয়ে ড. মনজুর আহমদ বলেন, ‘অবশ্যই শিক্ষক নিয়োগে নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। বিষয়টি পরামর্শক কমিটির প্রতিবেদনেও রয়েছে। আমি মনে করি, বিচ্ছিন্ন সিদ্ধান্ত না নিয়ে সামগ্রিক সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।’
শিক্ষক নিয়োগে নারী কোটা বাদ দেওয়ায় বিরোধিতা করেছেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম। তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, কর্মজীবী নারীর সংখ্যা কমছে। সুতরাং এ সময়ে সিদ্ধান্তটি কোনোভাবে কাম্য নয়। আর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের শিক্ষাদানে নারীরাই সবচেয়ে উপযুক্ত, এটি সর্বজনস্বীকৃত। মোটকথা, সব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগে নারী কোটা পুনর্বহালের দাবি জানাচ্ছি।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৬৫ হাজার ৫৬৫টি। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে ১ কোটি ৭১ লাখ ৬২ হাজার ৩৬৫ জন। শিক্ষক আছেন ৩ লাখ ৬২ হাজার ৭০৯ জন। তাঁদের মধ্যে পুরুষ শিক্ষক ১ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন এবং মহিলা শিক্ষক ২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৭০ জন।
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে গত বছরের জুলাইয়ে আন্দোলনে নামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন; যা ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। কোটার দাবিতে শুরু হওয়া ওই আন্দোলন একসময় রূপ নেয় সরকার পতনের আন্দোলনে। এর ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয় আওয়ামী লীগ সরকার। ওই আন্দোলনের মধ্যেই হাইকোর্টের রায়ের ভিত্তিতে মেধায় ৯৩ শতাংশ এবং কোটায় ৭ শতাংশ নিয়োগের নিয়ম রেখে গত বছরের ২৩ জুলাই প্রজ্ঞাপন জারি করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারও সরকারি চাকরিতে নিয়োগে এটি অনুসরণ করে চলেছে, যার ভিত্তিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫-এর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
কিছু কিছু ক্ষেত্রে কোটা রাখা যেতে পারে বলে মত দিয়েছেন গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, বর্তমান অবস্থার নিরিখে বিশেষ এলাকা ও জনগোষ্ঠীর জন্য কোটা ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। কারণ, চর, হাওর ও পাহাড়ি অঞ্চলে যোগ্য শিক্ষকই পাওয়া যায় না।
নতুন বিধিমালায় প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতিতেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিধিমালা অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষক পদে ৮০ শতাংশ পদ পূরণ করা হবে সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির মাধ্যমে। আর বাকি ২০ শতাংশ পদ পূরণ করা হবে সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে। তবে প্রার্থী পাওয়া না গেলে তা পূরণ করা হবে সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে। পদোন্নতির জন্য সহকারী শিক্ষকদের মৌলিক প্রশিক্ষণ এবং চাকরি স্থায়ীকরণের পর চাকরিকাল ১২ বছর হতে হবে।
এর আগে প্রধান শিক্ষক পদে ৬৫ শতাংশের পদোন্নতি এবং ৩৫ শতাংশ পদ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করা হতো। এ জন্য সহকারী শিক্ষকদের চাকরিকাল অন্তত ৭ বছর থাকতে হতো।
বিধিমালায় শিক্ষকদের জন্য ‘মৌলিক প্রশিক্ষণ’ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘কোনো শিক্ষানবিশকে কোনো নির্দিষ্ট পদে স্থায়ী করা হবে না; যতক্ষণ পর্যন্ত সরকারি আদেশবলে, সময়-সময়, যে পরীক্ষা ও মৌলিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়, সেই পরীক্ষায় তিনি উত্তীর্ণ হন ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।’
এতে আরও বলা হয়, সহকারী শিক্ষকেরা চাকরিতে যোগদানের চার বছরের মধ্যে এবং প্রধান শিক্ষকেরা দশম গ্রেডে উন্নীত হওয়ার তারিখ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে মৌলিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে। আর এ সময়ের মধ্যে প্রশিক্ষণ সন্তোষজনকভাবে সম্পন্ন না করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে বেতন গ্রেডের নিম্ন ধাপে অবনমন করা হবে।
মৌলিক প্রশিক্ষণ বলতে সার্টিফিকেট ইন এডুকেশন বা ডিপ্লোমা ইন এডুকেশন অথবা বেসিক ট্রেনিং ফর প্রাইমারি টিচার্স অথবা সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সমমানের কোনো প্রশিক্ষণ বলে বিধিমালায় বলা হয়েছে।
নতুন বিধিমালায় সহকারী শিক্ষক (সংগীত) ও সহকারী শিক্ষক (শারীরিক শিক্ষা) পদও সৃষ্টি করা হয়েছে। আর সরাসরি নিয়োগে প্রার্থীর সর্বোচ্চ বয়স ৩২ বছর করা হয়েছে, আগে যা ছিল ৩০ বছর। সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। এর মধ্যে লিখিত পরীক্ষায় থাকবে ৯০ নম্বর এবং মৌখিক পরীক্ষায় ১০ নম্বর। লিখিত পরীক্ষায় বাংলায় থাকবে ২৫, ইংরেজিতে ২৫, গণিত ও দৈনন্দিন বিজ্ঞানে ২০ এবং সাধারণ জ্ঞানে (বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি) ২০ নম্বর। উভয় পরীক্ষায় সর্বনিম্ন পাস নম্বর ৫০ শতাংশ।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সূত্র বলছে, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের নিয়োগযোগ্য শূন্য পদের সংখ্যা ৮ হাজার ৪৩টি। তবে বর্তমানে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত কত পদ শূন্য রয়েছে, সেই তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ ছাড়া সংগীত, শারীরিক শিক্ষার শিক্ষকের জন্য ৫ হাজার ১৬৬টি পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। এসব পদে নিয়োগের জন্য আগামী মাসে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হতে পারে।
কবে নাগাদ শূন্য পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে, এমন প্রশ্নে উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার আজকের পত্রিকাকে বলেন, আশা করছি, শিগগির সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা সম্ভব হবে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে নারীর ৬০ শতাংশ কোটা বাদ দেওয়া হয়েছে; সেই সঙ্গে পোষ্য ও পুরুষ কোটাও। শুধু মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তান, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীদের জন্য মোট ৭ শতাংশ কোটা রাখা হয়েছে। বাকি ৯৩ শতাংশ নিয়োগ হবে মেধার ভিত্তিতে। এই নিয়োগ হবে উপজেলা অথবা প্রয়োজনে থানাভিত্তিক।
গত বৃহস্পতিবার রাতে জারি হওয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫-এর প্রজ্ঞাপন থেকে এসব তথ্য জানা যায়। এতে রাষ্ট্রপতির আদেশে স্বাক্ষর করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষাসচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা।
বিধিমালার তথ্য বলছে, সহকারী শিক্ষকের ৯৩ শতাংশ নিয়োগ হবে মেধার ভিত্তিতে। এর মধ্যে ২০ শতাংশ পদ বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের দ্বারা এবং ৮০ শতাংশ পদ অন্যান্য বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের দ্বারা পূরণ করা হবে। আর বাকি ৭ শতাংশ কোটার মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের জন্য ১ শতাংশ এবং ১ শতাংশ থাকবে শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীদের জন্য। তবে কোটায় প্রার্থী পাওয়া না গেলে মেধাক্রম অনুযায়ী এসব পদ পূরণ করা হবে। প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা হতে হবে ন্যূনতম স্নাতক। শিক্ষাজীবনের কোনো পরীক্ষায় তৃতীয় শ্রেণি থাকা যাবে না।
জানতে চাইলে গতকাল শুক্রবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার আজকের পত্রিকাকে বলেন, উচ্চ আদালতের রায়ের আলোকে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটাব্যবস্থা পরিবর্তন করা হয়েছে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে এত দিন নারীরা ৬০ শতাংশ কোটা সুবিধা ভোগ করে আসছিলেন। এটি শিক্ষকতা পেশায় নারীর উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে। সর্বশেষ ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০১৯’ এ সরাসরি নিয়োগযোগ্য পদের ৬০ শতাংশ মহিলা প্রার্থী, ২০ শতাংশ পোষ্য প্রার্থী এবং অবশিষ্ট ২০ শতাংশ পুরুষ প্রার্থীদের দিয়ে পূরণের কথা উল্লেখ ছিল। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রাথমিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার মানোন্নয়নে গঠিত পরামর্শক কমিটিও শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনায় নারী শিক্ষককে অগ্রাধিকার সুপারিশ করেছে। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমদের নেতৃত্বাধীন এই কমিটি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তাদের প্রতিবেদন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়। প্রতিবেদনে প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষার শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনায় নারী শিক্ষককে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়। কিন্তু নতুন প্রজ্ঞাপনে সেই সুপারিশের প্রতিফলন নেই।
এ বিষয়ে ড. মনজুর আহমদ বলেন, ‘অবশ্যই শিক্ষক নিয়োগে নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। বিষয়টি পরামর্শক কমিটির প্রতিবেদনেও রয়েছে। আমি মনে করি, বিচ্ছিন্ন সিদ্ধান্ত না নিয়ে সামগ্রিক সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।’
শিক্ষক নিয়োগে নারী কোটা বাদ দেওয়ায় বিরোধিতা করেছেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম। তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, কর্মজীবী নারীর সংখ্যা কমছে। সুতরাং এ সময়ে সিদ্ধান্তটি কোনোভাবে কাম্য নয়। আর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের শিক্ষাদানে নারীরাই সবচেয়ে উপযুক্ত, এটি সর্বজনস্বীকৃত। মোটকথা, সব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগে নারী কোটা পুনর্বহালের দাবি জানাচ্ছি।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৬৫ হাজার ৫৬৫টি। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে ১ কোটি ৭১ লাখ ৬২ হাজার ৩৬৫ জন। শিক্ষক আছেন ৩ লাখ ৬২ হাজার ৭০৯ জন। তাঁদের মধ্যে পুরুষ শিক্ষক ১ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন এবং মহিলা শিক্ষক ২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৭০ জন।
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে গত বছরের জুলাইয়ে আন্দোলনে নামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন; যা ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। কোটার দাবিতে শুরু হওয়া ওই আন্দোলন একসময় রূপ নেয় সরকার পতনের আন্দোলনে। এর ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয় আওয়ামী লীগ সরকার। ওই আন্দোলনের মধ্যেই হাইকোর্টের রায়ের ভিত্তিতে মেধায় ৯৩ শতাংশ এবং কোটায় ৭ শতাংশ নিয়োগের নিয়ম রেখে গত বছরের ২৩ জুলাই প্রজ্ঞাপন জারি করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারও সরকারি চাকরিতে নিয়োগে এটি অনুসরণ করে চলেছে, যার ভিত্তিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫-এর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
কিছু কিছু ক্ষেত্রে কোটা রাখা যেতে পারে বলে মত দিয়েছেন গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, বর্তমান অবস্থার নিরিখে বিশেষ এলাকা ও জনগোষ্ঠীর জন্য কোটা ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। কারণ, চর, হাওর ও পাহাড়ি অঞ্চলে যোগ্য শিক্ষকই পাওয়া যায় না।
নতুন বিধিমালায় প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতিতেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিধিমালা অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষক পদে ৮০ শতাংশ পদ পূরণ করা হবে সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির মাধ্যমে। আর বাকি ২০ শতাংশ পদ পূরণ করা হবে সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে। তবে প্রার্থী পাওয়া না গেলে তা পূরণ করা হবে সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে। পদোন্নতির জন্য সহকারী শিক্ষকদের মৌলিক প্রশিক্ষণ এবং চাকরি স্থায়ীকরণের পর চাকরিকাল ১২ বছর হতে হবে।
এর আগে প্রধান শিক্ষক পদে ৬৫ শতাংশের পদোন্নতি এবং ৩৫ শতাংশ পদ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করা হতো। এ জন্য সহকারী শিক্ষকদের চাকরিকাল অন্তত ৭ বছর থাকতে হতো।
বিধিমালায় শিক্ষকদের জন্য ‘মৌলিক প্রশিক্ষণ’ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘কোনো শিক্ষানবিশকে কোনো নির্দিষ্ট পদে স্থায়ী করা হবে না; যতক্ষণ পর্যন্ত সরকারি আদেশবলে, সময়-সময়, যে পরীক্ষা ও মৌলিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়, সেই পরীক্ষায় তিনি উত্তীর্ণ হন ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।’
এতে আরও বলা হয়, সহকারী শিক্ষকেরা চাকরিতে যোগদানের চার বছরের মধ্যে এবং প্রধান শিক্ষকেরা দশম গ্রেডে উন্নীত হওয়ার তারিখ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে মৌলিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে। আর এ সময়ের মধ্যে প্রশিক্ষণ সন্তোষজনকভাবে সম্পন্ন না করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে বেতন গ্রেডের নিম্ন ধাপে অবনমন করা হবে।
মৌলিক প্রশিক্ষণ বলতে সার্টিফিকেট ইন এডুকেশন বা ডিপ্লোমা ইন এডুকেশন অথবা বেসিক ট্রেনিং ফর প্রাইমারি টিচার্স অথবা সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সমমানের কোনো প্রশিক্ষণ বলে বিধিমালায় বলা হয়েছে।
নতুন বিধিমালায় সহকারী শিক্ষক (সংগীত) ও সহকারী শিক্ষক (শারীরিক শিক্ষা) পদও সৃষ্টি করা হয়েছে। আর সরাসরি নিয়োগে প্রার্থীর সর্বোচ্চ বয়স ৩২ বছর করা হয়েছে, আগে যা ছিল ৩০ বছর। সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। এর মধ্যে লিখিত পরীক্ষায় থাকবে ৯০ নম্বর এবং মৌখিক পরীক্ষায় ১০ নম্বর। লিখিত পরীক্ষায় বাংলায় থাকবে ২৫, ইংরেজিতে ২৫, গণিত ও দৈনন্দিন বিজ্ঞানে ২০ এবং সাধারণ জ্ঞানে (বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি) ২০ নম্বর। উভয় পরীক্ষায় সর্বনিম্ন পাস নম্বর ৫০ শতাংশ।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সূত্র বলছে, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের নিয়োগযোগ্য শূন্য পদের সংখ্যা ৮ হাজার ৪৩টি। তবে বর্তমানে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত কত পদ শূন্য রয়েছে, সেই তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ ছাড়া সংগীত, শারীরিক শিক্ষার শিক্ষকের জন্য ৫ হাজার ১৬৬টি পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। এসব পদে নিয়োগের জন্য আগামী মাসে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হতে পারে।
কবে নাগাদ শূন্য পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে, এমন প্রশ্নে উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার আজকের পত্রিকাকে বলেন, আশা করছি, শিগগির সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা সম্ভব হবে।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূরের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে ফোনকল করেছেন। আজ শনিবার দুপুর ১টার দিকে তিনি নুরকে ফোনকল করেন এবং গতকালের ঘটনার বিস্তারিত জানতে চান। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন গণঅধিকার পরিষদের দপ্তর সম্পাদক শাকিল উজ্জামান।
১ ঘণ্টা আগেএকটা সুষ্ঠু, সুন্দর, নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে হবে জানিয়ে আশফাকুর রহমান বলেন, ‘আমরা কমিশনের কাছে দাবি করব আমাদের প্রয়োজনীয়তাগুলো অনুধাবন করবেন। আমাদের সহযোগিতা করেন, আমরাও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে পারবো।’
১ ঘণ্টা আগে১১তম গ্রেডে বেতন, প্রধান শিক্ষকের শতভাগ পদে পদোন্নতি ও উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার জটিলতা নিরসনের দাবিতে মহাসমাবেশে জড়ো হয়েছেন প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকেরা। আজ শনিবার সকাল ১০টায় রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার মধ্য দিয়ে সমাবেশ শুরু হয়।
২ ঘণ্টা আগেস্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর নামে একটি জাল বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি অডিও রেকর্ড সম্প্রতি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। অডিওটি ভুয়া বলে জানিয়েছে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ ধরনের অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি...
৩ ঘণ্টা আগে