রমজান মাসের সিয়াম সাধনার পর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আর্থিক ইবাদত হলো ফিতরা বা সদকাতুল ফিতর। দীর্ঘ এক মাস রোজা রাখার পর ঈদের আনন্দে অসহায়দের শামিল করতে যে বিশেষ দান করা হয়, তাকে সদকাতুল ফিতর বলা হয়।
ঈদের নামাজের আগেই ফিতরা আদায় করতে হয়। নামাজের পরে আদায় করলে তা সাধারণ দান হিসেবে গণ্য হবে, সদকাতুল ফিতর হিসেবে নয়। (সুনানে আবু দাউদ, সুনানে ইবনে মাজাহ)
কাদের ফিতরা দেওয়া যাবে?
পবিত্র কোরআনে জাকাত ব্যয়ের যে ৮টি খাতের কথা বলা হয়েছে, ফিতরা প্রদানের ক্ষেত্রেও সেই খাতগুলো প্রযোজ্য। সুরা তওবার ৬০ নম্বর আয়াত অনুযায়ী এই খাতগুলো হলো—১. ফকির: যার সামান্য সম্পদ আছে, কিন্তু প্রয়োজন মেটে না। ২. মিসকিন: যার একেবারেই কোনো সম্পদ নেই। ৩. জাকাতকর্মী: যারা সরকারিভাবে জাকাত বা ফিতরা সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত। ৪. নওমুসলিম বা অনুরক্ত ব্যক্তি: যাদের মন ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করা প্রয়োজন। এই খাত এখন রহিত। ৫. ক্রীতদাস মুক্তি: দাসের মুক্তির জন্য আর্থিক সহায়তা। এখন যেহেতু দাসপ্রথা নেই, তাই এটিও রহিত। ৬. ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি: ঋণ পরিশোধে অক্ষম ব্যক্তিকে সাহায্য করা। ৭. আল্লাহর পথে: ইসলামের সুরক্ষা ও দ্বীনি কাজে নিয়োজিত থাকা ব্যক্তি। ৮. মুসাফির: প্রবাসী বা মুসাফির ব্যক্তি, যিনি বিদেশে বিপদে পড়েছেন।
কাদের ফিতরা বা জাকাত দেওয়া যাবে না?
শরিয়ত অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিকে ফিতরা দেওয়া বৈধ নয়: ক. ঊর্ধ্বতন বংশধর: মা-বাবা, দাদা-দাদি, নানা-নানি বা তাঁদের ওপরের কাউকে ফিতরা দেওয়া যাবে না। খ. অধস্তন বংশধর: নিজের ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনি বা তাঁদের সন্তানদের ফিতরা দেওয়া যাবে না। গ. স্ত্রী: যেহেতু স্ত্রীর ভরণপোষণের দায়িত্ব স্বামীর, তাই স্ত্রীকে ফিতরা দেওয়া যাবে না। ঘ. নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক: যারা নিজেরাই সচ্ছল বা ধনী। ঙ. বনু হাশিম: রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রকৃত বংশধর বা সাইয়েদ। চ. অমুসলিম: ফিতরা ও জাকাত মূলত মুসলিম অভাবীদের জন্য নির্ধারিত।

একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
২ ঘণ্টা আগে
‘দোয়া’ শব্দটি মূলত আরবি ‘দাআ’ ধাতু থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে। যার অর্থ—সম্বোধন করা, কাউকে ডাক দেওয়া, আহ্বান করা, প্রার্থনা বা অনুরোধ করা। সহজ কথায়, মহান আল্লাহ তাআলাকে পরম আকুতিতে সম্বোধন করে ডাকা এবং তাঁর কাছে নিজের অভাব-অভিযোগ ও প্রয়োজন পেশ করাই হচ্ছে মূলত দোয়া।
১০ ঘণ্টা আগে
বাগেরহাটের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছেন হজরত খানজাহান আলী (রহ.)। তিনি কেবল একজন পীর বা ধর্মপ্রচারকই ছিলেন না, ছিলেন একাধারে বীর সেনাপতি ও দক্ষ প্রশাসক। তাঁর স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক ‘ঠাকুরদীঘি’ এবং এর বিখ্যাত কুমির ‘কালাপাহাড়’ ও ‘ধলাপাহাড়’-এর গল্প শোনেনি, এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া দায়।
১০ ঘণ্টা আগে
তাহিয়্যাতুল মসজিদ বা দুখুলুল মসজিদ একটি গুরুত্বপূর্ণ নফল নামাজ। তাহিয়্যা অর্থ উপহার এবং দুখুল অর্থ প্রবেশ করা। মসজিদে প্রবেশ করেই উপহার হিসেবে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করা হয় বলে এর নাম তাহিয়্যাতুল মসজিদ অথবা দুখুলুল মসজিদ।
১ দিন আগে