Ajker Patrika

যুদ্ধে ৬ দিনে যুক্তরাষ্ট্রের সমরাস্ত্রে ব্যয় ১১.৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, প্রকৃত খরচ অনেক বেশি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২৬, ১৫: ৪৩
যুদ্ধে ৬ দিনে যুক্তরাষ্ট্রের সমরাস্ত্রে ব্যয় ১১.৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, প্রকৃত খরচ অনেক বেশি
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: এএফপি

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে হু হু করে অর্থ বেরিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের। ঠিক কী পরিমাণে ব্যয় হচ্ছে, সেটিও হিসাব করে বের করতে পারছে না পেন্টাগন। তবে গত মঙ্গলবার এক গোপন ব্রিফিংয়ে শীর্ষ মার্কিন আইনপ্রণেতাদের পেন্টাগনের কর্মকর্তারা জানান, যুদ্ধে সমরাস্ত্রে ব্যয় ইতিমধ্যে ১১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। তবে সংঘাতের শুরুর দিনগুলোর প্রকৃত ব্যয় এই অঙ্কে র চেয়ে আরও অনেক বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তির বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।

ক্যাপিটল হিলে হওয়া ওই বৈঠকের বিষয়ে অবগত একজন জানিয়েছেন, পেন্টাগনের দেওয়া এই হিসাবটি মূলত অস্ত্র ও গোলাবারুদ ব্যবহারের ব্যয়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এতে যুদ্ধের শুরুর দিনগুলোর পূর্ণাঙ্গ চিত্র উঠে আসেনি। ওই অঞ্চলে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন, চিকিৎসা ব্যয় এবং যুদ্ধে হারানো সামরিক বিমান প্রতিস্থাপনের খরচ হিসাব করলে এই অঙ্ক আরও কয়েক গুণ বাড়বে।

গত সপ্তাহে এক প্রতিবেদনে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছিল, যুদ্ধের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদিন প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার মূল্যের গোলাবারুদ ব্যবহার করছিল। পরে তা কমে প্রতিদিন প্রায় এক বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। পরিস্থিতি আরও না বাড়লে যুদ্ধ চলতে থাকায় প্রতিদিনের ব্যয় আরও কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অভিযান-সংক্রান্ত তথ্য স্পর্শকাতর হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব তথ্য দিয়েছেন। তবে অভিযানের ব্যয়ের বিষয়ে পেন্টাগন আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

নিউইয়র্ক টাইমস প্রথম এ তথ্য প্রকাশ করে। পরে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও গার্ডিয়ানও তা নিশ্চিত করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আকস্মিক সিদ্ধান্তে ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া এই যুদ্ধের ব্যাপ্তি ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাসমাবেশ নিয়ে মার্কিন কংগ্রেস যখন বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছে, তখন পেন্টাগনের পক্ষ থেকে এই হিসাবটি সামনে এল।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযানের শুরুর দিকের হামলায় অত্যন্ত আধুনিক ও ব্যয়বহুল ‘প্রিসিশন-গাইডেড’ অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘এজিএম-১৫৪ জয়েন্ট স্ট্যান্ডঅফ উইপন’ নামক একটি গ্লাইড বোমা, যার প্রতিটি ইউনিটের দাম ৫ লাখ ৭৮ হাজার থেকে ৮ লাখ ৩৬ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে। প্রায় দুই দশক আগে মার্কিন নৌবাহিনী এই ধরনের তিন হাজার গোলাবারুদ কিনেছিল।

অভিযান যত গড়াচ্ছে, পেন্টাগন তত সাশ্রয়ী গোলাবারুদ ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে। এখন ‘জয়েন্ট ডিরেক্ট অ্যাটাক মিউনিশন’ বা জেডিএএম বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। এই বোমার সবচেয়ে ছোট ওয়ারহেডের দাম মাত্র এক হাজার ডলার। তবে সাধারণ বোমাকে নিখুঁত লক্ষ্যে আঘাত হানার উপযোগী অস্ত্রে রূপান্তর করতে যে গাইডেন্স কিট ব্যবহৃত হয়, তার দাম প্রায় ৩৮ হাজার ডলার।

অত্যাধুনিক অস্ত্রের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসায় সামরিক সক্ষমতা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে পেন্টাগনকে শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের কাছে অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা বাজেটের আবেদন করতে হবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন।

তবে ট্রাম্প প্রশাসন এখন পর্যন্ত ইরান যুদ্ধ কত দিন চালাবে বা এর চূড়ান্ত লক্ষ্য কী সে বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানায়নি। ফলে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের আইনপ্রণেতারা নতুন করে বড় কোনো তহবিলের অনুমোদন দেওয়ার বিষয়ে ক্রমেই সন্দিহান হয়ে উঠছেন। তাঁরা আশঙ্কা করছেন, এমন কোনো প্যাকেজ অনুমোদন করলে তা সীমাহীন ব্যয়ের দিকে গড়াতে পারে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

নদীর পাড়ে পড়ে ছিল অজ্ঞাতনামা যুবকের গলাকাটা ও মাথাবিহীন লাশ

ছাত্রী সংস্থার নেত্রীকে ডিসির পদ থেকে না সরালে বিএনপির ক্ষতি হবে: হাবিবুল

এমপিকে অভ্যর্থনার পর হত্যা মামলার আসামির পোস্ট ‘এয়ারপোর্টে ভাইকে রিসিভ করলাম’

নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার

মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার শেষে আইসিইউতে মির্জা আব্বাস

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত