Ajker Patrika

জাপান সাগরে দ. কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্র যৌথ মহড়ার সময় উত্তরের ১০ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
জাপান সাগরে দ. কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্র যৌথ মহড়ার সময় উত্তরের ১০ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ
উত্তর কোরিয়া জাপান সাগরের অভিমুখে প্রায় ১০টি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলে দাবি দক্ষিণ কোরিয়ার। ছবি: এএফপি

দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়া নিয়ে ‘ভয়াবহ পরিণতির’ হুঁশিয়ারি দেওয়ার কয়েক দিন পরই জাপান সাগরের অভিমুখে প্রায় ১০টি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে উত্তর কোরিয়া। আজ শনিবার সিউলের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ (জেসিএস) এই তথ্য জানিয়েছে।

সম্প্রতি ওয়াশিংটনের মিত্র দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কোন্নয়নের সব আশা ধূলিসাৎ করে দিয়েছে পিয়ংইয়ং। সিউলের সর্বশেষ শান্তি প্রচেষ্টাকে ‘অদক্ষ ও প্রতারণামূলক প্রহসন’ হিসেবে অভিহিত করেছে তারা।

জেসিএস এক বিবৃতিতে জানায়, স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে উত্তর কোরিয়ার সুনান এলাকা থেকে পূর্ব সাগরের দিকে প্রায় ১০টি অজ্ঞাত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে সিউলের সামরিক বাহিনী শনাক্ত করেছে।

জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে তারা জানায়, একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের কথা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ‘উত্তর কোরিয়া থেকে সম্ভবত একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।’

সামরিক সূত্রের বরাতে জাপানি সংবাদমাধ্যম এনএইচকের প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষেপণাস্ত্রটি জাপানের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের (ইইজেড) কাছাকাছি পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিম মিন-সক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করার কয়েক ঘণ্টা পরই এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনা ঘটল। কিম মিন-সক জানিয়েছিলেন, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক করা ‘ভালো হবে’ বলে মনে করেন ট্রাম্প।

দশকের পর দশক ধরে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি ভেঙে দেওয়ার প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে শীর্ষ বৈঠক, নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক চাপ—কোনো কিছুতেই এখন পর্যন্ত বিশেষ কাজ হয়নি।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসন পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছে। এ বছরের মধ্যেই কিম জং উনের সঙ্গে সম্ভাব্য একটি শীর্ষ বৈঠকের কথা ভাবা হচ্ছে। এমনকি এপ্রিলে ট্রাম্পের বেইজিং সফরের সময়ও বৈঠকটি হতে পারে।

ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিম বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাঁকে জানিয়েছেন যে কিম জং উনের সঙ্গে সাক্ষাৎ হওয়া ‘ভালো’ হবে। মার্চের শেষ দিকে শুরু হতে যাওয়া ট্রাম্পের বেইজিং সফরের সময় এমন বৈঠক হতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।

গত অক্টোবরে এশিয়া সফরের সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি কিম জং উনের সঙ্গে সাক্ষাতে ‘শতভাগ প্রস্তুত’। তবে উত্তর কোরিয়া তখন সেই আহ্বানে সাড়া দেয়নি।

কয়েক মাস ধরে এই প্রস্তাবগুলো উপেক্ষা করার পর সম্প্রতি কিম জং উন বলেন, ওয়াশিংটন যদি পিয়ংইয়ংকে পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হিসেবে মেনে নেয়, তাহলে দুই দেশ ‘সহাবস্থান করতে পারে’।

‘ভয়াবহ পরিণতি’

গত মাসে কিম জং উন বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার ‘কোনো ধরনের সম্পর্ক রাখার প্রয়োজন নেই’। তিনি দক্ষিণ কোরিয়াকে ‘সবচেয়ে শত্রুভাবাপন্ন সত্তা’ অভিহিত করে বলেন, ভবিষ্যতে দক্ষিণ কোরিয়াকে আর সহোদর জাতির অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হবে না।

গত সোমবার থেকে সিউল ও ওয়াশিংটন তাদের বসন্তকালীন যৌথ সামরিক মহড়া ‘ফ্রিডম শিল্ড’ শুরু করেছে। আজ শনিবার শত শত মার্কিন ও দক্ষিণ কোরীয় সেনা ট্যাংক ও সাঁজোয়া যানসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে নদী পারাপারের মহড়া চালিয়েছে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি পর্যবেক্ষণ করেন দেশ দুটির সম্মিলিত বাহিনীর কমান্ডার। বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ সেনা এবং যুদ্ধবিমানের স্কোয়াড্রন মোতায়েন রয়েছে। আগামী ১৯ মার্চ পর্যন্ত চলতে থাকা এই মহড়ায় প্রায় ১৮ হাজার দক্ষিণ কোরীয় সেনা অংশ নিচ্ছে।

পারমাণবিক অস্ত্রধারী উত্তর কোরিয়া দীর্ঘকাল ধরেই এই ধরনের মহড়াকে দেশটিতে আক্রমণের মহড়া হিসেবে বর্ণনা করে আসছে। উল্লেখ্য, ১৯৫০ সালে প্রতিবেশীর ওপর উত্তর কোরিয়ার আক্রমণের মাধ্যমেই কোরীয় যুদ্ধের সূত্রপাত হয়েছিল।

এই সপ্তাহের শুরুতে কিম জং উনের বোন ও ঘনিষ্ঠ সহযোগী কিম ইয়ো জং সতর্ক করে বলেন, যৌথ এই সামরিক মহড়া ‘কল্পনাতীত ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, এই মহড়া এমন এক ‘সংকটময় সময়ে’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তার কাঠামো দ্রুত ভেঙে পড়ছে এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতির জন্য ‘বেপরোয়া আন্তর্জাতিক দুর্বৃত্তদের’ দায়ী করেন তিনি।

পিয়ংইয়ং ইরান ও ইসরায়েলে মার্কিন হামলাকে ‘অবৈধ আগ্রাসন’ হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে। তাদের দাবি, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ‘জল্লাদ’ সুলভ আচরণের বহিঃপ্রকাশ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

নদীর পাড়ে পড়ে ছিল অজ্ঞাতনামা যুবকের গলাকাটা ও মাথাবিহীন লাশ

এমপিকে অভ্যর্থনার পর হত্যা মামলার আসামির পোস্ট ‘এয়ারপোর্টে ভাইকে রিসিভ করলাম’

গণহত্যার মামলায় আইসিজেতে ইসরায়েলের পক্ষে-বিপক্ষে ৬ দেশ

জাল সনদে ১২৮ শিক্ষক, ফেরত দিতে হবে টাকা

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাব: জ্বালানির সংকটে আশার আলো দেখছে বাংলাদেশ

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত