
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালি সুরক্ষিত রাখতে আন্তর্জাতিক নৌ-জোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প দাবি করেছেন, তাঁর এই আহ্বানের পর ‘অনেক দেশ’ তাঁকে জানিয়েছে, ‘তারা যোগ দেওয়ার পথে রয়েছে।’ অথচ এখন পর্যন্ত মিত্র অনেক দেশই তাঁর এই কোয়ালিশন বা জোটে যোগ দিতে অস্বীকার করেছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতকাল সোমবার বেশ কয়েকটি দেশকে এই জোটে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানোর পর ট্রাম্প এই বিবৃতি দেন। তবে তিনি নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি। ট্রাম্প বলেন, ‘অনেক দেশ আমাকে বলেছে তারা আসার পথে আছে। কেউ কেউ এ ব্যাপারে খুব উৎসাহী, আবার কেউ কেউ নয়।”
পরে কোন দেশগুলো যোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জানতে চাইলে ট্রাম্প উত্তর দেন, ‘আমি এখনই তা বলতে চাইছি না।’ তিনি যোগ করেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এ বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘তারা ইতিমধ্যে শুরু করেছে—সেখানে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগে। কিছু ক্ষেত্রে আপনাকে সমুদ্র পাড়ি দিতে হয়, তাই খুব দ্রুত হওয়া সম্ভব নয়, তবে দ্রুতই হবে। এবং আমাদের কিছু স্থানীয় দেশ রয়েছে, যারা এটি করছে।’
গত সপ্তাহের শেষে এক আহ্বানে ট্রাম্প চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাজ্যকে এই জোটে যোগ দেওয়া উচিত বলে চিহ্নিত করেছিলেন। পরে তিনি ‘বিশ্বের সেসব দেশ যাঁরা হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে তেল পায়’, বিশেষ করে ন্যাটো জোটের সদস্যদের এই জোটে যোগ দিতে বলেন।
এখন পর্যন্ত কোনো দেশ তাদের অংশগ্রহণের কথা নিশ্চিত করেনি। বিপরীতে বেশ কয়েকটি দেশ ইতিমধ্যে এই সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়া, জাপান, পোল্যান্ড, সুইডেন এবং স্পেন জানিয়েছে যে সামরিক জাহাজ পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।
সোমবার আরও কয়েকজন ইউরোপীয় নেতা এই তালিকায় যোগ দিয়েছেন। জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস বলেছেন, এতে ‘কোনো সামরিক অংশগ্রহণ’ থাকবে না, তবে বার্লিন কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় সহায়তা করতে আগ্রহী।
দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাজ্য জানিয়েছে তারা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, ওই অঞ্চলে মাইন-হান্টিং ড্রোন (মাইন সন্ধানী ড্রোন) দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে, তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে যুক্তরাজ্য ‘ব্যাপক কোনো যুদ্ধে জড়াবে না।’ ফ্রান্স অবশ্য সাহায্য করার বিষয়ে কিছুটা বেশি আগ্রহ দেখিয়েছে।
এদিকে যেসব দেশ এই মিশনে সমর্থন দিচ্ছে না, সোমবার ট্রাম্প আবারও তাদের লক্ষ্য করে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘এদের মধ্যে এমন কিছু দেশ আছে যাদের আমরা বহু বছর ধরে সাহায্য করেছি। আমরা তাদের ভয়াবহ বহিঃশত্রুর হাত থেকে রক্ষা করেছি, অথচ তারা খুব একটা উৎসাহ দেখাল না।’
নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম না নিয়ে ট্রাম্প একটি প্রত্যাখ্যানের ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করেন। তিনি বলেন, ‘এমন কিছু দেশ আছে যেখানে আমাদের ৪৫ হাজার সৈন্য রয়েছে...তাদের ক্ষতি থেকে রক্ষা করছে এবং আমরা দারুণ কাজ করেছি। এবং আমরা জানতে চেয়েছিলাম, আপনাদের কি কোনো মাইন সুইপার (মাইন অপসারণকারী জাহাজ) আছে? উত্তর এল—‘স্যার, আমরা বরং এতে না জড়াতেই পছন্দ করব’।’
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের ওপর ইরানের বারবার হামলার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ট্রাম্প যুক্তি দিয়েছেন, এই পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব থেকে যুক্তরাষ্ট্র অনেকটা সুরক্ষিত, যদিও অর্থনীতিবিদেরা বলছেন এর প্রভাব বিশ্বজুড়ে অনুভূত হবে।
বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের ২০ থেকে ৩০ শতাংশ এই সংকীর্ণ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়, যা ইরানকে আরব উপদ্বীপ থেকে পৃথক করেছে। সোমবার ট্রাম্প দাবি করেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে ইরানের ১০০টির বেশি নৌযান ‘ডুবিয়ে বা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে’, যার মধ্যে ৩০টির বেশি ‘মাইন স্থাপনকারী জাহাজ’ রয়েছে।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল উৎক্ষেপণ ৯০ শতাংশ এবং ড্রোন হামলা ৯৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। সব মিলিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানজুড়ে ৭ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে, যার ‘বেশির ভাগই বাণিজ্যিক ও সামরিক লক্ষ্যবস্তু।’
মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল যখন জানাল যে মিনাবে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় অন্তত ১৭০ জন নিহত হয়েছে (যাদের অধিকাংশই শিশু), তার ঠিক পরেই ট্রাম্প এই কথাগুলো বলেন। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানে অন্তত ১ হাজার ৪৪৪ জন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ২০ জন এবং ইসরায়েলে ১৫ জন নিহত হয়েছে। এ ছাড়া ১৩ জন মার্কিন সৈন্যও নিহত হয়েছে।
জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা জানিয়েছে, লড়াইয়ের কারণে ইরানের অভ্যন্তরে প্রায় ৩২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
ইরানি কর্মকর্তারা অবশ্য এখনো অনড় অবস্থানে রয়েছেন। গতকাল সোমবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইঙ্গিত দিয়েছেন, তেহরান তাদের অভিযান চালিয়ে যাবে। তিনি বলেন, ‘এতক্ষণে তারা...বুঝতে পেরেছে তারা কেমন জাতির মোকাবিলা করছে। এমন এক জাতি, যারা নিজেদের রক্ষা করতে দ্বিধা করে না এবং এই যুদ্ধ যেদিকেই যাক না কেন, তা চালিয়ে যেতে এবং যত দূর প্রয়োজন তত দূর নিয়ে যেতে প্রস্তুত।’

ইরানে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে একটি হৃদয়বিদারক ছবি বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলেছে। ছবিতে দেখা যায়, সারি সারি নতুন খোঁড়া কবর—একটি ছোট শহরের কবরস্থানে শতাধিক স্কুলছাত্রীর দাফনের প্রস্তুতি চলছে। বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলায় নিহত এসব কিশোরীর জন্যই খোঁড়া হয়েছে এই কবরগুলো।
৪ মিনিট আগে
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলার আউশগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক। এই আসনটিতে পেশায় পরিচারিকা এক নারী প্রার্থী করেছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। এমনকি সদ্য প্রকাশিত ভোটার তালিকায় ওই নারী এখনো ভোটারই হননি। তালিকায় তাঁর নাম কলিতা মাজির পাশে লেখা...
৩৬ মিনিট আগে
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির মস্কোতে চিকিৎসা নেওয়ার দাবি অস্বীকার করেছেন রাশিয়ায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি।
১ ঘণ্টা আগে
ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় দেশটিতে অবৈধভাবে আনা শতাধিক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ডিভাইস জব্দ করার দাবি করেছে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মাধ্যমে এসব স্টারলিংক টার্মিনাল দেশে পাচার করা হয়েছে।
২ ঘণ্টা আগে