
ইরানে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে একটি হৃদয়বিদারক ছবি বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলেছে। ছবিতে দেখা যায়, সারি সারি নতুন খোঁড়া কবর—একটি ছোট শহরের কবরস্থানে শতাধিক স্কুলছাত্রীর দাফনের প্রস্তুতি চলছে। বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলায় নিহত এসব কিশোরীর জন্যই খোঁড়া হয়েছে এই কবরগুলো। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে—ছবিটি কি সত্যি, নাকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বা বিকৃত?
এই বিষয়ে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। এতে বলা হয়েছে, ইরানের মিনাব শহরের এই কবরস্থানের ছবি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং যুদ্ধের মানবিক ক্ষয়ক্ষতির প্রতীক হিসেবে আলোচিত হয়। ছবিতে দেখা যায়, সারিবদ্ধভাবে অন্তত ৬০ টির বেশি কবর খোঁড়া হয়েছে। সামনে আরও অনেক কবরের স্থান চিহ্নিত করে রাখা হয়েছে। আশপাশে শোকাহত মানুষের ছোট ছোট দল দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
তবে এই ছবির সত্যতা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করে বিভিন্ন এআই টুল। গুগলের এআই সেবা গুগল জেমিনি দাবি করে, ছবিটি ইরানের নয়; বরং এটি ২০২৩ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর তুরস্কের কাহরামানমারাশ অঞ্চলের একটি গণকবরের দৃশ্য। অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এর এআই সহকারী গ্রোক জানিয়েছে, এটি আসলে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তার রোরোতান কবরস্থানে কোভিড-১৯ মহামারির সময় তোলা একটি ছবি।
দুটি এআই-ই তাদের ব্যাখ্যায় আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গি দেখালেও, সূত্র যাচাই করতে গিয়ে দেখা গেছে—সেগুলোর বেশির ভাগই ভুয়া বা অস্তিত্বহীন। শেষ পর্যন্ত গবেষকেরা স্যাটেলাইট চিত্র, বিভিন্ন কোণ থেকে তোলা ছবি এবং ভিডিও ফুটেজ মিলিয়ে নিশ্চিত করেছেন—ছবিটি আসল এবং সেটি ইরানের মিনাব শহরেরই।
এই ঘটনা শুধু একটি ছবির সত্যতা যাচাইয়ের বিষয় নয়; বরং যুদ্ধসংক্রান্ত তথ্যপ্রবাহে এআই-নির্ভর বিভ্রান্তির একটি বড় উদাহরণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান যুদ্ধের খবরের সঙ্গে এখন যুক্ত হয়েছে ‘এআই স্লপ’—অর্থাৎ ভুয়া ছবি, ভুল বিশ্লেষণ এবং কল্পিত তথ্যের বন্যা।
যুদ্ধের শুরু থেকেই ভুয়া ছবির ছড়াছড়ি লক্ষ্য করা গেছে। উদাহরণ হিসেবে, কাতারে একটি মার্কিন রাডার ধ্বংসের দাবি করে প্রচারিত একটি স্যাটেলাইট ছবি পরে এআই দিয়ে তৈরি প্রমাণিত হয়। ছবিতে ব্যবহৃত গাড়িগুলোর অবস্থান দুই বছর আগের গুগল আর্থ ছবির সঙ্গে হুবহু মিল ছিল।
এ ছাড়া ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধারের দাবি করা কিছু ছবিতেও এআই ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। যেমন—মরদেহ উদ্ধারকারীদের শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের অস্বাভাবিক পুনরাবৃত্তি দেখা গেছে।
বিবিসি ভ্যারিফাই-এর জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শায়ান সারদারিজাদেহ জানান, এখন তাঁদের কাজের বড় একটি অংশই এআই-নির্মিত ভুয়া তথ্য শনাক্ত করা। তিনি বলেন, ‘এখন আমরা যে ভাইরাল ভুয়া তথ্যগুলো শনাক্ত করি, তার প্রায় অর্ধেকই জেনারেটিভ এআই দিয়ে তৈরি।’
এই প্রবণতার পেছনে দুটি বড় কারণ রয়েছে। প্রথমত, এখন যে কেউ সহজেই বাস্তবসম্মত ছবি বা ভিডিও তৈরি করতে পারে। দ্বিতীয়ত, মানুষ ক্রমেই মূল সংবাদসূত্রে না গিয়ে এআই-সারাংশের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি থেকে গুগল ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে এআই সারাংশ চালু হওয়ার পর তা ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
তবে সমস্যা হলো, এসব এআই সারাংশ প্রায়ই ভুল তথ্য দেয়। ২০২৫ সালের এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, এআই-উৎপাদিত প্রায় অর্ধেক সারাংশে অন্তত একটি গুরুতর তথ্যগত বা সূত্রগত ভুল থাকে। কিছু ক্ষেত্রে, যেমন জেমিনির ক্ষেত্রে, এই হার ৭৬ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই মূলত একটি সম্ভাবনাভিত্তিক ভাষা মডেল—এটি তথ্য যাচাই করে না, বরং সম্ভাব্য শব্দের সমন্বয়ে বাক্য তৈরি করে। ফলে এটি বিশ্বাসযোগ্য শোনালেও সব সময় সঠিক হয় না।
ওপেন-সোর্স গোয়েন্দা বিশ্লেষক তাল-হাগিন বলেন, ‘মানুষ এআই-কে সবজান্তা মনে করে। কিন্তু বাস্তবে এটি একটি উন্নত সম্ভাবনা-নির্ভর যন্ত্র—সত্য যাচাইয়ের যন্ত্র নয়।’
এই বিভ্রান্তির কারণে মানবাধিকার তদন্তকারীদের কাজও ব্যাহত হচ্ছে। স্বাধীন গবেষক ক্রিস ওসিয়েক জানান, তাদের অনেক সময় নষ্ট হচ্ছে এআই-নির্মিত ভুয়া কনটেন্ট শনাক্ত করতে গিয়ে। অথচ এই সময়টি তাদের প্রকৃত ঘটনার তদন্তে ব্যয় করা উচিত ছিল।
সবচেয়ে বড় আশঙ্কা হলো—এভাবে চলতে থাকলে সত্য ঘটনাও মানুষ সন্দেহ করতে শুরু করবে। মিনাবের কবরস্থানের মতো বাস্তব ছবিও অনেকে ‘এআই-তৈরি’ বলে উড়িয়ে দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতা শুধু তথ্য বিভ্রান্তি নয়, বরং মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও গভীরভাবে উদ্বেগজনক।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলার আউশগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক। আসনটিতে পেশায় পরিচারিকা এক নারীকে প্রার্থী করেছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। এমনকি সদ্য প্রকাশিত ভোটার তালিকায় ওই নারী এখনো ভোটারই হননি। তালিকায় তাঁর নাম কলিতা মাজির পাশে লেখা...
২ ঘণ্টা আগে
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির মস্কোতে চিকিৎসা নেওয়ার দাবি অস্বীকার করেছেন রাশিয়ায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি।
৩ ঘণ্টা আগে
ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় দেশটিতে অবৈধভাবে আনা শতাধিক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ডিভাইস জব্দ করার দাবি করেছে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মাধ্যমে এসব স্টারলিংক টার্মিনাল দেশে পাচার করা হয়েছে।
৩ ঘণ্টা আগে
দীর্ঘ এক দশক আফগানিস্তানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হয়ে কাজ করার পর যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে আনা এক আফগান নাগরিক টেক্সাসের হাসপাতালে মারা গেছেন। অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হেফাজতে নেওয়ার পরই তাঁর মৃত্যু হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
৪ ঘণ্টা আগে