
ইরান যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েলের কাছে ১২ হাজার বোমা বিক্রির অনুমোদন দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন কংগ্রেসের দীর্ঘসূত্রতা ও পর্যালোচনা প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ এড়িয়ে প্রেসিডেন্টের জরুরি ক্ষমতা প্রয়োগ করে এই সিদ্ধান্ত নিলেন ট্রাম্প।
আজ শনিবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ইসরায়েল সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুততম সময়ে ১২ হাজার ‘বিএলইউ-১১০ এ/বি’ বোমা ও ১,০০০ পাউন্ড ওজনের বোমার খোলসের অনুরোধ জানানো হয়েছিল, যার মোট বাজারমূল্য প্রায় ১৫১ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই বিশেষ অস্ত্র বিক্রির স্বপক্ষে বিস্তারিত যুক্তি উপস্থাপন করে জানিয়েছেন, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে এমন এক জরুরি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে যেখানে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই কংগ্রেসের সাধারণ পর্যালোচনা ছাড়াই ইসরায়েলকে এই সামরিক সহায়তা দেওয়া আবশ্যক।
সাধারণত মার্কিন আইন অনুযায়ী, যেকোনো বড় আকারের অস্ত্র চুক্তির ক্ষেত্রে সংসদের উভয় কক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। তবে জাতীয় নিরাপত্তার ‘ইমার্জেন্সি’ বা জরুরি অবস্থা ঘোষণার মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন এই আইনি বাধ্যবাধকতা কাটিয়ে উঠেছে। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের ফলে ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়িয়েছে এবং কংগ্রেসের অনেক সদস্য প্রশাসনের এই একপাক্ষিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
শনিবার সকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় ইরানের বিরুদ্ধে আরও ভয়াবহ আক্রমণের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ইরানের ‘উদ্ধত আচরণের’ জন্য আজ দেশটিকে অত্যন্ত কঠিন আঘাত সহ্য করতে হবে।
ট্রাম্পের এই বার্তার সবচেয়ে উদ্বেগজনক অংশটি ছিল সেই সব লক্ষ্যবস্তু নিয়ে, যেগুলোকে আগে সামরিক অভিযানের বাইরে রাখা হয়েছিল। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইরানের বর্তমান আচরণের কারণে এখন এমন কিছু এলাকা এবং জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা চালানো হতে পারে যা ইতিপূর্বে কখনো লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হয়নি। তাঁর এই মন্তব্য থেকে ধারণা করা যাচ্ছে, আমেরিকা ও ইসরায়েল এখন ইরানকে ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ এবং ‘নিশ্চিত মৃত্যু’র মুখে ঠেলে দেওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ১২ হাজার বোমা বিক্রির উদ্দেশ্য ইসরায়েল এবং আমেরিকা ইরানের অবশিষ্ট সামরিক পরিকাঠামো এবং কৌশলগত স্থাপনাগুলো মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে চায়। বিশেষ করে ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক কেন্দ্র এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ইউনিটগুলো ধ্বংস করাই এখন এই বিশাল পরিমাণ গোলাবারুদ ব্যবহারের প্রধান উদ্দেশ্য। অন্যদিকে, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এরই মধ্যে দুর্বল হয়ে পড়ায় এবং দেশটির ব্যালিস্টিক মিসাইল ছোঁড়ার সক্ষমতা প্রায় ৯০ শতাংশ হ্রাস পাওয়ায়, ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর জন্য এই নতুন বোমাগুলো ব্যবহারের পথ আরও সুগম হয়েছে।

দক্ষিণ লেবাননভিত্তিক মিলিশিয়া বাহিনী হিজবুল্লাহর ওপর ইসরায়েলের প্রতিশোধমূলক হামলায় ছোট দেশটিতে ধ্বংস ও মানবিক বিপর্যয় চরমে উঠেছে। গত ৫ দিনে অন্তত ২৯৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৩ জনে। শুধু রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলেই এ পর্যন্ত নিহত হয়েছে ১২০ জন।
১৮ মিনিট আগে
ইরান যুদ্ধ যখন এক চরম উত্তেজনাকর পর্যায়ে রয়েছে, তখন এক চাঞ্চল্যকর দাবি তুলেছে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী মিশন। তেহরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বিভিন্ন আরব দেশের বেসামরিক অবকাঠামো, জনবসতি ও লক্ষ্যবস্তুতে যেসব ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো...
৩ ঘণ্টা আগে
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জারা সুলতানা দাবি করেন, মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো ‘ব্রিটিশ মাটিতে’ অবতরণ করছে এবং সেখান থেকেই উড়ে গিয়ে ইরানে বোমা ফেলছে। তিনি বলেন, এর অর্থ হলো যুক্তরাজ্য এই যুদ্ধে ‘সরাসরি জড়িত’।
৪ ঘণ্টা আগে
যুদ্ধের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ইরানে আমরা খুব ভালো করছি। এটি অবিশ্বাস্য ছিল। গত তিন দিনে আমরা ৪২টি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করেছি। সেই সঙ্গে তাদের বিমানবাহিনী এবং টেলিযোগাযোগব্যবস্থাও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।’
৪ ঘণ্টা আগে