
ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট ও মূল্যবৃদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে রীতিমতো অর্থের পাহাড় গড়ে তুলছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানা গেছে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বর্তমানে তেল ও গ্যাস রপ্তানি থেকে প্রতিদিন অন্তত ৭৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৫৭০ মিলিয়ন ব্রিটিশ পাউন্ড) আয় করছেন।
কিয়েভ স্কুল অব ইকোনমিকস (কেএসই) ইনস্টিটিউটের তথ্যমতে, চলতি মাসে রাশিয়ার জ্বালানি বিক্রির পরিমাণ ১২ বিলিয়ন ডলার থেকে দ্বিগুণ হয়ে ২৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩৮ শতাংশ বেড়ে বর্তমানে প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। তবে রাশিয়ার জন্য সবচেয়ে বড় সুযোগটি তৈরি করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাশিয়ার তেলের ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার কারণে পুতিন এখন বিশ্ববাজারে চড়া দামে তেল বিক্রি করতে পারছেন।
কেএসই ইনস্টিটিউটের বোরিস দোদোনভ জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম যতটা বেড়েছে, রাশিয়ার তেলের দাম তারচেয়ে দ্রুতগতিতে (প্রায় ৭২ শতাংশ) বেড়েছে। এর আগে নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়াকে অনেক কম দামে তেল বিক্রি করতে হতো, কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের শিথিলতার কারণে সেই ঝুঁকি এখন আর নেই। ফলে রাশিয়া এখন ভারত ও চীনের কাছে প্রায় কোনো ডিসকাউন্ট ছাড়াই, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়েও বেশি দামে তেল বিক্রি করছে।
যদি ইরান যুদ্ধ আগামী এপ্রিলের মধ্যে শেষ হয়ে যায়, তবু রাশিয়া এ বছর জ্বালানি খাত থেকে প্রায় ২১৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার আয় করবে, যা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ৬৩ শতাংশ বেশি। আর যদি এই যুদ্ধ ছয় মাস স্থায়ী হয়, তবে রাশিয়ার বার্ষিক আয় ৩৮৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে, যা যুদ্ধপূর্ব প্রাক্কলনের চেয়ে ১৮৮ শতাংশ বেশি।
গত সোমবার এক অর্থনৈতিক বৈঠকে পুতিন রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলোকে এই অতিরিক্ত মুনাফা ব্যবহার করে অভ্যন্তরীণ ব্যাংকগুলোর ঋণ পরিশোধ করার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি একে একটি ‘পরিপক্ব সিদ্ধান্ত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ এবং আইএমএফের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ সাইমন জনসন এই পরিস্থিতিকে ‘বিপর্যয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘এটি বিশ্ববাজারে তেলের দাম হ্রাসে কোনো প্রভাব ফেলবে না, কারণ, রাশিয়ার তেল আগে থেকেই বাজারে আসছিল। এটি কেবল প্রতি ব্যারেলে রাশিয়ার আয়ের পরিমাণ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে, যার অর্থ হলো আমাদের শত্রুদের পকেটে আমরা নিজেরাই অর্থ তুলে দিচ্ছি।’
সামুদ্রিক তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘ভার্টেক্সা’র মতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি ৭২ শতাংশ বাড়িয়ে দিয়েছে, যা প্রতিদিন অতিরিক্ত ৭ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলের সমান। ট্রাম্পের এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সিদ্ধান্তটি বিশ্বজুড়ে একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার ওপর চাপ কমিয়ে দিচ্ছে, যা পুতিনের যুদ্ধকালীন অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করছে।

হিজবুল্লাহর রকেট হামলায় ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলের নাহারিয়ায় এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ হামলায় অপর এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। ইরান ও হিজবুল্লাহর হামলার কারণে ইসরায়েলের তেল আবিব, মধ্যাঞ্চলীয় এলাকা ও জেরুজালেমে বৃহস্পতিবার প্রায় সারাদিন থেমে থেমে সতর্ক সংকেত বেজেছে।
৬ মিনিট আগে
ইরানের এই পদক্ষেপকে ‘উপহার’ ও ‘ভালো ইঙ্গিত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) হোয়াইট হাউসে আয়োজিত কেবিনেট মিটিংয়ে তিনি এই তথ্য জানান।
১ ঘণ্টা আগে
ইউক্রেন যুদ্ধে ইরানের তৈরি ‘শাহেদ’ ড্রোন ব্যবহার করে সুবিধা পাওয়ার পর, এবার পাল্টা সহায়তায় এগিয়ে এসেছে রাশিয়া। পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ইরানকে সহায়তার জন্য রাশিয়া ড্রোন, ওষুধ...
১ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রের স্থল আক্রমণের ক্রমবর্ধমান জল্পনার মধ্যে ইরানি যোদ্ধাদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। ওই সামরিক সূত্রটি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ইরানি যোদ্ধারা নিজ মাটিতে মার্কিনিদের জন্য একটি ‘ঐতিহাসিক জাহান্নাম’ তৈরি করতে প্রস্তুত।
২ ঘণ্টা আগে