Ajker Patrika

ইরানে অভ্যুত্থান ঘটাতে ব্যর্থ মোসাদ, খেপেছেন নেতানিয়াহু

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৩ মার্চ ২০২৬, ২১: ২৬
ইরানে অভ্যুত্থান ঘটাতে ব্যর্থ মোসাদ, খেপেছেন নেতানিয়াহু
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: বিবিসি

ইরানে হামলার আগে দেশটিতে গণ-আন্দোলন উসকে দেওয়ার জন্য পরিকল্পনা করেছিল ইসরায়েল। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব ছিল দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের। কিন্তু সংস্থাটি তাতে ভয়াবহভাবে ব্যর্থ হওয়ার তাদের ওপর চটেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

গতকাল রোববার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বর্তমান ও সাবেক মার্কিন ও ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে যে—নেতানিয়াহু এই পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন তখন, যখন তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করতে রাজি করিয়েছিলেন।

তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এখন মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা ইরানের সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করছেন এবং মনে করছেন—গণবিস্ফোরণের পরিস্থিতি এখনো প্রস্তুত নয়। জানুয়ারিতে বিক্ষোভকারীদের ওপর চালানো হত্যাযজ্ঞের পুনরাবৃত্তির ভয় এবং মার্কিন-ইসরায়েলি বোমাবর্ষণের বিপদ আরও বিক্ষোভের সম্ভাবনাকে শীতল করেছে।

প্রতিবেদনের মতে, ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-তে প্রকাশিত একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, যুদ্ধের প্রস্তুতির সময় মোসাদপ্রধান ডেভিড বার্নিয়া নেতানিয়াহুর সামনে একটি পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছিলেন। পরিকল্পনায় বলা হয়েছিল, ইরানের নেতাদের হত্যা হওয়ার পর তাঁর সংস্থা ইরানি বিরোধী দলকে প্ররোচিত করতে পারবে এবং গোয়েন্দা কার্যক্রমের মাধ্যমে গণবিক্ষোভ এবং প্রতিরোধ সৃষ্টি করে সরকারকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে পারবে। তিনি এই পরিকল্পনা হোয়াইট হাউসেও উপস্থাপন করেছিলেন।

ইরানে অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার জন্য পরিকল্পিত ছিল। কিন্তু ইরানের নেতারা দৃঢ় অবস্থান নেন, যা মার্কিন কর্মকর্তারা সম্ভাব্য বলেই মনে করেছিল। ইরান সরকারের প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীগুলো একে অপরের সঙ্গে লড়াই করতে পারে, কিন্তু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—এমন সংঘর্ষের ফলে একটি গণতান্ত্রিক সরকার আসার সম্ভাবনা খুবই কম। ইরানের বাইরে থেকে কুর্দি মিলিশিয়াদের সরকারের পতনে সাহায্য করার প্রস্তাবও কার্যকর হয়নি।

ইসরায়েলি কর্মকর্তারা এখনো সরকার পরিবর্তনের আশা রাখছেন, কিন্তু গণবিপ্লব না হওয়ায় নেতানিয়াহু হতাশ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু ‘পর্দার আড়ালে মোসাদ ইরানে যে বিদ্রোহ সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তা এখনো পূর্ণ না হওয়ায়’ বিরক্তি প্রকাশ করেছেন।

যুদ্ধের শুরুতে এক নিরাপত্তা বৈঠকে নেতানিয়াহু ‘পরিকল্পনা কাজ করছে না’ বলে অভিযোগ করেন এবং ট্রাম্প ‘যেকোনো মুহূর্তে অভিযান বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন’ বলে হতাশা প্রকাশ করেন। নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, বার্নিয়ার পূর্বসূরি জোশি কোহেন ইরানে সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম মনে করতেন এবং মোসাদের এই প্রকল্পের কাজকে গুরুত্ব কমিয়ে দিয়ে, যুদ্ধের মাধ্যমে সরকারের দুর্বলতা তৈরি এবং পারমাণবিক বিজ্ঞানীদের টার্গেট হত্যার দিকে মনোনিবেশ করেছিলেন।

কিন্তু বার্নিয়া গত এক বছরে সম্পূর্ণ বিপরীত কৌশল গ্রহণ করে। সংস্থার পুরো শক্তি সরকার পরিবর্তনের দিকে নিয়োজিত করেন। শুরুতে ব্যাপক বিমান হামলার পর গণবিক্ষোভ উদ্দীপনার আশা ছিল। তবে মার্কিন কর্মকর্তা এবং কিছু ইসরায়েলি কর্মকর্তা সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনার ব্যাপারে কম আশাবাদী ছিলেন এবং মনে করতেন না যে—ইরান সরকার ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধে ধ্বংস হবে।

নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের প্রাক্তন ইরান-বিষয়ক আলোচনার সদস্য নেট সুয়ানসন বলেছেন, ইরানিরা বিক্ষোভে যেতে সংকোচ করছে। যুদ্ধের আগে ব্যাপক বিক্ষোভ সরকার কর্তৃক রক্তাক্তভাবে দমন করা হয়েছিল, যেখানে কয়েক হাজার মানুষকে হত্যা করেছে। যুদ্ধ শুরুতে ট্রাম্প এক ভাষণে বলেছেন, ইরানিরা কেবল বোমাবর্ষণের থেকে নিজেদের রক্ষা করার পরেই রাস্তায় নামুক।

সুয়ানসন বলেছেন, তিনি কখনো ইরানিতে বিদ্রোহ সৃষ্টি করার ‘গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা’ দেখেননি। তিনি বলেছেন, ‘অনেক বিক্ষোভকারী রাস্তায় আসছে না কারণ তাদের গুলি করা হবে। তারা নিহত হবে। আরেকটি বিষয়, আছে একটি বড় অংশ মানুষ যারা ভালো জীবন চায়, তারা এখন পাশে রয়েছে। তারা সরকার পছন্দ করে না, কিন্তু মারা যেতে চায় না। সেই ৬০ শতাংশ মানুষ বাড়িতেই থাকবে।’

তিনি আরও বলেছেন, ‘পনারা এখনো উগ্র সরকার বিরোধীদের পাবেন, কিন্তু তারা সশস্ত্র নয় এবং জনগণের বড় অংশকে রাস্তায় আনতে সক্ষম নয়।’

তবে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা এখনো আশা রাখছেন, এটি ঘটতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ইয়েখিয়েল লইটার বলেছেন, ‘আমরা মনে করি যে আমাদের অন্য কোনো পদক্ষেপ প্রয়োজন, কিন্তু তা ইরানিদের পদক্ষেপ হতে হবে এবং আমি মনে করি তা আসছে। এখন আমাদের যা করতে হবে তা হলো এই সরকারের ক্ষমতা এমনভাবে দুর্বল করা যাতে তারা আর শক্তিশালী না থাকে। আশা করি, এটাই সেই সময় আনবে যখন মানুষ নিজেদের জীবনের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত