Ajker Patrika

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ: তেল সংকটে হিসাবি এশিয়া

  • কর্মদিবস সপ্তাহে ৪ দিনে নামিয়ে এনেছে ফিলিপাইন
  • থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে কর্মীদের ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ চালু
  • এক দিন পরপর গাড়ি চালানোর নির্দেশ মিয়ানমারে
  • বিকল্প জ্বালানির উৎস খুঁজছে কেউ কেউ
আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ: তেল সংকটে হিসাবি এশিয়া
ফিলিপাইনের একটি তেলের পাম্পে উদ্বিগ্ন মোটরসাইকেল চালকেরা। ছবি-সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন বন্ধ, উপসাগরীয় দেশগুলোয় সতর্কতার অংশ হিসেবে তেল ও গ্যাস উৎপাদন বন্ধের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোয়। জ্বালানি সংকটের জেরে ফিলিপাইন সরকার দেশটিতে কর্মদিবস সপ্তাহে ৪ দিনে নামিয়ে এনেছে। থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম কর্মীদের ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এ উৎসাহিত করছে। সেই সঙ্গে ভ্রমণও কমাতে উৎসাহিত করা হচ্ছে এই দুই দেশে। আর মিয়ানমারে জ্বালানির চাপ কমাতে এক দিন পর এক দিন ব্যক্তিগত গাড়ি চালানোর নির্দেশ দিয়েছে।

আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ১৩ দিন ধরে চলা ইরান যুদ্ধ যে খুব সহজে শেষ হচ্ছে না, তা ইতিমধ্যেই বুঝে গিয়েছে বিভিন্ন দেশ। এ পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিয়ে সামনে বড় সংকটে পড়তে যাচ্ছে তারা। এ অবস্থায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো কৃচ্ছ্রসাধনে মনোনিবেশ করেছে।

মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর ইরানের পাল্টা আঘাতের মূল লক্ষ্য ছিল মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো। তবে কয়েক দিন যেতে না-যেতেই দেশটি কৌশলগত কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন বন্ধ করে দেয়। ফলে তেল সংকটে পড়েছে বিভিন্ন দেশ। এ অবস্থায় বিকল্প তেলের সন্ধান করার পাশাপাশি সংকট ঘনীভূত হওয়ার আগেই সাবধান হয়ে গেছে তারা। দক্ষিণ এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশ ইতিমধ্যেই অফিস-আদালত বন্ধ করে, ভ্রমণ ব্যয় কমিয়ে জ্বালানি সংকটের লাগাম টানার চেষ্টা শুরু করেছে।

জ্বালানি তেলের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে বিভিন্ন দেশ সরাসরি বাজারব্যবস্থায়ও হস্তক্ষেপ করেছে। থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল ডিজেলের অস্থায়ী মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন। এদিকে ভিয়েতনাম এর জ্বালানি ফান্ডে হাত দিয়েছে ইতিমধ্যেই। এ প্রসঙ্গে সিঙ্গাপুরের এশিয়া ডিকোডেডের পরিচালক ও প্রধান অর্থনীতিবিদ প্রিয়াঙ্কা কিশোর আল জাজিরাকে বলেন, ‘এই পদক্ষেপগুলো আসলে সংকট মোকাবিলার একটা পূর্বপ্রস্তুতি। হরমুজ প্রণালি যদি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকে, তবে বড় কোনো ধাক্কা আসার আগেই তারা যেন তাদের জ্বালানি পরিস্থিতির সঠিক ব্যবস্থাপনা করতে পারে, তার প্রস্তুতি নিচ্ছে।’

জীবাশ্ম জ্বালানির একটা বিশাল অংশের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অনেকাংশেই আমদানি করা তেল ও গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল, যার বেশির ভাগই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সালে এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত ৮৪ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও ৮৩ শতাংশ তরল প্রাকৃতিক গ্যাস এসেছে এশিয়াতে। আর পরিবাহিত তেলের ৭০ শতাংশ যায় চীন, ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায়। আর মাত্র ১৫ শতাংশ ব্যবহার করে এশিয়ার বাকি দেশগুলো।

দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ানের অর্থনীতি গবেষণা সংস্থার অর্থনীতিবিদ আলোয়সিয়াস জোকো পূর্বান্ত বলেন, অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ ঘাটতি বা সংকটে সবচেয়ে হুমকির মুখে রয়েছে ফিলিপিন্স, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ব্রুনেই। এই চারটি দেশ ৬০ থেকে ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রেই তেল আমদানির ওপর নির্ভরশীল। এমনকি তেল উৎপাদনকারী দেশ ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত এর অপরিশোধিত তেলের চাহিদার এক-তৃতীয়াংশই আমদানি করে থাকে।

এমনি পরিস্থিতিতে বিকল্প উৎস খুঁজতে মরিয়া হয়ে উঠেছে কোনো কোনো দেশ। ভিয়েতনাম ইতিমধ্যে আরবের বাইরে থেকে ৪০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল কেনার ঘোষণা দিয়েছে, যা দিয়ে দেশটির মাত্র ৬ দিনের জ্বালানির ব্যবস্থা হবে। এদিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সর্ববৃহৎ অর্থনীতির দেশ ইন্দোনেশিয়ার কাছে মাত্র ২০ দিনের জ্বালানি মজুত আছে। থাইল্যান্ড, ফিলিপিন্সের কাছেও মাত্র ৩০ থেকে ৬০ দিনের জ্বালানি মজুত রয়েছে। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের কাছে ৬ থেকে ৭ মাসের এনার্জি মজুত থাকলেও এই অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে তারাও বিকল্প ব্যবস্থা করতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত