Ajker Patrika

গাজায় যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ: হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, ইসরায়েলের সেনা প্রত্যাহার ইস্যুতে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ছবি: এএফপি
ছবি: এএফপি

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে আলোচনা করতে হামাসের শীর্ষ নেতা ও গাজার অন্যান্য ফিলিস্তিনি সংগঠনের প্রতিনিধিরা মিসরের রাজধানী কায়রোতে অবস্থান করছেন। যুদ্ধবিরতি কার্যত টালমাটাল অবস্থায়। কারণ, ইসরায়েল একের পর এক তা লঙ্ঘন করছে এবং গাজায় গণহত্যামূলক অভিযান অব্যাহত।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, গাজায় ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠনগুলোর নিরস্ত্রীকরণ, পুনর্গঠন এবং দৈনন্দিন শাসনব্যবস্থা নিয়ে পরবর্তী ধাপ কী হবে—তা নিয়ে এখনো গভীর অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধানের উপদেষ্টা তাহের আল-নুনু জানান, কায়রোর আলোচনায় রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং পুনরায় খোলা, মিসরের অংশে আটকে থাকা ত্রাণ গাজায় প্রবেশ এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার—এই তিনটি বিষয় অগ্রাধিকার পাচ্ছে।

আল–নুনু বলেন, গাজায় শান্তি ও স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনতে হামাস মধ্যস্থতাকারী দেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করছে। একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি ভন্ডুল করার চেষ্টা করার অভিযোগ করেন। তবে ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা কান জানায়, গাজার পূর্বাঞ্চলের তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ নামে পরিচিত বাফার জোনকে কৌশলগত এলাকা হিসেবে বিবেচনা করছে ইসরায়েল, যা তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণেই রাখতে চায়। বর্তমানে গাজার ৫০ শতাংশের বেশি এলাকা ইসরায়েলি সামরিক দখলে রয়েছে।

এদিকে, ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠনগুলোর নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে বুলগেরীয় কূটনীতিক নিকোলাই ম্লাদেনভের। তিনি যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিসের’ প্রধান হতে পারেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এই বোর্ডে থাকা প্রায় ১৫ জন বিশ্বনেতার নাম ঘোষণা করবেন বলে জানা গেছে।

ফিলিস্তিনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হুসেইন আল-শেখ গাজার পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, গাজার প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) সঙ্গে যুক্ত করা উচিত, যাতে ‘একটি ব্যবস্থা, একটি আইন ও একটি বৈধ অস্ত্র’—এই নীতি বজায় থাকে।

যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতাকারী দেশ মিসর, তুরস্ক ও কাতার এক যৌথ বিবৃতিতে এই উদ্যোগকে গাজার স্থিতিশীলতা ও মানবিক পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বলে উল্লেখ করেছে। তারা গাজা পরিচালনার জন্য গঠিত ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট কমিটিকেও স্বাগত জানিয়েছে। এই কমিটির নেতৃত্ব দেবেন পিএর সাবেক উপমন্ত্রী আলী শাথ।

তবে দুই মিলিয়নের বেশি মানুষের জনসেবা নিশ্চিত করতে গিয়ে এই কমিটির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। জাতিসংঘের হিসাবে, গাজা পুনর্গঠনে প্রয়োজন হবে ৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ, যা সম্পন্ন হতে বছর লেগে যাবে। এখন পর্যন্ত খুব অল্প অর্থই প্রতিশ্রুত হয়েছে।

এর আগে, যুক্তরাষ্ট্র বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে গাজা পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ শুরু করার ঘোষণা দেয়। ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানান, এই ধাপে গাজায় একটি অন্তর্বর্তী টেকনোক্র্যাট ফিলিস্তিনি প্রশাসন গঠন করা হবে। একই সঙ্গে শুরু হবে গাজার পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ ও পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া।

তিনি বলেন, লক্ষ্য হলো হামাসের বিকল্প এমন একটি শক্তিকে সামনে আনা, যারা শান্তি চায়। তবে তার বক্তব্যে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার বা পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা প্রবেশের বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ঘোষণা ছিল না।

গাজা সিটি থেকে আল–জাজিরার প্রতিবেদক হিন্দ খুদারি জানান, চুক্তি হলেও বাস্তবে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। এখনো ড্রোনের শব্দ শোনা যাচ্ছে, হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ চলছে। চুক্তিতে নির্ধারিত প্রতিদিন ৬০০ ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশের কথা থাকলেও বাস্তবে তা কখনোই হয়নি।

আল–জাজিরার জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক মারওয়ান বিশারা বলেন, ‘এই চুক্তি মূলত সাজানো। ১৯৯১ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় যে শান্তি প্রক্রিয়া হয়েছে, তার বেশির ভাগই ছিল ইসরায়েলের পক্ষে পক্ষপাতদুষ্ট।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

আজকের রাশিফল: আপনার স্পষ্ট কথা কারও বুক ফুটা করে দিতে পারে, পকেট সামলান

ক্রিকেটারদের বিপিএল ‘বয়কট’, হচ্ছে না নোয়াখালী-চট্টগ্রামের ম্যাচ

ইরাক থেকে ইরানে ঢোকার চেষ্টা করছে সশস্ত্র কুর্দিরা, ঠেকাতে সাহায্য করছে তুরস্ক

বিমানের পরিচালক হলেন খলিলুর রহমান, ফয়েজ তৈয়্যব ও ইসি সচিব

মুসলিম শিক্ষার্থী বেশি হওয়ায় কাশ্মীরে মেডিকেল কলেজ বন্ধ করে দিল মোদি সরকার

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত