Ajker Patrika

ইরানের চাবাহার বন্দর নিয়ে চাপে ভারত, ট্রাম্পকে মানাতে মরিয়া দিল্লি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১২: ১০
স্থিতিশীল বাণিজ্য পথ নিশ্চিত করতে ইরানের চাবাহার বন্দর ভারতের জন্য অপরিহার্য। ছবি: উইকিপিডিয়া
স্থিতিশীল বাণিজ্য পথ নিশ্চিত করতে ইরানের চাবাহার বন্দর ভারতের জন্য অপরিহার্য। ছবি: উইকিপিডিয়া

ইরানের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ চাবাহার বন্দর নিয়ে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া নিষেধাজ্ঞা এবং ইরানের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যে জড়িত দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকির মুখে চাবাহার প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। তবে ভারত সরকারের জন্য এই বন্দর অপরিহার্য। এরই মধ্যে তারা স্পষ্ট করেছে, এই প্রকল্প থেকে সরে আসার কোনো অপশন তাদের হাতে নেই।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, চাবাহার বন্দরে কাজ অব্যাহত রাখতে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছে। গত বছরের ২৮ অক্টোবর মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ একটি শর্তসাপেক্ষ নিষেধাজ্ঞা ছাড়ের নির্দেশিকা জারি করেছিল, যার মেয়াদ আগামী ২৬ এপ্রিল শেষ হচ্ছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, ‘আমরা এই ব্যবস্থা কার্যকর করার বিষয়ে মার্কিন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।’

নয়াদিল্লির কাছে চাবাহার কেবল একটি বাণিজ্যিক বন্দর নয়, বরং এটি ভারতের ভূরাজনৈতিক কৌশলের একটি প্রধান স্তম্ভ। এর প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে:

পাকিস্তানকে এড়িয়ে চলা: আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ায় পৌঁছানোর জন্য পাকিস্তান স্থলপথ আটকে রাখায় চাবাহারই ভারতের একমাত্র বিকল্প পশ্চিমা করিডর।

কৌশলগত অবস্থান: গুজরাটের কান্ডলা বন্দর থেকে মাত্র ৫৫০ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থিত এই বন্দরটি হরমুজ প্রণালির বাইরে, যা পশ্চিম এশিয়ার যেকোনো সংঘাতের প্রভাবমুক্ত।

আন্তর্জাতিক উত্তর-দক্ষিণ পরিবহন করিডর (আইএনএসটিসি): ৭ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মাল্টি-মোড রুটের মাধ্যমে ভারত মহাসাগর ও পারস্য উপসাগরকে কাস্পিয়ান সাগর এবং সেন্ট পিটার্সবার্গের মাধ্যমে উত্তর ইউরোপের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। সুয়েজ খালের তুলনায় এই পথে পণ্য পরিবহনে সময় ১৫ দিন কম লাগবে।

২০২৪ সালে ভারত ইরানের সঙ্গে ১০ বছরের একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এর আওতায় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ইন্ডিয়া পোর্টস গ্লোবাল লিমিটেড (আইপিজিএল) চাবাহারে ৩৭০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ ছাড়া ভারত সরকার ইতিমধ্যে ১২০ মিলিয়ন ডলার স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

নয়াদিল্লি এখন এমন একটি পথ খুঁজছে, যাতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার শর্তগুলো পূরণ হয় আবার চাবাহারের কাজও না থামে। সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো বলছে, ভারত সরকার এই প্রকল্পে সরাসরি নিজেদের সংশ্লিষ্টতা কমিয়ে একটি নতুন স্বতন্ত্র সত্তা তৈরির কথা ভাবছে। এতে ভারত সরকারের সরাসরি ঝুঁকি কমবে, কিন্তু উন্নয়নকাজ অব্যাহত থাকবে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিলেও ভারতীয় সরকারি সূত্রের দাবি, এর প্রভাব ভারতের ওপর হবে ‘সামান্য’। গত বছর ভারত ও ইরানের মধ্যে মোট ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য হয়েছে, যার মধ্যে ভারতের রপ্তানি ছিল ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার এবং আমদানি ছিল শূন্য দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার।

২০৩০ সালের মধ্যে ১০ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হওয়ার লক্ষ্য অর্জনে ভারতের জন্য স্থিতিশীল বাণিজ্য পথ অপরিহার্য। চাবাহার বন্দর সেই লক্ষ্যের কেন্দ্রবিন্দু। তাই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার জটিলতা সত্ত্বেও নয়াদিল্লি এখন ওয়াশিংটনকে এটি বোঝাতে চেষ্টা করছে যে চাবাহার প্রকল্প কেবল ভারতের জন্য নয়, বরং আফগানিস্তানের মানবিক সহায়তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

চট্টগ্রাম রেলওয়ে: ল্যান্ডক্রুজারে অফিসে যান দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মচারী

বাসে ডাকাতি, ধর্ষণ: ঢাকা-টাঙ্গাইল যেন আতঙ্কের মহাসড়ক

আজকের রাশিফল: সততা বিপদ থেকে বাঁচাবে, প্রেমে পড়ার আগে ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই করুন

ত্বকে দ্রুত বয়সের ছাপ ফেলে যে ৫ অভ্যাস

পটুয়াখালী-২ আসন: মুখোমুখি বিএনপি-জামায়াত উত্তেজনা বাড়ছে বাউফলে

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত