Ajker Patrika

হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের রক্তবর্ণ দ্বীপ, যেখানকার মাটি খাওয়া যায়

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের রক্তবর্ণ দ্বীপ, যেখানকার মাটি খাওয়া যায়
দ্বীপটির বিশেষত্ব হলো এর রক্তবর্ণ সমুদ্রসৈকত। ছবি: ইরান-ডিসকভারি

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে বর্তমানে স্থবির হয়ে পড়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি। ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী এই সংকীর্ণ পথ দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ করা হয়। বিশ্বজুড়ে যখন এই প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব এবং জ্বালানি সংকটের খবর নিয়ে তোলপাড় চলছে, তখন এই অঞ্চলের একটি বিশেষ দ্বীপ পর্যটক ও ভূতত্ত্ববিদদের আকর্ষণের কেন্দ্রে রয়েছে।

দ্বীপটির বিশেষত্ব হলো এর রক্তবর্ণ সমুদ্রসৈকত, যার বালি শুধু দেখতেই লাল নয়, বরং এটি খাওয়াও যায়।

হরমুজ দ্বীপের এই লাল সৈকতটি স্থানীয়ভাবে ‘সোর্খ বিচ’ নামে পরিচিত। এটি ইরানের অন্যতম বিস্ময়কর প্রাকৃতিক দৃশ্য, যা তার গাঢ় লাল রঙের বালু এবং ঝিলমিলে পানির জন্য বিখ্যাত। এই বালির গভীর লাল রঙের প্রধান কারণ হলো এতে থাকা উচ্চমাত্রার আয়রন অক্সাইড। খনিজ সমৃদ্ধ এই মাটি উপকূলরেখাকে এমন এক রক্তবর্ণ রূপ দেয়, যা দেখলে মনে হয় কোনো শিল্পীর আঁকা ল্যান্ডস্কেপ।

এখানকার লাল মাটিকে স্থানীয়রা ‘গেলাক’ বলে ডাকেন। এর রঞ্জক ক্ষমতা এতটাই তীব্র যে এটি ত্বকে লাগলে কয়েক দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। উচ্চমাত্রার লোহার উপস্থিতির কারণে এই বালির কণা অনেক সময় চুম্বকের প্রতিও প্রতিক্রিয়া দেখায়।

সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, এই ‘গেলাক’ দ্বীপের স্থানীয় রন্ধনশৈলীর একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে স্থানীয়রা এটি সরাসরি পাউডার হিসেবে খান না। বরং মসলা হিসেবে ব্যবহার করেন। বিশেষ করে ‘সুরাঘ’ নামক একটি ঐতিহ্যবাহী গাঁজানো মাছের সস তৈরিতে এই লাল মাটি ব্যবহৃত হয়, যা সসটিকে টকটকে লাল রং দেয়।

এই দ্বীপের বালি শুধু দেখতেই লাল নয়, বরং এটি খাওয়াও যায়। ছবি: ইরান-ডিসকভারি
এই দ্বীপের বালি শুধু দেখতেই লাল নয়, বরং এটি খাওয়াও যায়। ছবি: ইরান-ডিসকভারি

এ ছাড়া ঐতিহাসিকভাবে দ্বীপের নারীরা পিরিয়ড বা ঋতুচক্রের সময় শরীরে আয়রনের অভাব পূরণেও প্রাকৃতিক উৎস হিসেবে সামান্য পরিমাণে এই মাটি খেয়ে থাকেন।

খাবার ছাড়াও এই লাল মাটি কাপড় রঞ্জন বা ডাইং এবং মাটির পাত্রে রং দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হয়। প্রসাধনী সামগ্রী, পিগমেন্ট এবং ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পের কাঁচামাল হিসেবে আজও সীমিত পরিমাণে গেলাক বিদেশে রপ্তানি করা হয়।

সমুদ্রের ঢেউ যখন এই লাল বালুর ওপর দিয়ে বয়ে যায়, তখন সাগরের লোনা পানিও লালচে বা গোলাপি বর্ণ ধারণ করে। পারস্য উপসাগরের শান্ত নীল পানির সঙ্গে এই লাল রঙের বৈপরীত্য সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় এক মায়াবী দৃশ্যের অবতারণা করে। দূর সমুদ্র থেকেও সৈকতের এই লাল আভা দেখা যায় বলে এক সময় নাবিকেরা হরমুজ প্রণালিতে চলাচলের সময় একে প্রাকৃতিক ‘নেভিগেশন মার্কার’ বা দিকনির্দেশক হিসেবে ব্যবহার করতেন।

বিজ্ঞানের বাইরেও এই লাল সৈকতকে ঘিরে রয়েছে অনেক লোকজ উপকথা। স্থানীয় কিছু মিথ অনুযায়ী, এই লাল রং কোনো মহাজাগতিক ঘটনা বা পৌরাণিক প্রাণীর চিহ্ন। এই ধরনের গল্পগুলো সৈকতটিকে পর্যটকদের কাছে আরও রহস্যময় ও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে পর্যটন থমকে গেলেও হরমুজ দ্বীপের এই প্রাকৃতিক বিস্ময় এখনো বিশ্বের অন্যতম বিস্ময় হিসেবে টিকে আছে।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

অপারেশন থিয়েটারে মির্জা আব্বাস, মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার

ভৈরবে ১ কোটি ৮৫ হাজার টাকাসহ আটক দুই স্বর্ণকার, ২১ ঘণ্টা পর মুক্ত

চট্টগ্রামে ৭ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাইবার আইনে মামলা

হিজবুল্লাহর লাগাম টানতে চায় লেবাননের রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সেনাবাহিনীর না

ম্যানেজিং কমিটিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিলের প্রশ্নই ওঠে না: শিক্ষামন্ত্রী

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত