
ছোট, বড়, মাঝারি—কত রকম পর্দা যে আমাদের চোখের সামনে থাকে, হিসাব নেই। এগুলোর মধ্যে আছে কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, ট্যাবলেট, টেলিভিশন কিংবা সিনেমা হলের পর্দা! এসব পর্দা শুধু চোখের সামনে থাকছেই না; বিভিন্ন কারণে মানুষের জেগে থাকা সময়ের বিরাট অংশ কেটে যায় এসব পর্দার দিকে অপলক চেয়ে। অফিসের কাজ হোক কিংবা বাসায় বিনোদন—চোখের আরাম পাওয়ার সুযোগ এখন খুবই কম। এভাবে দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকার ফলে চোখে দেখা দেয় একধরনের অস্বস্তিকর অবস্থা, যাকে বলা হয় কম্পিউটার আই স্ট্রেইন বা ডিজিটাল আই স্ট্রেইন।
কেন হয় এই সমস্যা
পুস্তকের পাতায় ছাপা অক্ষরের তুলনায় স্ক্রিনে দেখা অক্ষর সাধারণত কম স্পষ্ট হয় এবং এতে ঝলকানি বেশি থাকে। ফলে দেখার কাজ করতে গিয়ে চোখের হয় বাড়তি পরিশ্রম। আবার অনেকে ভুল দূরত্ব বা কোণে বসে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকেন, যা চোখের পাশাপাশি ঘাড় ও কাঁধেও চাপ তৈরি করে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকার সময় আমাদের চোখের পলক পড়ার হার কমে যায়। অথচ পলক পড়া চোখের আর্দ্রতা ও পরিষ্কার রাখার জন্য অত্যন্ত জরুরি। এই স্বাভাবিক কাজ কমে গেলে চোখ শুষ্ক হয়ে যায় এবং জ্বালাপোড়া, চুলকানি, ঝাপসা দেখা ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে।

কম্পিউটার আই স্ট্রেইনের লক্ষণ
কম্পিউটার বা ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারে যেসব উপসর্গ দেখা দিতে পারে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—
চোখের ব্যায়াম ও প্রতিকার
এই সমস্যা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে কিছু সহজ ব্যায়াম বেশ কাজে আসে। বিশেষজ্ঞরা ২০-২০-২০ নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দেন। এর মানে হলো, প্রতি ২০ মিনিট পর ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরের কোনো কিছুর দিকে তাকানো। এটা চোখকে আরাম দেয় এবং পলক পড়া স্বাভাবিক রাখে।
আরও কিছু ব্যায়ামের মধ্যে আছে চোখের ফোকাস পরিবর্তনের অনুশীলন। একবার দূরের কিছুতে, আবার একবার কাছের কিছুতে মনোযোগ দেওয়া।
আরেকটি ব্যায়াম হলো ‘ফিগার এইট’ অনুশীলন। মাটিতে ৮ ফুট দূরে একটি কাল্পনিক জায়গায় চোখ রেখে চোখ দিয়ে ইংরেজিতে ৮ আঁকার মতো আঁকতে থাকা। একদিকে ৩০ সেকেন্ড, তারপর উল্টো দিকে ৩০ সেকেন্ড।
এ ছাড়া চোখে স্বাভাবিক হারে পলক ফেলার চর্চাও উপকারী হতে পারে, যা চোখের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সহায়ক।
অন্যান্য ব্যবস্থা
চোখের আরাম নিশ্চিত করতে আমাদের আশপাশের পরিবেশেও কিছু পরিবর্তন আনা যেতে পারে। যেমন ঘরের আলো কমানো, স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা নিয়ন্ত্রণ করা এবং স্ক্রিনে ঝলকানি বা রিফ্লেকশন কমিয়ে দেওয়া। কম্পিউটার পর্দা থেকে চোখের দূরত্ব হওয়া উচিত ৩৫-৪০ ইঞ্চি। ৫০ বছরের বেশি বয়সী মানুষের জন্য আলো একটু বেশি প্রয়োজন হতে পারে, সে ক্ষেত্রে আলো বাড়াতে হবে।
চিকিৎসকের পরামর্শ কখন প্রয়োজন
যদি উপসর্গগুলো দীর্ঘস্থায়ী হয় বা দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত ঘটায়, তাহলে চক্ষুবিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এমন কারণে অনেক সময় চোখের সমস্যা হয়, যা হয়তো আগে ধরা পড়েনি। চোখের পরীক্ষা করে প্রয়োজন অনুযায়ী চশমা বা লেন্স ব্যবহারের পরামর্শ করা যেতে পারে।
চিকিৎসার অংশ হিসেবে ভিশন থেরাপি বা চোখের ব্যায়ামভিত্তিক চিকিৎসাও দিতে পারেন চিকিৎসক। এমন থেরাপি বিশেষ প্রশিক্ষিত থেরাপিস্টেরা পরিচালনা করেন।
কম্পিউটার আই স্ট্রেইন এমন একটি সমস্যা, যা ভবিষ্যতে আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, কাজ ও বিনোদন—দুটোই এখন স্ক্রিনের সঙ্গে জড়িত। যদিও এই সমস্যার ওপর গবেষণা তুলনামূলক কম। তবে একটা বিষয় পরিষ্কার যে স্ক্রিন টাইম কমালে চোখের বিভিন্ন সমস্যাও কমে। তাই সচেতন হওয়া, মাঝেমধ্যে চোখ বিশ্রাম দেওয়া এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া সবচেয়ে ভালো প্রতিকার।
সূত্র: মেডিকেল নিউজ টুডে

রমজান হলো আত্মশুদ্ধি ও সংযমের মাস। তবে খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন হওয়ার কারণে এই সময়ে আমাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কিংবা ইমিউন সিস্টেম কিছুটা ভিন্নভাবে কাজ করে। একজন চিকিৎসক ও অণুজীববিজ্ঞানী হিসেবে মনে করি, সঠিক বৈজ্ঞানিক সচেতনতা থাকলে রোজার মাধ্যমেও শরীর রোগমুক্ত, দূষণমুক্ত...
২ দিন আগে
রমজান মাস আমাদের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক উন্নতির সময় হলেও এই সময়ে আমাদের শরীরের বিভিন্ন অংশের, বিশেষত চোখের যত্ন নেওয়া জরুরি। দীর্ঘ সময় সেহরি থেকে ইফতার পর্যন্ত পানাহার এবং ঘুমের অভাব আমাদের চোখের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। তাই রমজানে চোখের সঠিক যত্ন নেওয়া প্রয়োজন।
২ দিন আগে
থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতিকে বলা হয় হাইপোথাইরয়েডিজম। এটি হতে পারে অটো এমিনোর কারণে কিংবা থাইরয়েড গ্রন্থিতে কোনো সংক্রমণ বা আয়োডিনের ঘাটতি অথবা থাইরয়েডের কোনো অপারেশন বা থাইরয়েড গ্রন্থিতে রেডিও আয়োডিন থেরাপি দেওয়ার পর।
২ দিন আগে
রমজান মাসে আমাদের স্বাভাবিক অভ্যাসে কিছু পরিবর্তন আসে। এ সময় খাওয়াদাওয়ার সময় ও ধরন বদলে যায়। আরও বদলে যায় ঘুমের সময়। এই নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয় শরীরকে। এ জন্য নতুন করে অনেক অভ্যাস তৈরি করতে হয়।
২ দিন আগে