
মাইক্রোপ্লাস্টিক এখন এতটাই ছড়িয়ে পড়েছে যে আমরা তা খাচ্ছি, পান করছি আর নিশ্বাসের সঙ্গে টানছি। ফলে এগুলো আমাদের মল, প্লাসেন্টা, প্রজনন অঙ্গ এমনকি মস্তিষ্কেও পাওয়া যাচ্ছে। এবার জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে তৈরি পাঁচ মিলিমিটারের চেয়েও ছোট আকারের কণা আমাদের হাড়ের ভেতরে গভীর পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।
বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী সায়েন্স অ্যালার্ট জানিয়েছে, নতুন এক পর্যালোচনা গবেষণায় ৬২টি পুরোনো গবেষণার ভিত্তিতে বলা হচ্ছে, মাইক্রোপ্লাস্টিক ও আরও ক্ষুদ্র ন্যানো প্লাস্টিক আমাদের কঙ্কাল স্বাস্থ্যে নানা ধরনের প্রভাব ফেলছে। এই পর্যালোচনা গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে স্প্রিঙ্গার জার্নালে।
এ বিষয়ে ব্রাজিলের স্টেট ইউনিভার্সিটি অব কাম্পিনাসের চিকিৎসাবিজ্ঞানী রদ্রিগো বুয়েনো দে অলিভেইরা বলেন, ‘এক উল্লেখযোগ্য গবেষণার ফলাফল দেখাচ্ছে যে মাইক্রোপ্লাস্টিক হাড়ের টিস্যুর গভীরে, যেমন অস্থিমজ্জায় পৌঁছে যেতে পারে এবং এর বিপাক প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।’
মানুষের ওপর পরিচালিত কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, খাবারের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশের পর রক্তের সাহায্যে এই প্লাস্টিকের অবশিষ্টাংশ হাড়ের টিস্যুতে জমা হচ্ছে। প্রাণীর শরীরে করা গবেষণায় দেখা গেছে, এগুলো হাড়ের বৃদ্ধি কমিয়ে দেয়। পাশাপাশি হাড়ের বৃদ্ধি ও মেরামতে সাহায্যকারী অস্টিওক্লাস্ট কোষের কাজ ব্যাহত হয় এর ফলে। এতে হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে, বিকৃত বা ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
অলিভেইরা ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘হাড়ের কোষ নিয়ে করা ইন ভিট্রো গবেষণায় দেখা গেছে, মাইক্রোপ্লাস্টিক কোষের কার্যক্ষমতা কমায়, কোষকে দ্রুত বার্ধক্যের দিকে ঠেলে দেয় এবং কোষের ভিন্নকরণ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনে। পাশাপাশি প্রদাহও সৃষ্টি করে। এসব নেতিবাচক প্রভাবের কারণে প্রাণীর কঙ্কালের বৃদ্ধি থেমে গেছে, যা খুবই উদ্বেগজনক।’
এই মাইক্রোপ্লাস্টিক মানুষের হাড়ে একইভাবে প্রভাব ফেলছে কিনা, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে বিশ্বজুড়ে অস্টিওপোরোসিস রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এ রোগে হাড় ভঙ্গুর হয়ে যায় এবং সহজে ভেঙে পড়ে। গবেষকেরা সন্দেহ করছেন, মাইক্রোপ্লাস্টিকও এর একটি কারণ হতে পারে। যদিও মদ্যপান আর বয়স বাড়ার মতো পরিচিত ঝুঁকির বিষয়গুলোও রয়েছে।
তবু বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা—আমরা এই ‘অপর্যাপ্তভাবে স্বীকৃত বিপদ’ আরও বাড়াচ্ছি। প্রতিবছর অন্তত ৪০০ মিলিয়ন মেট্রিক টন প্লাস্টিক তৈরি হচ্ছে, যার সঙ্গে বছরে ১৮০ কোটি মেট্রিক টন গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত হচ্ছে। বছরের পর বছর গবেষকেরা এই ক্ষতিকর পেট্রোকেমিক্যাল দূষণ আমাদের শরীরে কী প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে আরও বেশি গবেষণা করার দাবি জানাচ্ছেন।
তবে, আমরা চাইলে কিছুটা হলেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের প্রভাব কমাতে পারি। এর জন্য পানির ফিল্টার ব্যবহার করা যেতে পারে এবং সিনথেটিক কাপড় কিংবা প্লাস্টিকের বোতলজাত পানীয়র ব্যবহার সীমিত করতে হবে।

রমজান হলো আত্মশুদ্ধি ও সংযমের মাস। তবে খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন হওয়ার কারণে এই সময়ে আমাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কিংবা ইমিউন সিস্টেম কিছুটা ভিন্নভাবে কাজ করে। একজন চিকিৎসক ও অণুজীববিজ্ঞানী হিসেবে মনে করি, সঠিক বৈজ্ঞানিক সচেতনতা থাকলে রোজার মাধ্যমেও শরীর রোগমুক্ত, দূষণমুক্ত...
২ দিন আগে
রমজান মাস আমাদের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক উন্নতির সময় হলেও এই সময়ে আমাদের শরীরের বিভিন্ন অংশের, বিশেষত চোখের যত্ন নেওয়া জরুরি। দীর্ঘ সময় সেহরি থেকে ইফতার পর্যন্ত পানাহার এবং ঘুমের অভাব আমাদের চোখের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। তাই রমজানে চোখের সঠিক যত্ন নেওয়া প্রয়োজন।
২ দিন আগে
থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতিকে বলা হয় হাইপোথাইরয়েডিজম। এটি হতে পারে অটো এমিনোর কারণে কিংবা থাইরয়েড গ্রন্থিতে কোনো সংক্রমণ বা আয়োডিনের ঘাটতি অথবা থাইরয়েডের কোনো অপারেশন বা থাইরয়েড গ্রন্থিতে রেডিও আয়োডিন থেরাপি দেওয়ার পর।
২ দিন আগে
রমজান মাসে আমাদের স্বাভাবিক অভ্যাসে কিছু পরিবর্তন আসে। এ সময় খাওয়াদাওয়ার সময় ও ধরন বদলে যায়। আরও বদলে যায় ঘুমের সময়। এই নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয় শরীরকে। এ জন্য নতুন করে অনেক অভ্যাস তৈরি করতে হয়।
২ দিন আগে