সামুদ্রিক মাছ আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এসব মাছে থাকে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ফসফরাস, আয়োডিন এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। নিয়মিত সামুদ্রিক মাছ খাওয়া হৃদ্রোগ, উচ্চ রক্তচাপ এবং মস্তিষ্কের নানা সমস্যা প্রতিরোধে সহায়তা করে। শিশুদের বৃদ্ধি ও দৃষ্টিশক্তি উন্নয়নেও এসব মাছের ভূমিকা অপরিসীম।
সাধারণত আমরা সামুদ্রিক মাছ বলতে স্যামন, সার্ডিন, টুনা, ম্যাকারেল মাছের নাম শুনে থাকি। কিন্তু আমাদের দেশেও অনেক সামুদ্রিক মাছ আছে, যেগুলোর মধ্যে প্রচুর পুষ্টি পাওয়া যায়। বঙ্গোপসাগর আমাদের সামুদ্রিক সম্পদের মূল উৎস। এখানে প্রচুর সামুদ্রিক মাছ পাওয়া যায়, যা দেশের অর্থনীতি, পুষ্টি এবং রপ্তানি খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, পটুয়াখালী, বরগুনাসহ দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে এসব মাছ পাওয়া যায়।

রুপচাঁদা: দেশের অন্যতম জনপ্রিয় সামুদ্রিক মাছ। এর রং সাদা-রুপালি এবং মাংস কোমল ও সুস্বাদু। সাধারণত এটি বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় অঞ্চলে ধরা পড়ে। পুষ্টিগুণের দিক থেকে এটি প্রোটিন, ভিটামিন বি১২, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডে সমৃদ্ধ।
কোরাল মাছ: এ মাছের রং লালচে ও দেহ মজবুত। এটি হোটেল ও রেস্টুরেন্টে জনপ্রিয় সামুদ্রিক মাছ হিসেবে পরিচিত। স্বাদে চমৎকার ও প্রোটিনসমৃদ্ধ এই মাছ রপ্তানির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রোটিন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন এবং খনিজের চমৎকার উৎস হওয়ায় এটি হৃদ্রোগ প্রতিরোধ, পেশি গঠন ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে দারুণ কার্যকর।

লইট্টা: এই মাছ দেশে শুঁটকি ও কাঁচা—দুই অবস্থাতেই বিক্রি হয়। এটি কম ক্যালরিযুক্ত কিন্তু প্রোটিনসমৃদ্ধ সামুদ্রিক মাছ। এই সামুদ্রিক মাছ প্রোটিন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ক্যালসিয়াম, আয়রন এবং ভিটামিন বি১২-এর মতো পুষ্টি উপাদানে ভরপুর।

চিংড়ি: কক্সবাজার, খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট অঞ্চলে এর চাষ হয়। সামুদ্রিক টাইগার চিংড়ি বিশেষভাবে মূল্যবান। এতে উচ্চমাত্রার প্রোটিন, আয়রন ও জিংক থাকে।

পারা মাছ: এটি লালচে রঙের একটি জনপ্রিয় সামুদ্রিক মাছ। গভীর সাগরের এই মাছ মাঝে মাঝে উপকূলের কাছাকাছিও পাওয়া যায়। রেস্টুরেন্টে এটি গ্রিল বা ফ্রাই করে পরিবেশন করা হয়। এতে উচ্চমানের প্রোটিন, ভিটামিন ডি, জিংক এবং ওমেগা-৩ ও ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে।

ইলিশ: সাধারণত নদীতে ডিম পাড়লেও ইলিশ মূলত সামুদ্রিক উৎসের মাছ। এটি দেশের জাতীয় মাছ। এ ছাড়া উপকূলের মিঠা ও নোনাপানির সংযোগস্থলে প্রচুর পাওয়া যায়। এতে প্রচুর প্রোটিন, ভিটামিন এ, ডি, বি১২, ক্যালসিয়াম এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। এই পুষ্টি উপাদানগুলো হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতে, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়িয়ে তুলতে এবং ত্বক ও হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে বিশেষভাবে সহায়তা করে।
রে বা পাতা মাছ: পাতার মতো আকৃতির এই মাছ সমুদ্রের তলদেশে বসবাস করে। এটি দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে মাঝে মাঝে ধরা পড়ে এবং স্থানীয়ভাবে খাওয়া হয়। এটি প্রোটিন এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের খুব ভালো উৎস। এসব উপাদান পেশি গঠন, হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতে এবং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতে কার্যকর।

পাঙাশ: দেশে পাওয়া সামুদ্রিক পাঙাশ অত্যন্ত সুস্বাদু, স্বাস্থ্যকর এবং প্রোটিনসমৃদ্ধ মাছ। এতে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন ডি, বি১২ এবং সেলেনিয়াম-সমৃদ্ধ, যেগুলো হার্ট ও মস্তিষ্কের জন্য উপকারী।
লিনা আকতার
রাইয়ান হেলথ কেয়ার হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার, দিনাজপুর

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যু নেই। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামে ৯২ জন ও হামের উপসর্গে ৫৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
১৪ ঘণ্টা আগে
বিশ্বজুড়ে তরুণী ও কম বয়সী নারীদের মধ্যে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের প্রকোপ নজিরবিহীনভাবে বাড়ছে বলে সতর্ক করেছেন চিকিৎসকেরা। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, বয়স্কদের তুলনায় তরুণীদের মধ্যে রোগটি অনেক দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, কম বয়সে টাইপ-২ ডায়াবেটিস হলে তা অত্যন্ত দ্রুত...
২ দিন আগে
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যু নেই। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামে ৯২ জন এবং হামের উপসর্গে মোট ৫৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
২ দিন আগে
আকাশে মেঘের ঘনঘটা, ঝুম বৃষ্টি আর মাটির সোঁদা গন্ধ—বাঙালির জীবনে বর্ষা নিয়ে আসে এক অদ্ভুত স্নিগ্ধতা। কিন্তু এই রূপসী বর্ষার হাত ধরেই প্রতিবছর আমাদের মাঝে হাজির হয় ডেঙ্গু নামের এক নীরব ঘাতক। বর্ষা মৌসুমে দেশজুড়ে এডিস মশার প্রজনন এবং ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ আশঙ্কাজনক বেড়ে যায়।
২ দিন আগে