Ajker Patrika

১৯৯০ সালের ওষুধের দাম সরকার এখনো বাড়াতে দিচ্ছে না: ওষুধ শিল্প সমিতি

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আজ শনিবার গাজীপুরের কালীগঞ্জে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ফার্মা ইন্ডাস্ট্রি: প্রেজেন্ট চ্যালেঞ্জ অ্যান্ড ফিউচার প্রসপেক্টস’ শীর্ষক কর্মশালা হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা
আজ শনিবার গাজীপুরের কালীগঞ্জে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ফার্মা ইন্ডাস্ট্রি: প্রেজেন্ট চ্যালেঞ্জ অ্যান্ড ফিউচার প্রসপেক্টস’ শীর্ষক কর্মশালা হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প বর্তমানে গভীর সংকটের মুখে পড়েছে। গুটিকয়েক বড় প্রতিষ্ঠানের বাইরে দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ ওষুধ কোম্পানি রুগ্‌ণ অবস্থায় রয়েছে, আর এর মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে বা বন্ধ হওয়ার পথে। নীতি সহায়তা ও বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত না এলে দেশের ওষুধে স্বয়ংসম্পূর্ণতা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে বলে সতর্ক করেছেন বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির নেতারা।

আজ শনিবার গাজীপুরের কালীগঞ্জে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ফার্মা ইন্ডাস্ট্রি: প্রেজেন্ট চ্যালেঞ্জ অ্যান্ড ফিউচার প্রসপেক্টস’ শীর্ষক কর্মশালায় এসব কথা বলেন সমিতির সভাপতি আব্দুল মুক্তাদির ও মহাসচিব ডা. মো. জাকির হোসেন। ওই কর্মশালা বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম এবং ঔষুধ শিল্প সমিতির যৌথ উদ্যোগে আয়োজন করা হয়।

ঔষুধ শিল্প সমিতির সভাপতি আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দেশের ওষুধ শিল্পের প্রকৃত শক্তি কখনোই কেবল বড় কয়েকটি কোম্পানি ছিল না; বরং ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোই এই শিল্পের ভিত্তি। অথচ বর্তমানে সেই ভিত্তিই ভেঙে পড়ছে। তাঁর ভাষায়, তালিকাভুক্ত ওষুধ কোম্পানির মধ্যে মাত্র ১৫ থেকে ২০টি তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থায় রয়েছে, বাকিগুলো নেতিবাচক প্রবৃদ্ধিতে পড়েছে।

আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বিশেষ করে ৫০ থেকে ১০০ নম্বর অবস্থানে থাকা কোম্পানিগুলো গত ৩০–৪০ বছর ধরে একই দামে ওষুধ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। ১৯৯০ সালে যে দামে ওষুধ বিক্রি হতো, ২০২৫-২৬ সালেও সরকার সেই দাম বাড়াতে দিচ্ছে না। অথচ কাঁচামাল, শ্রম ও উৎপাদন ব্যয় কয়েক গুণ বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে টিকে থাকা অসম্ভব।’

১৯৯৪ সালের ওষুধ নীতিকে বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পের স্বর্ণযুগের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে মুক্তাদির বলেন, ‘ওই নীতির ফলে দেশ ওষুধে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছিল। তবে ২০১৬ সালের পর থেকে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ, বৈষম্যমূলক নীতি ও বাস্তবতা বিবর্জিত সিদ্ধান্ত শিল্পকে দুর্বল করে দিয়েছে।’ অতিরিক্ত রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের ঝুঁকি বোঝাতে তিনি ভেনেজুয়েলার উদাহরণ টেনে সতর্ক করেন।

এদিকে কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে মহাসচিব ডা. মো. জাকির হোসেন অভিযোগ করেন, ওষুধ কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই সরকার অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা বাড়িয়েছে এবং দাম নির্ধারণ করেছে। তার মতে, এ ধরনের একতরফা সিদ্ধান্ত উৎপাদন ব্যয়, কাঁচামালের আন্তর্জাতিক মূল্য ও বাজার বাস্তবতা উপেক্ষা করছে।

ডা. জাকির হোসেন আরও অভিযোগ করেন, ‘আমরা দাম নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে নই। কিন্তু বাস্তবতা বিবেচনা না করে দাম নির্ধারণ করলে তা টেকসই হয় না। গত আট থেকে নয় মাস ধরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের সঙ্গে বাপির কোনো কার্যকর যোগাযোগ নেই। এমনকি গুরুত্বপূর্ণ প্রাইসিং কমিটি থেকেও শিল্প সংগঠনকে বাদ দেওয়া হয়েছে।’

ডা. জাকির হোসেন বলেন, দেশের ওষুধ শিল্প বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত হয়। কাঁচামাল আমদানি থেকে উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে মোট ১৪টি সরকারি সংস্থায় রিপোর্ট দিতে হয়, পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে সার্বক্ষণিক নজরদারি রয়েছে। তার ভাষায়, এত কঠোর নিয়ন্ত্রণের পরও শিল্পের বাস্তব অভিজ্ঞতাকে নীতিনির্ধারণে উপেক্ষা করা হচ্ছে।

সমিতির নেতারা সতর্ক করে বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি কোম্পানিগুলো ধ্বংস হয়ে গেলে বড় কোম্পানিগুলো রপ্তানিমুখী হয়ে পড়বে, ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে ওষুধের প্রাপ্যতা, দাম ও মান—সবকিছুই অনিশ্চিত হয়ে উঠবে। তারা সরকারের প্রতি জরুরি নীতি সহায়তা ও অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ হালিমুজ্জামান, বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি প্রতীক ইজাজ এবং সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদ শুভ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

গ্রামীণফোনে চাকরির সুযোগ, আবেদন শেষ ২৮ জানুয়ারি

‘আপু’ বলায় খেপলেন ইউএনও

বাকৃবিতে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে এসে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা

ডালে ৩০ শতাংশ শুল্ক দিয়ে প্রতিশোধ নিয়েছেন মোদি, টেরই পাননি ট্রাম্প

কুমিল্লা-৪: বিএনপির প্রার্থী মনজুরুল অবৈধ, হাসনাত বৈধ— আপিলে ইসির সিদ্ধান্ত

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত