
নাক, কান ও গলা—অন্যান্য অঙ্গের মতো এই তিন অঙ্গ আমাদের দৈনন্দিন ব্যবহারিক জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। শ্বাস নেওয়া, কথা বলা, শোনা কিংবা খাবার গ্রহণ—এসব অঙ্গের ওপর নির্ভরশীল। সামান্য অসচেতনতা কিংবা ভুল অভ্যাসের কারণে এগুলোতে জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি রোগ দেখা দিতে পারে। তবে কিছু সহজ ও সচেতন অভ্যাস গড়ে তুললে নাক-কান-গলার বহু সমস্যাই প্রতিরোধ করা সম্ভব। যেসব অভ্যাস গড়ে তুলবেন:
কান পরিষ্কারে সতর্কতা
কটন বাড বা অন্য কোনো বস্তু দিয়ে কান খোঁচানো নিরাপদ নয়। এতে কানের ভেতরে সংক্রমণ হতে পারে, এমনকি কানের পর্দা ছিঁড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে। আসলে কানের ময়লা বা ওয়াক্স একটি প্রাকৃতিক ও উপকারী উপাদান। এটি কানের ভেতরের অংশকে জীবাণু ও ধুলাবালু থেকে রক্ষা করে এবং স্বাভাবিক নিয়মে ধীরে ধীরে বাইরে চলে আসে। গোসল শেষে একটি পরিষ্কার তোয়ালে বা নরম কাপড় দিয়ে কানের বাইরের অংশ মুছে নেওয়াই যথেষ্ট। কানের ভেতরে কিছু ঢুকিয়ে পরিষ্কার করার প্রয়োজন নেই।
চিৎকার বা অতিরিক্ত জোরে কথা বলা এড়িয়ে চলা
দীর্ঘদিন জোরে কথা বলা বা চিৎকার করার ফলে কণ্ঠনালির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। ফলে ভোকাল কর্ডে নোডিউল বা পলিপ সৃষ্টি হতে পারে, কণ্ঠস্বর ভেঙে যেতে পারে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনও দেখা দেয়। পেশাগত কারণে যাদের বেশি কথা বলতে হয়, এ বিষয়ে তাদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকা জরুরি।
সুপারি, জর্দা ও গুল পরিহার করা
সুপারি ও তামাকজাত দ্রব্য মুখগহ্বরের ক্যানসারের একটি প্রমাণিত কারণ। এগুলো নিয়মিত সেবনে মুখ, জিবা ও গলার মারাত্মক রোগ হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। এসব ক্ষতিকর অভ্যাস বাদ দেওয়া সুস্থ থাকার প্রথম শর্ত।
উচ্চ আওয়াজে হেডফোন
ব্যবহার না করা
অনেকেই দীর্ঘ সময় উচ্চ শব্দে হেডফোন ব্যবহার করে, যা ধীরে ধীরে শ্রবণশক্তি কমিয়ে দেয় এবং অকাল বধিরতার ঝুঁকি সৃষ্টি করে। একই ঝুঁকি থাকে উচ্চ শব্দের পরিবেশে কাজ করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও। হেডফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে মনে রাখুন ৬০-৬০ রুল। এর মানে, ভলিউম ৬০ ডেসিবেলের কম এবং একটানা ৬০ মিনিটের বেশি ব্যবহার না করা। এ সহজ নিয়ম মেনে চললে কানের ক্ষতি থেকে অনেকটাই সুরক্ষিত থাকা সম্ভব।
ধূমপান বাদ দেওয়া
ধূমপান নাক-কান-গলাসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে ক্যানসারের অন্যতম প্রধান কারণ। এটি দীর্ঘ মেয়াদে কণ্ঠস্বর, শ্বাসনালি ও ফুসফুসের মারাত্মক ক্ষতি করে। সুস্থ জীবনের জন্য ধূমপান সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া জরুরি।

নাকের হাড় বাঁকা হলেই অপারেশন নয়
অধিকাংশ মানুষের নাকের মাঝখানের হাড় কিছুটা বাঁকা থাকে বা নাকের ভেতরের মাংস (টার্বিনেট) সামান্য বড় হয়, যা অনেক সময় স্বাভাবিক। এতে শ্বাস নিতে কষ্ট, ঘন ঘন সাইনাস সংক্রমণ, দীর্ঘদিন নাক বন্ধ থাকা বা নাক দিয়ে রক্ত পড়ার মতো উপসর্গ না থাকলে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়ে না। অন্যদিকে নাক বন্ধের সমস্যা হলেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বাজারে প্রচলিত নাকের ড্রপ ব্যবহার করাও বিপজ্জনক। এসব ড্রপ অতিরিক্ত ব্যবহারে নাকের ভেতরের ঝিল্লি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সমস্যা আরও জটিল হতে পারে।
টনসিল ব্যথা হলেই অপারেশন নয়
টনসিলের সংক্রমণ বছরে নির্দিষ্ট সংখ্যকবার না হলে এবং অপারেশনের মানদণ্ড পূরণ না হলে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয় না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে উপযুক্ত ওষুধ দিয়ে নিয়মিত চিকিৎসায় টনসিলের সমস্যা সেরে যায়। ঠান্ডা পানীয় ও ঠান্ডা পরিবেশ এড়িয়ে চলা এবং প্রয়োজনে কুসুম গরম পানিতে গড়গড়া করলেই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অপারেশন থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
কোয়াক বা কবিরাজি চিকিৎসা থেকে সাবধান
নাকের সমস্যায় অবৈজ্ঞানিক বা কোয়াক চিকিৎসার কারণে অনেক সময় নাকের ভেতরে স্থায়ী ক্ষতি হয়ে যায়। নাকের ছিদ্র বন্ধ হয়ে যাওয়া, দুই পাশ একসঙ্গে লেগে যাওয়া (সাইনেকিয়া) কিংবা নাকের মাঝের পর্দায় ছিদ্র তৈরি হওয়ার মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে, যা পরবর্তী সময়ে কখনো কখনো অনিরাময়যোগ্য হয়ে ওঠে।
অ্যালার্জিক রাইনাইটিস থাকলে নিয়মিত চিকিৎসা নেওয়া
বারবার হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া বা নাক চুলকানোকে অবহেলা করবেন না। নাকের অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়ম মেনে চলা জরুরি। এর সাধারণ কারণগুলোর মধ্যে আছে, ধুলাবালু, ঠান্ডা, নির্দিষ্ট কিছু খাদ্য এবং কয়েলের গন্ধ, সুগন্ধি বা বডি স্প্রের মতো নির্দিষ্ট ঘ্রাণ। ব্যক্তিভেদে অ্যালার্জির কারণ ভিন্ন হতে পারে।
ঘাড়ে ফোলা বা চাকা হলে দ্রুত চিকিৎসা করানো
গলা বা ঘাড়ের যেকোনো ফোলা বা চাকা ব্যথাহীন হলেও অবহেলা করা উচিত নয়। এটি লিম্ফ গ্রন্থির সংক্রমণ, গ্লান্ড টিবি, টিউমার কিংবা গলগণ্ডসহ বিভিন্ন রোগের লক্ষণ হতে পারে। এ ক্ষেত্রে দেরি না করে নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
নাক-কান-গলার কোনো সমস্যা হলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ। পর্যাপ্ত পানি পান, সুষম খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত এবং ঠান্ডা এড়িয়ে করে চলা নাক-কান-গলার স্বাস্থ্যরক্ষা করতে সহায়ক।
চিকিৎসকের পরমর্শ: ডা. মো. আব্দুল হাফিজ শাফী, সহকারী অধ্যাপক, নাক-কান-গলা বিভাগ, সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৭ শতাংশ কিডনি রোগে আক্রান্ত। এ সংখ্যা ২ কোটির বেশি হতে পারে। প্রতিবছর এই সংখ্যা বাড়ছে। পবিত্র রমজান মাসে কিডনি রোগীরা রোজা রাখার সময় সমস্যা অনুভব করলে অবশ্যই তাঁদের চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
৯ ঘণ্টা আগে
দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর ইফতার ও সেহরির মাধ্যমে আমরা শরীরে শক্তি ফিরে পাই। কিন্তু অসচেতনতা এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে এ মাসেই সাধারণ মানুষের মধ্যে পেটের পীড়া কিংবা ফুড পয়জনিংয়ের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। অনেকে আছেন, যাঁরা শুধু ইফতারে ভাজাপোড়া কিংবা বাইরের খোলা খাবার খেয়ে তীব্র পেটব্যথা...
১০ ঘণ্টা আগে
সরকারি হাসপাতালে হাজিরায় উপস্থিতি দেখিয়ে বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে রোগী দেখার অভিযোগে এক চিকিৎসকের নিবন্ধন স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। শরীয়তপুরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের জুনিয়র কনসালট্যান্ট (শিশু) রাজেশ মজুমদারের ছয় মাসের জন্য নিবন্ধন স্থগিতের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল...
২ দিন আগে
ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বা ইনসুলিন প্রতিরোধের ঝুঁকি কমাতে ঠিক কতক্ষণ ঘুমানো উচিত, তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন গবেষকেরা। শরীরে ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে গেলে বা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স থেকে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি তৈরি হয়।
৩ দিন আগে