
কয়েক দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের গণমাধ্যমে নেতানিয়াহু নিহত বা গুরুতর আহত হয়েছেন দাবিতে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে চরম ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ৯ মার্চ ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি এক প্রতিবেদনে এ দাবি করে।
এরপরই নেতানিয়াহুকে জীবিত প্রমাণের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে ইসরায়েল। নেতানিয়াহু এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক তাঁর ভিডিও এবং ছবি প্রকাশ করা হচ্ছে। এতে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
গত শুক্রবার (১৩ মার্চ) নেতানিয়াহুর ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও শেয়ার করা হয়। ভিডিওতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধ নিয়ে তাঁকে বক্তব্য দিতে দেখা যায়। ভিডিওটি প্রকাশের পরপরই কিছু নেটিজেন দাবি করেন, ভিডিওটিতে তাঁর হাতে ছয়টি আঙুল দেখা যাচ্ছে, ফলে এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি।
নেতানিয়াহুর ছেলে ইয়ার নেতানিয়াহু–এর এক্স অ্যাকাউন্টের কার্যক্রম নিয়েও নেটিজেনদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। সাধারণত তিনি নিজের অ্যাকাউন্টে নিয়মিত রাজনৈতিক ও বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে পোস্ট করেন। অনেক সময় বিতর্কিত মন্তব্যের কারণেও আলোচনায় থাকেন। তবে গত কয়েক দিন তাঁর এক্স অ্যাকাউন্টে নতুন কোনো পোস্ট দেখা যায়নি। এ কারণে অনেক ব্যবহারকারী দাবি করেন, ‘পারিবারিক ট্র্যাজেডি’র কারণে তিনি পোস্ট করছেন না। নাহলে তেল আবিব থেকে এআই দিয়ে নেতানিয়াহুর ভিডিও তৈরি করে প্রকাশ করত না বলেও অনেকে মন্তব্য করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা দূর করতে ১৫ মার্চ (রোববার) বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা ৩৪ মিনিটে নেতানিয়াহুর ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্টে এক মিনিটের একটি ভিডিও শেয়ার করা হয়। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, জেরুজালেমের একটি ক্যাফেতে নেতানিয়াহু এক কাপ গরম কফি হাতে নিচ্ছেন। হিব্রু ভাষার একটি প্রবচনের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আই অ্যাম ডেড ফর কফি।’

তবে ওই ভিডিও প্রকাশের পরও নেতানিয়াহুর মৃত্যুর খবর নিয়ে ধোঁয়াশা পুরোপুরি কাটেনি; বরং নতুন করে গুঞ্জন শুরু হয়। নতুন ভিডিওটিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
Kavish aziz (আর্কাইভ) নামের একটি ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে নেতানিয়াহুর ভিডিওটি শেয়ার করা হয়। ১৫ মার্চ রাত ১১টা ২৭ মিনিটে শেয়ার করা ওই পোস্টের ক্যাপশনে ইংরেজিতে লেখা হয়, ওই ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি—এটি প্রমাণের অপেক্ষা রাখে না। কফির দিকে তাকালেই বোঝা যাবে; কয়েকবার চুমুক দেওয়ার পরও কফির স্তর কমেনি এবং কাপের মাঝখানের নকশাটিও অপরিবর্তিত রয়েছে।
একই দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও কয়েকটি (১ , ২ ,৩ ) অ্যাকাউন্ট থেকেও ভিডিওটি শেয়ার করা হয়েছে।
ভিডিওটি পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, নেতানিয়াহু কথা বলতে বলতে কফির কাপ হাতে নিচ্ছেন। কাপটি কফিতে পূর্ণ দেখা যায়। ভিডিওতে হাতের নড়াচড়ার ফলে কফি দুলতে দেখা গেলেও তা কাপ উপচে পড়েনি। ভিডিওতে তাঁকে দুবার কাপে চুমুক দিতে দেখা গেলেও কফির পরিমাণ প্রায় একই রকম দেখা যায় এবং চুমুক দেওয়ার পর তাঁর ঠোঁটে কফির কোনো চিহ্নও স্পষ্ট নয়। এ ছাড়া কাপ ধরা, আঙুলের অবস্থান—এসব বিষয় ঘিরেই নেটিজেনদের মধ্যে সন্দেহ দানা বেঁধেছে। অনেকে Kavish aziz-এর ওই পোস্টের কমেন্টে একটি ছবি শেয়ার করে দাবি করেছেন, এটি ২০২৪ সালের ভিডিও।
এ ছাড়া নেতানিয়াহুর শেয়ার করা কফির ভিডিওর নিচে একজন ব্যবহারকারীর আবদারে সাড়া দিয়েছে এক্স-এর এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট ‘গ্রোক’ (Grok)। মিনা জান নামের এক ব্যবহারকারীর প্রশ্নের উত্তরে গ্রোক লিখেছে—না, এটি আসল নয়। এটি একটি এআই-জেনারেটেড ডিপফেক ভিডিও। নেতানিয়াহুর অফিশিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকে এটি ব্যঙ্গাত্মক হিসেবে পোস্ট করা হয়েছে (ক্যাপশন: ‘তারা বলছে আমি কী?’ ), সম্ভবত ইরান সংঘাতের মধ্যে তাঁকে নিয়ে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া মৃত্যুর গুজবকে প্রতিহত করার জন্য। কফির স্তর স্থির থাকা, অস্বাভাবিক লিপ-সিঙ্ক এবং সামরিক অপারেশন নিয়ে হালকা কথাবার্তার মতো লক্ষণগুলো নিশ্চিত করে যে এটি নকল।

বিষয়টি নিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ১৬ মার্চ দুপুরে ‘The Israeli prime minister has taken to social media to deny rumours that he has been killed’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিজের মৃত্যুর গুজব অস্বীকার করতে নেতানিয়াহু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়েছেন।
আরও অনুসন্ধানে বার্তা সংস্থা রয়টার্স–এর ‘Netanyahu posts video in response to Iran rumours that he is dead’ শিরোনামের একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। রয়টার্সের দাবি, ক্যাফের ভেতরের দৃশ্য আগের ছবির সঙ্গে মিলিয়ে দেখেছে এবং নিশ্চিত হয়েছে যে নেতানিয়াহু রোববার (১৫ মার্চ) ওই ক্যাফেতে গিয়েছিলেন। রয়টির্সের বরাত দিয়ে একই তথ্য আল জাজিরার প্রতিবেদনেও উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপরও থেমে নেই নেতানিয়াহুকে নিয়ে জল্পনা। এর মধ্যে নেতানিয়াহুর এক্স অ্যাকাউন্টে গতকাল (১৬ মার্চ) বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টা ৯ মিনিটে জেরুজালেমের রাস্তায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলার একটি ভিডিও শেয়ার করা হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, নেতানিয়াহু পথচারীদের সঙ্গে কথা বলার সময় একটি কুকুর দেখে সেটির জাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছেন। কুকুরের মালিক একজন নারী। তিনি উত্তর দেন, এটি ‘ক্যানোনাইট-ইসরায়েলি’ জাতের। উল্লেখ্য, এই জাত ইসরায়েলের জাতীয় কুকুরের জাত হিসেবে পরিচিত।
নেতানিয়াহু হাসিমুখে বলেন, ‘ক্যানোনাইট-ইসরায়েলি, দারুণ জাত। ওর জন্য হলেও বাইরে বেরোনো ভালো।’ তিনি নাগরিকদের সতর্ক করে বলেন, ‘নিশ্চয় আপনারা বাইরে বেরোবেন। তবে মনে রাখবেন, কাছাকাছি কোনো সুরক্ষিত আশ্রয় যেন থাকে।’ এ সময় নেতানিয়াহুকে হাসিখুশি ও পথচারীদের সঙ্গে ছবি তুলতেও দেখা যায়।

গতকালের ভিডিও নিয়েও শুরু হয়েছে জল্পনা। এবার নতুন ওই ভিডিও নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মার্কিন রাজনীতি বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার Jackson Hinkle। তিনি ভিডিওর একটা ক্লিপ নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে শেয়ার করে লিখেছেন, ‘নেতানিয়াহুর আরেকটি এআই ভুয়া ভিডিও! দেখুন, কীভাবে তার আংটি অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে...।’ ভিডিওটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে এই অসংগতিটি খালি চোখেই ধরা পড়ে।

তবে বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বা ইসরায়েল সরকারের কোনো সূত্র থেকেই নেতানিয়াহুর মৃত্যুর বিষয়ে আলোচিত দাবির পক্ষে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সর্বশেষ আজ মঙ্গলবার বিকেলের দিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দুটি ছবি পোস্ট করা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, ইরান সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযানের বিষয়ে কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। সৌদিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়ার ইংরেজি সংস্করণের এক্স হ্যান্ডলে শেয়ার করা দুটি ছবির নিচে অনেকেই কমেন্ট করে জানিয়েছেন, এটি ২০২৩ সালের অক্টোবরের ছবি। এ দাবির সপক্ষে স্ক্রিনশটও শেয়ার করা হয়েছে।
যা-ই হোক, গুজব ও এআই বিতর্কের মাঝে নেতানিয়াহুর অ্যাকাউন্ট থেকে বারবার ভিডিও শেয়ার ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ছবি প্রকাশ করে বেঁচে থাকার প্রমাণ দেওয়ার চেষ্টা বরং সন্দেহ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

‘গণভোট নিয়ে মাতামাতি করলে আমরা পুলিশ হত্যার বিচার করব’—প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন এমন মন্তব্য করেছেন দাবিতে একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার করা পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন এই মন্তব্য করেছেন।
১২ ঘণ্টা আগে
ইরানি মায়েরা তাদের সৈনিক সন্তানদের বিদায় দিচ্ছেন নবীর সুন্নাহ অনুসারে খেজুর খাইয়ে ও দোয়া করে!— দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ইরান-ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এমন দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি সহজেই নেটিজেনদের নজরে এসেছে।
১ দিন আগে
‘কার বিপদ কখন আসে কেউ বলতে পারে না। ঈদের সময়ে যাত্রীদের আর বাড়ি ফেরা হলো না। ট্রেনটি রাস্তায় উল্টে গেল। আল্লাহ সবাইকে রক্ষা করো আমিন’—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে।
১ দিন আগে
ভারতের এক জেনারেল বলেছেন, ইরান যদি পরাজিত হয়, তাহলে সেটিই হবে ভারতের সাফল্য—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। এ ছাড়া আলোচিত দাবিতে একটি ছবিও প্রচার করা হচ্ছে।
২ দিন আগে