Ajker Patrika

ছাত্রলীগকে কি সামলানো যাবে না

সম্পাদকীয়
ছাত্রলীগকে কি সামলানো যাবে না

একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলে তা সহজভাবে মেনে নেওয়া যায় না। কিন্তু আমরা দেখছি, ছাত্রলীগ নামের সংগঠনের পরিচয় দিয়ে বারবার একই ধরনের অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। ছাত্রলীগকে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না, নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা আছে, তা-ও মনে হয় না। একসময় যে ছাত্রলীগকে আওয়ামী লীগের ‘সম্পদ’ বিবেচনা করা হতো, দেখা যাচ্ছে, এখন সেই ছাত্রলীগ যে আওয়ামী লীগের ‘বোঝা’ হয়ে উঠেছে। ছাত্রলীগের ‘অভিভাবক’রা কি এটা বুঝতে পারছেন না?

শনিবার আজকের পত্রিকায় ‘আবার যেন আবরার-কাণ্ড’ শিরোনামে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যাচ্ছে, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে শিবির সন্দেহে চারজন ছাত্রকে বেধড়ক পেটানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুজন গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন আছেন। নির্যাতনের অভিযোগ আবারও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে।

পাঠকদের নিশ্চয়ই মনে আছে, ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবরের কথা। বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদকে শিবির সন্দেহে তাঁর হলকক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে সারা রাত নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছিল। করেছিলেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। মানুষের মধ্যে ওই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছিল। আশা করা হয়েছিল, ওই ঘটনার পর ছাত্রলীগকে সামলানো হবে। কারও বিচারের ভার নিজেরা নেবে না। কিন্তু ছাত্রলীগ সম্ভবত পণ করেছে, খারাপ কাজ থেকে তারা বিরত হবে না!

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের চার ছাত্রকে নির্যাতন করা হয় বুধবার রাতভর। বৃহস্পতিবার সকাল হওয়ার পর ঘটনা কিছুটা জানাজানি হলে দুজনকে জোর করে গাড়িতে তুলে দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বাকি দুজনের অবস্থা গুরুতর হলেও কোনো চিকিৎসা না দিয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত রুমেই আটকে রাখা হয়।

বাইরে বসানো হয় পাহারা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় খবর পেয়ে ওই দুজনকে আটক অবস্থা থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ। দুই হাসপাতাল ঘুরে তাঁরা এখন চিকিৎসাধীন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে।

নির্যাতনকারী হিসেবে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা অভিজিৎ দাশ বলেছেন, ‘ওই চার ছাত্র শিবির-নিয়ন্ত্রিত কোচিং সেন্টার রেটিনার শিক্ষক। সরকারবিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করে আসছিলেন বলে তাঁদের ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাঁদের কোনো মারধর করা হয়নি।’ 
অন্যদিকে চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর মনে করেন, ‘এই মারামারিটা আসলে কলেজে কমিটি না থাকার ফল। নিয়মিত কমিটি থাকলে এ ধরনের কাজে বহিষ্কারের ভয় থাকে। এখন সেটা নেই। বহিরাগতদের সঙ্গে মিশে একটি গোষ্ঠী এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে।’

মারধরের কথা একজন অস্বীকার করলেও অন্যজনের কথায় এটা পরিষ্কার যে ঘটনাটি ঘটেছে। প্রশ্ন হলো, শিবির কি নিষিদ্ধ সংগঠন? শিবির যদি কেউ করে তাহলে তাদের ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার দায়িত্ব ছাত্রলীগকে কে দিয়েছে? কেউ যদি সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডেও জড়িত হয়, তাহলে তার বা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আইনি কর্তৃপক্ষ কি ছাত্রলীগ? ছাত্রলীগের কমিটি না থাকার দায়ই-বা কার? ছাত্রলীগকে আইন হাতে তুলে নেওয়ার ক্ষমতা কি কেউ দিয়েছে?

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

লতিফ সিদ্দিকী, ঢাবি অধ্যাপক কার্জনসহ ডিবি হেফাজতে ১৫ জন সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে লতিফ সিদ্দিকী অবরুদ্ধ, নেওয়া হলো পুলিশি হেফাজতে

আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী, ঢাবি শিক্ষক কার্জনসহ ১১ জন ডিবি হেফাজতে

পুলিশের ওপর ৪ দফা হামলা, গাজীপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসীকে ছিনিয়ে নিল দুর্বৃত্তরা

বড় ভাইসহ ডিবি হেফাজতে থাকা সবার সসম্মানে মুক্তি চাই: কাদের সিদ্দিকী

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত