
বিশ্বজুড়ে, বিশেষ করে এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার ক্রান্তীয় অঞ্চলে, বর্তমানে জলবায়ু-সংক্রান্ত সবচেয়ে আলোচিত শব্দবন্ধ হলো ‘এল নিনো’। বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, এ বছর বর্ষা মৌসুমে দক্ষিণ এশিয়ায় স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের জুন মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসেও একই ধরনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সংস্থাটি বলছে, চলতি মাসে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাসে সারা দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় ৭ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে বিভাগভিত্তিক চিত্রে ভিন্নতা দেখা গেছে। চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল বিভাগে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। অন্যদিকে দেশের বাকি বিভাগগুলোতে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
জুন মাসের পূর্বাভাস প্রণয়নের ক্ষেত্রে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা অনুমোদিত বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া মডেল পূর্বাভাস, আবহাওয়া উপাত্ত, উর্ধ্বাকাশের আবহাওয়া বিন্যাস, বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তরের বিশ্লেষিত আবহাওয়া মানচিত্র, জলবায়ু মডেল এবং এল নিনো ও লা নিনার অবস্থাসহ বিভিন্ন উপাদান বিশ্লেষণ করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, জুন মাসে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এবার এল নিনোর প্রভাবে বর্ষাকালে (জুন-সেপ্টেম্বর) স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টি হতে পারে। আবার, একইসঙ্গে এই সময়ে স্বাভাবিকের চেয়ে গরম বেশি পড়তে পারে। এ কারণে, এবার পুরো বর্ষা মৌসুমেও ৮ থেকে ১০টি তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।’
জুন মাসে বঙ্গোপসাগরে ১ থেকে ২টি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে একটি মৌসুমি নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে জুনের প্রথমার্ধে সারা দেশে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর বিস্তার ঘটতে পারে, যার মাধ্যমে বর্ষাকাল পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়বে।
এ মাসে দেশে ৫ থেকে ৭ দিন হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বজ্রঝড় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টিপাতের কারণে তাপপ্রবাহের বিস্তৃতি কিছুটা কমে এলেও গরমের অনুভূতি পুরোপুরি কমবে না বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এ প্রসঙ্গে ড. আবুল কালাম মল্লিক বলেন, ‘বিচ্ছিন্ন বৃষ্টির কারণে তাপপ্রবাহের পরিধি এতে কমবে। তবে গরমের অনুভূতি থাকবে। কারণ বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশ বেশি রয়েছে। এর ফলে শরীরে বেশি ঘাম ঝরে। এতে গরম অনুভব বেশি হয়ে অস্বস্তি লাগে।’
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, জুন মাসে দেশের দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকতে পারে। এ সময়ে দেশে ২ থেকে ৩টি বিচ্ছিন্ন মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। মৃদু তাপপ্রবাহে তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে। আর মাঝারি তাপপ্রবাহে তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
তবে স্বল্পমেয়াদে কিছুটা স্বস্তির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজ থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টিপাত হতে পারে।
এ বিষয়ে ড. আবুল কালাম মল্লিক আরও বলেন, ‘আজ থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি হতে পারে। ফলে ঢাকাসহ সব এলাকাতে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। তবে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমার সম্ভাবনা রয়েছে।’

রাজধানী ঢাকাসহ আজ রোববার সারা দেশে বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর ফলে রাজধানীতে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও দেশের অন্যান্য স্থানে তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে ভ্যাপসা গরম কমার সম্ভাবনা সামান্যই।
১৮ ঘণ্টা আগে
আজ সকাল থেকে ঢাকা ও এর আশপাশের অঞ্চলের আকাশ রয়েছে মেঘাচ্ছন্ন। আবহাওয়ার সকাল ৭টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বেলা ১টা পর্যন্ত ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। এর সঙ্গে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
২ দিন আগে
দিনভর রোদের ভ্যাপসা গরমের পর বিকেলে আচমকা ঝুম বৃষ্টি কিছুক্ষণের মধ্যেই অনেকটা অস্বস্তিতে রূপ নেয়। প্রায় ঘণ্টাখানেকের টানা বর্ষণে দুর্ভোগ দেখা দেয় খোলা আকাশের নিচে কর্মব্যস্ততায় ছুটে চলা মানুষের। আর সেই বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন নগরবাসী...
২ দিন আগে
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার বরিশাল ছাড়া বাকি ৭ বিভাগেই বৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ৭২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে খুলনায়। এদিন ঢাকায় ৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হলেও পাশের জেলায় টাঙ্গাইলে যার পরিমাণ ছিল ৩৭ মিলিমিটার। এ ছাড়া কুড়িগ্রামের রাজারহাটে বৃষ্টি হয়েছে ৪৮ মিলিমিটার।
৩ দিন আগে