
বৈশ্বিক তেলের বাজারে সরবরাহ ঘাটতি কমাতে ইরানের ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই সুযোগে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগারগুলো ইরানের কাছ থেকে বড় অঙ্কের অপরিশোধিত তেল আমদানির বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে। মার্কিন গণমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আগামী ৩০ দিনের জন্য এই বিশেষ ‘ওয়েভার’ বা ছাড় দেওয়া হয়েছে। ওয়াশিংটনের লক্ষ্য হলো, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে যে তেলের সংকট তৈরি হয়েছে তা নিরসন করা। মার্কিন প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, এই নিষেধাজ্ঞার স্থগিতাদেশের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রায় ১৪ কোটি ব্যারেল অতিরিক্ত অপরিশোধিত তেল যুক্ত হতে পারে। এর আগে রাশিয়ার তেলের ওপর থেকেও একইভাবে কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, চীনের বড় রাষ্ট্রায়ত্ত শোধনাগারগুলোর প্রতিনিধিরা ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানির (এনআইওসি) সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। মধ্যস্থতাকারী ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে এই আলোচনার প্রক্রিয়া চলছে। এশিয়ান রিফাইনারিগুলোর মধ্যে চীনই প্রথম এই সুযোগ কাজে লাগাতে তৎপর হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধ শুরুর আগেও ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা ছিল চীন। ইরান থেকে রপ্তানি হওয়া মোট তেলের প্রায় ৮০ শতাংশই চীন আমদানি করত। শিপিং ডেটা ট্র্যাকিং সংস্থা কেপলার-এর তথ্যমতে: গত বছর চীন প্রতিদিন গড়ে ১৩ দশমিক ৮ লাখ ব্যারেল ইরানি তেল কিনেছে। এ ছাড়া চীনের মোট সমুদ্রপথে আমদানিকৃত তেলের প্রায় ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ আসে ইরান থেকে।
বাজার বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, চীনের মতো বিশাল আমদানিকারক দেশ যদি সরাসরি ইরানি তেল কেনা বাড়ায়, তবে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসতে পারে। এটি বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখবে। তবে এই ছাড় মাত্র ৩০ দিনের জন্য হওয়ায়, দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ নিশ্চিত করতে চীন কতটুকু সফল হয় তা এখন দেখার বিষয়।

ইরানে যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ১৯৭০-এর দশকের দুই দফা তেল সংকট এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের সম্মিলিত প্রভাবের সমতুল্য। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা বেশিও। এমন সতর্কবার্তাই দিয়েছেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরোল।
৯ ঘণ্টা আগে
ইরান যুদ্ধের প্রভাব যেন পড়েছে বৈশ্বিক সোনার বাজারেও। বৈশ্বিক সোনার বাজারে দর আজ সোমবার ৫ শতাংশের বেশি কমে ২০২৬ সালের সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে নেমে এসেছে। প্রায় ৪৩ বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ সাপ্তাহিক পতনের পর এই ধস দেখা দিল। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত তীব্র হওয়ায় মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে এবং বিশ্বজুড়ে...
১০ ঘণ্টা আগে
ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও চট্টগ্রাম বন্দরে জ্বালানি তেল ও গ্যাস খালাস কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা এবং সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের মাঝেও বন্দরের কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রয়েছে বলে জানিয়েছে বন্দর...
১০ ঘণ্টা আগে
ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি সরবরাহে এক নজিরবিহীন সংকট তৈরি হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে, যা একসময় বিশ্ব অর্থনীতির প্রতিটি কোনায় আঘাত হানবে। তবে ইতিমধ্যেই স্পষ্ট—কিছু দেশ এই সংকটের ধাক্কার সামনে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বা তা মোকাবিলার সক্ষমতা তুলনামূলক কম। নজরে রাখার মতো কয়েকটি অর্থনীতি নিচে তুলে ধরা হলো।
১ দিন আগে